ঢাকা, বুধবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৭ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘নারীরা সবক্ষেত্রে দক্ষতা দেখাতে সক্ষম’

আসাদ আল মাহমুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-০৮ ৯:০৩:২৭ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-০৮ ১২:১১:৪৮ পিএম
ছবি: মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ

নারীদের কাজ করার সুযোগ দিলে, স্বাধীনতা দিলে তারা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন বলে মন্তব‌্য করেছেন তথ্যসচিব কামরুন নাহার। তিনি বলেন, ‘নারীরা এখন সবক্ষেত্রে দক্ষতা দেখাতে সক্ষম।’

৮ মার্চ (রোববার) আন্তর্জাতিক নারী দিবস সামনে রেখে সচিবালয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজপোর্টাল রাইজিংবিডি ডটকমকে তিনি একথা বলেন। এসময় তিনি নারী দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে অভিনন্দন জানান।

দিবসটি উপলক্ষে সব নারীদের উদ্দেশে তথ্যসচিব বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন বিশ্বনেত্রী। তিনি একজন জয়িতা। বাংলার ঘরে ঘরে এরকম জয়িতা তৈরি হোক। তার মতো কর্মস্পৃহা যে নারীর মধ্যে থাকবে, তিনিও এগিয়ে যাবেন।

তিনি বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, নারীরা তাদের জানা ও মেধাকে সঠিকভাবে কাজে লাগান না। অনেকের চিন্তাশক্তি একমুখী হয়ে যায়। নারীরা ভাবেন, কাজ করবো তো কাজই করবো, সংসার করছি তো সংসারই করবো। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের প্রতিও যে তার দায়-দায়িত্ব রয়েছে, সেটা নিয়ে কিন্তু তিনি চিন্তা করছেন না। যারা তা করেন, তারাই এগিয়ে যান।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তথ্যসচিব বলেন, বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপের ফলে রাজনীতি, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবক্ষেত্রে নারীরা যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছেন। আমরা জাতিসংঘের মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) অ্যাওয়ার্ড, সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড, প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন, এজেন্ট অব চেঞ্জ, শিক্ষায় লিঙ্গসমতা আনার স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কোর ‘শান্তি বৃক্ষ’সহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছি।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানে রাষ্ট্রীয় ও সমাজ জীবনের সব কর্মকাণ্ডে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে সরকারি ও বেসরকারি সব পেশায় নারীরা নিয়োগে সমান সুযোগ পাচ্ছেন বলে যোগ করেন দেশের ইতিহাসে প্রথম এই নারী তথ্যসচিব।

উল্লেখ্য, বেগম কামরুন নাহারের জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার মোল্লা গ্রামে।  চার বছর বয়সে বাবা মোহাম্মদ ইউনুসের কর্মস্থলের কারণে সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন। মা জামিলা খাতুন গৃহিনী।  পাঁচ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়।

১৯৭৭ সালে সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসিতে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯৭৯ সালে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগে ১৯৮২ সালে বিএসএস অনার্সে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ষষ্ঠ হন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকল্যাণে ১৯৮৩ সালে এমএসএসে প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় স্থান লাভ করেন তিনি।

১৯৮৪ সালে বিসিএস (তথ্য সাধারণ) এর চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন বেগম কামরুন নাহার। এরপর ১৯৮৬ সালের ২১ জানুয়ারি  জেলা তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গণযোগাযোগ অধিদপ্তরে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন।

কর্মজীবনে কিশোরগঞ্জের গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের জেলা তথ্য কর্মকর্তা, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের সম্পাদক,  তথ্য অধিদফতরের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা, প্রধান নিবন্ধ লেখক, উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ), ফিল্ম সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, তথ্য অধিদফতরের প্রথম নারী প্রধান তথ্য কর্মকর্তা এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্বপালন করেন।

বেগম কামরুন নাহার দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী তথ্যসচিব। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯সালে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে যোগদান করেন।  দুই  সন্তানের জননী কামরুন নাহারের স্বামী হলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

** নারী দিবস কীভাবে এলো?

** ‘ছেলেদের ২০টা পুশ-আপ দিতে বললে মেয়েদের ১০টা দিতে বলা হয়’

** গৃহিণী থেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী

** ‘যে হাতে রিকশার হ্যান্ডেল ধরেছি, সেই হাতে প্রাইভেট কার চালাব’

** ‘নারীর প্রতি সহিসংতা বন্ধে কাজ করছে সরকার’

** ‘নারীরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে’

** নারী পরিচালক হিসেবে আমি কোণঠাসা: নার্গিস আক্তার

** ‘প্রজন্ম হোক সমতার, সকল নারীর অধিকার’

 

ঢাকা/আসাদ/জনি