ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

নির্ঘুম রাতের পর আমিনুলের জ্যোৎস্নাবিলাস

ইয়াসিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৯-১৯ ৫:২৮:০২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৯-২০ ১২:০২:৫০ পিএম

মুঠোফোন আলোকিত করে এলো ফোনটা। ওপার থেকে জানাল, কনগ্রাচুলেসন! রাতের পর রাত যে ফোনের অপেক্ষায় ছিলেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব সেই ফোনটা আসল বাংলাদেশের ক্রিকেটের আরেকটি লজ্জার দিনে!

মিরপুরে সাকিবরা টি-টোয়েন্টি হারল আফগানিস্তানের বিপক্ষে। বাজেভাবে। ওই রাতেই দলে পাঁচ পরিবর্তন। নতুন মুখ লেগ স্পিনার আমিনুল। বয়সভিত্তিক দলে যার পরিচয় ব্যাটসম্যান, জাতীয় দলে তার অভিষেকও হয়ে গেল কিনা লেগ স্পিনার হিসেবে। এমন কিছুর জন্য তৈরি ছিলেন না ২০ ছুঁইছুঁই আমিনুল। স্মরণীয় অভিষেকের পরের সকালে জানালেন,‘সত্যি বলতে এতো বড় আশা করিনি। ‘এ’ দল থেকে নির্বাচকরা আমাকে নির্বাচন করেছেন। তারপর আল্লাহর রহমতে হয়ে গেছে।’

জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণ কারো ভুলবার নয়। আমিনুলও ভুলতে পারেন না সেই রাতের কথা,‘দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির পর সোহেল স্যার (স্পিন বোলিং কোচ) আমাকে ফোন দিয়েছিলেন, জিজ্ঞেস করেছিল তুই কি কিছু জানিস? আমি বলি, ‘‘না আমি জানি না।’’ উনি বলল, ‘‘আচ্ছা অপেক্ষা কর একটা ভালো খবর পাবি।’’ এরপর সাব্বির ভাই (ম্যানেজার) আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘‘কনগ্রাচুলেসন তোমাকে জাতীয় দলে ডাকা হয়েছে। ওই রাতে ঘুমাতে পারিনি (হাসি)। প্রথমবারের মতো তো…।’

কথা শেষ করতে পারেননি আমিনুল। চোখে মুখে ঘোর লাগা উচ্ছ্বাসে বোঝা যাচ্ছিল ওই রাতে কতো স্বপ্ন আঁকছিলেন। নির্ঘুম রাতটা ছিল রোমাঞ্চের। প্রথম বলটা কেমন হবে, প্রথম ব্যাটিং কিংবা প্রথম ফিল্ডিং।  শরীর জুড়ে রোমাঞ্চ, উত্তেজনা, স্বপ্নের জাল বোনা।  এসবের যোগফলে মাঠে তারুণ্যের আগ্রাসন। মাহমুদউল্লাহ ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, ওর আগ্রাসী মনোভাব ওকে সফলতা দেবে।’

অভিষেকে ১৮ রানে দুই উইকেট আর বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বলছে, সঠিক পথেই আমিনুল।  সেরাতে অবশ্য তার কাজ সহজ করে দিয়েছিলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও ম্যাচ জয়ের নায়ক মাহমুদউল্লাহ।  ‘আমি যখন বোলিংয়ে যাই তখন একটু নার্ভাস ছিলাম। সাকিব ভাই আমাকে বললেন, তুই স্বাভাবিক যেভাবে বল করিস সেভাবে করার চেষ্টা কর। রিয়াদ ভাই বলেছিলেন, লেগ স্পিনার হিসেবে শুধু জায়গায় বল করলেই হবে। তাহলে ভালো কিছু করা সম্ভব। সেগুলো করার চেষ্টা করেছি। ’ আমিনুল বলছিলেন,‘যখন অভিজ্ঞ এবং এমন বড় বড় খেলোয়াড়রা প্রেরণা দেন, বলেন যে কিছু হবে না, ভয় পেও না…তখন এমনিতেই আত্মবিশ্বাস চলে আসে। আমি শুধু ওটাকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছি।’

ঢাকার নির্ঘুম সেই রাতের পর চট্টগ্রামে আরেক রাতে জ্যোৎস্নাবিলাস করলেন আমিনুল।  জাতীয় দলে অভিষেক, পকেটে দুই উইকেট; জ্যোৎস্না রাতে আর কি চাই! তবে সবকিছু ছাপিয়ে তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি,‘সবার স্বপ্ন থাকে জাতীয় দলে খেলার। আমারও ভালো লাগছিল যে আামি খেলছি। কিন্তু ছোট বেলা থেকে যাদের খেলা দেখে আসছি তাদের সঙ্গে একসঙ্গে খেলতে পারা…।’ এরপর যেন নিজেকে শোনাচ্ছেন এমন অস্ফুটে বলেন,‘গর্ব করার মতো অনুভূতি।’

সেই গর্বে মাত্র কৈশোর পেরোনো আমিনুলের পরিণত উপলদ্ধি, এ সাহস আর আত্মবিশ্বাসে সামনে এগিয়ে চলা সম্ভব।


চট্টগ্রাম/ইয়াসিন

     
 
রাইজিংবিডি স্পেশাল ভিডিও