ঢাকা, রবিবার, ৯ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পার্কিং, আছে পুলিশের অনুমতি

মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৯-২৪ ২:১৩:১৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৯-২৫ ৪:৫৭:১৯ পিএম
‘গ্রীন ঢাকা’র সব বাসই ‘পার্কিং নিষেধ’ লেখা স্থানে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে-নামায়

রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে বিজয়নগরের দিকে যেতে প্রীতম হোটেলের সামনে সাইনবোর্ডে লাল বৃত্তের মধ‌্যে মোটা হরফে লেখা আছে ‘পার্কিং নিষেধ’। কিন্তু কে শোনে কার কথা। গুলিস্তান থেকে আব্দুল্লাহপুরগামী এসি বাস ‘গ্রীন ঢাকা’ এসে থামল ঠিক এ জায়গায়। বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে যাত্রী নিয়ে চলে গেল গন্তব্যে।

রোববার বিকেলে রাজধানীর ব্যস্ততম পল্টন মোড়ে দেখা যায়, একটা- দুটো নয়, ‘গ্রীন ঢাকা’ পরিবহনের সব বাসই ‘পার্কিং নিষেধ’ লেখা স্থানেই যাত্রী নামাচ্ছে-তুলছে।

পল্টন মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় গ্রীন ঢাকার মতো অধিকাংশ পরিবহনের বাস নন-স্টপেজ এলাকায় যাত্রী নামানো-ওঠানোর কারণে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না। অধিকাংশ সময়েই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। নিরাপদ সড়কের জন্য আইন মানা যেখানে সবার জন্য জরুরি, সেখানে গণপরিবহনের চালক-হেলপার, যাত্রী কেউই আইন মানছেন না। বরং তারা যেন আইন ভাঙার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। 

অভিযোগ আছে, পল্টন মোড়ে ‘পার্কিং নিষিদ্ধ’ এলাকায় যাত্রী নামানো-ওঠানোর কাজ করলেও ট্রাফিক পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। পুলিশের নাকের ডগায় এ অপরাধ সংঘটিত হলেও তারা দেখেও দেখেন না, শুনেও শোনেন না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পল্টন মোড়ে ‘পার্কিং নিষিদ্ধ’ এলাকায় বিকেল ৩টার দিকে সরকারি বিআরটিসির একটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তা দখল করে যাত্রী তুলছে ও নামাচ্ছে। এ অনিয়মের বিষয়ে বাসচালকের সহকারীকে (হেলপার) জিজ্ঞেস করা হলে তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘সব দোষ কি শুধু আমাদের? আমরা তো এক মিনিটও দাঁড়াই না। ট্রাফিক পুলিশ ফাঁকি দিয়ে যাত্রী নামাই আর ওঠাই। কিন্তু গ্রীন ঢাকা তো একেবারে এখানেই পার্কিং করে। তখন তো কেউ কিছু বলে না।’

 

আকাশ পরিবহন পল্টনমোড়ে নন স্টপেজ এলাকায় গাড়ি থামিয়ে ঝুঁকিতে যাত্রী তুলছে

 

এ সময় পল্টন মোড়ের অদূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট রেজাউল। নন-স্টপেজ ও পার্কিং নিষিদ্ধ এলাকায় গ্রীন ঢাকা পরিবহনের বাসের পার্কিং কেন? এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘শুধু গ্রীন ঢাকা এসি বাসটি পার্কিং করার বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিন পুলিশের মৌখিক অনুমতি আছে।’ আইন ভঙ্গ করে কেন অনুমতি দেয়া হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জানি না।’

পল্টন মোড়ে শুধু গ্রীন ঢাকা বাস নয়; গাজীপুর, বিমানবন্দরগামী প্রায় প্রতিটি যাত্রীবাহী বাস প্রতিযোগিতার মাধ্যমে রাস্তা দখল করে ইচ্ছেমতো পার্কিং করছে এবং যাত্রী ওঠাচ্ছে-নামাচ্ছে। অথচ এই মোড়ে (বিজয়নগরের দিকে যেতে) গণপরিবহনগুলোর বৈধ কোনো স্টপেজ নেই। মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও চালকরা তোয়াক্কা করছেন না।

প্রভাতী বনশ্রী, আকাশ, প্রচেষ্টা, ভিক্টর ক্লাসিক, মনজিল এক্সপ্রেসসহ যেসব পরিবহনের বাস এ রাস্তায় যাতায়াত করে সবগুলোই পল্টন মোড়ের নন-স্টপেজ তথা পার্কিং নিষিদ্ধ এলাকায় যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী  তুলছে-নামাচ্ছে। কোনোভাবেই তাদের আইন মানানো যাচ্ছে না।

পল্টন মোড়ে পার্কিংয়ের কারণে অর্ধেক রাস্তা দখল হয়েছে। পল্টন মোড় থেকে বিজয়নগরের দিকে যেতে পার্কিং করে রাস্তা দখল করে আছে প্রাইভেটকার, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। বাকি অর্ধেক রাস্তায় গণপরিবহন চলাচল করছে বিশৃঙ্খলভাবে।

পল্টন মোড়ে স্টপেজ ছাড়া যত্রতত্র যাত্রী ওঠা-নামা, অবৈধ পার্কিং, রাস্তা দখল করে প্রতিবন্ধকতা ও যানজট সৃষ্টি, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, লক্কর-ঝক্কর বাস চলাচল, ওয়েবিল সিস্টেমে যাত্রী পরিবহনসহ নানা ধরনের অনিয়ম চলছে এসব গণপরিবহনে।

 

পল্টনমোড়ে অবৈধ পার্কিং এ রাস্তা বেদখল

 

ট্রাফিক পুলিশ মাঝে মাঝে মামলা দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয় না। কিছুক্ষণের জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থার চিত্র পাল্টালেও সেটা সাময়িক। আবার সেই বিশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরে যায় গণপরিবহনগুলো।

ভুক্তভোগী যাত্রীরা রাইজিংবিডিকে জানান, রাজধানীতে বিভিন্ন রাস্তায় নির্ধারিত স্টপেজ থাকলেও সেখানে বাস থামে না। যখন ট্রাফিক পুলিশ কড়া মনিটরিং করেন তখন বাস সেখানে গিয়ে যাত্রী তোলে-নামায়, কিন্তু সেটা সাময়িক। তাছাড়া স্টপেজ ছেড়ে যাওয়ার পর বাসগুলো আবারো দরজা খোলা রেখে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠায়-নামায়। মাঝে মাঝে ট্রাফিক পুলিশের কাছে ধরা পড়লে কিছু বখশিশ দিয়ে রেহাই পেয়ে যায়।

এসব কারণে গণপরিবহনের চালকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তারা সবাই আইন ভাঙার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। ট্রাফিক পুলিশ কড়া মনিটরিং করলে, কাউকে ছাড় না দিলে চালকরা আইন মানতে বাধ্য হবে। এতে পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

বিকেল ২টা থেকে পল্টন মোড়ে অবৈধ পার্কিং, রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিসহ নানা অভিযোগে ৫/৬টি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট রেজাউল।

তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন‌্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সবাই আইন মানলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসত। আইন মানার জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।’


ঢাকা/নঈমুদ্দীন/জেনিস/রফিক