ঢাকা, শনিবার, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

পাহাড় নান্দনিক সৌন্দর্যের আধার

শাহ মতিন টিপু : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-১২-১১ ১২:৫৬:৩৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৬-০৪ ৪:৩০:১১ পিএম
পাহাড় নান্দনিক সৌন্দর্যের আধার

শাহ মতিন টিপু : বলা হয়, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে। শুধুই কী তাই, পাহাড় প্রকৃতির মাঝে তার নান্দনিক সৌন্দর্য মেলে ধরে মানুষের নয়ন ও মনকেও স্বার্থক করে। বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল পার্বত্য অঞ্চল।

জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমিধ্বস, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষি জমির অপ্রতুলতা, নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন ইত্যাদি নানা কারণে পিছিয়ে পড়া পার্বত্যবাসীর জীবনধারা এবং জলবায়ু ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাহাড়-পর্বতের অবদান ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরী।

পাহাড়ের ওপর এখন যথেচ্ছাচার হচ্ছে। নির্বিচারে সকলেই ক্ষতি করে চলেছে পাহাড়ের। সর্বশেষ লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের কারণেই চট্টগ্রামের পাহাড় আজ চরম হুমকির মুখে।

আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস আজ। দিবসটি উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে ‘পার্বত্য অঞ্চলের ঝুঁকি, জলবায়ু, ক্ষুধা, অভিবাসন’। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও টেকসই ভবিষ্যতকে সামনে রেখে জাতিসংঘ ২০০৩ সালে ১১ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সেই থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে।

বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দিবসটি পালনের জন্য বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে গত ৭ ডিসেম্বর থেকে পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবন-সংস্কৃতি, পোশাক পরিচ্ছেদ ইতিহাস ঐতিহ্য বিষয়ক তথ্যাদি সমতলের মানুষের মাঝে পরিচয় করিয়ে দিতে শিল্পকলা একাডেমিতে ৫ দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়। আজ এই মেলা শেষ হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবনযাপন, কৃষ্টি ও ঐতিহ্য দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বৈচিত্র্যময়। এই বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আমাদের মূল্যবান সম্পদ এবং তা লালন ও সংরক্ষণ করা আমাদেরই দায়িত্ব। তাই দিবসটি পালনের মধ্য দিয়েই হতে পারে পার্বত্য এলাকার উন্নয়নে বিপুল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন। পার্বত্য এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক জীবনমান উন্নয়নসহ পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি হতে পারে আরও সুদৃঢ়।

মানুষের জীবনে পাহাড় ও পর্বতের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জীবনের সঙ্গে এই পর্বতশ্রেণি ও পার্বত্যাঞ্চলের মেলবন্ধন তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস একটি দারুণ উপলক্ষ। এই অংশীদারিত্ব পৃথিবীর সব পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের জন্যই ইতিবাচক।

পৃথিবীর প্রায় এক দশমাংশ মানুষ পার্বত্য অঞ্চলে বসবাস করেন। পর্বতমালা বিশ্বকে তার প্রয়োজনের প্রায় অর্ধেক স্বাদু পানি সরবরাহ করে, বহু প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী ধারণ করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ জলবায়ুর পরিবর্তন, দারিদ্র্য ও খাদ্যের অপ্রতুলতাসহ বিভিন্ন ঝুঁকি থেকে অনগ্রসর পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে সকল রাষ্ট্ররই এগিয়ে আসা জরুরী।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ ডিসেম্বর ২০১৭/ টিপু

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন