ঢাকা, সোমবার, ৪ কার্তিক ১৪২৬, ২১ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

পুলিশের ড্রয়ার ভেঙ্গে পুলিশই চুরি করলো ইয়াবা

মামুন খান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৮-২২ ৬:৫১:০৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৮-২২ ৭:৫৩:১৭ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : গোয়েন্দা পুলিশের একজন সহকারী কমিশনারের ড্রয়ার ভেঙ্গে ইয়াবা চুরি করলো খোদ পুলিশেরই একজন কনস্টেবল। ৫ হাজার পিস ইয়াবা চুরির অপরাধে মো. সোহেল রানা নামের ওই কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক অশোক কুমার সিংহ আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। রমনা থানায় করা ইয়াবা চুরির মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কনস্টেবল সোহেল রানা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন, তিনি সেদিন রাতে ডিবি অফিসে ঢোকেন এবং সহকারী কমিশনারের অফিসের ড্রয়ারের তালা ভেঙে ৫ হাজার পিস ইয়াবা চুরি করেন। চুরি করা এসব ইয়াবা গেন্ডারিয়া থানার একটি মাদক মামলার আলামত। পরে ওই ইয়াবাগুলো সোহেল রানার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। সোহেলের বাসায় খাটের জাজিমের নিচে ইয়াবাগুলো পাওয়া গেছে। এছাড়া চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি স্ক্রু ড্রাইভারও সোহেলের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন বুধবার তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এক ব্যক্তি মিন্টো রোডের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ের পুকুরপাড়ে আসেন। এরপর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও পেশাদার খুনি দমন টিমের (ডিবি পশ্চিম) অফিস কক্ষের সামনে আসেন ওই ব্যক্তি। রাত ৩টা ৩৫ মিনিটে ইয়াবা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে তিনি ডিবি অফিসের প্রধান গেটে যান। এরপর রিকশা করে চলে যান শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণির দিকে।

পরদিন শনিবার সকাল ৭টার সময় ডিবির এএসআই আবু সুফিয়ান প্রধান গেটের দায়িত্ব পালনের জন্য আসেন। অফিস থেকে ডিবির জ্যাকেট নেয়ার জন্য সহকর্মী ফারুকের কাছ থেকে চাবি নেন তিনি। পরে অফিসে গিয়ে আবু সুফিয়ান দেখেন, দরজার সামনের বারান্দার সিলিং এবং ভেতরের দক্ষিণ কোণের সিলিং খোলা। এমন অবস্থা দেখে তিনি সাথে সাথে ডিবির সহকারী কমিশনার মজিবর রহমানকে ঘটনাটি জানান। পরে কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, মজিবর রহমানের কক্ষের থাই অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি দরজা ও তিনটি ড্রয়ারের তালা ভাঙা।

মামলার অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, দ্বিতীয় ড্রয়ারে একটি মাদক মামলার আলামত হিসেবে ৫ হাজার পিস ইয়াবা রাখা ছিল। যার দাম আনুমানিক ১০ লাখ টাকা। পলিথিনের ব্যাগে রক্ষিত ইয়াবাগুলো চুরি গেছে বুঝতে পেরে বিষয়টি ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। এরপর ইয়াবা চোর ধরার জন্য ডিবি অফিসের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ডিবিতে কর্মরত সদস্যদের ভিডিও ফুটেজ দেখানো হলে, ঘটনার দিন রাতে ঢোকা ওই ব্যক্তি কনস্টেবল সোহেল রানা বলে শনাক্ত হয়।

এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. শাহাবুদ্দিন খলিফা ইয়াবা চুরির অভিযোগে রমনা থানায় ২০ আগস্ট মামলা দায়ের করেন।

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২আগস্ট ২০১৯/মামুন খান/নবীন হোসেন

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন