ঢাকা     সোমবার   ১০ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৬ ১৪২৭ ||  ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

‘পোলাপাইন নিয়া না খাইয়া মইরা যামু’

শাহরিয়ার সিফাত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৩৪, ১৪ মে ২০২০  
‘পোলাপাইন নিয়া না খাইয়া মইরা যামু’

এক বছর আগে স্বামী মারা গেছেন শাহীনুর বেগমের। এরপর থেকে ভিক্ষা করে দু’মুঠো ভাত তুলে দিচ্ছিলেন তিন সন্তানের মুখে। কিন্তু করোনার কারণে ভিক্ষাও করতে পারছেন না তিনি। সন্তানদের নিয়ে বিপদে পড়েছেন তিনি।

টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌর এলাকার বন্দেভাটপাড়া এলাকায় অন্যের জমিতে খুপড়ি ঘরে সন্তানদের নিয়ে বাস করেন শাহীনুর বেগম।

তিনি জানান, তার স্বামী রুস্তম আলী পেশায় ছিলেন ভ্যানচালক। তিনি যা আয় করতেন তা দিয়ে পাঁচজনের সংসার ভালোই চলছিল। কিন্তু প্রায় এক বছর আগে রুস্তম আলী মারা যান। এরপর শুরু হয় তার কষ্ট। 

স্বামীর মৃত্যুর পর ভাড়া বাসা ছেড়ে শাহীনুর আশ্রয় নেন ওই পতিত জমিতে। সেখানে বেত আর পলিথিন দিয়ে বানিয়েছেন ছোট্ট একটি ঘর। 

শাহীনুর বেগম জানান, তাদের বাড়ি সিরাজগঞ্জ। সেখানে কোনো জায়গা জমি না থাকায় স্বামী বেঁচে থাকার সময়ই টাঙ্গাইল চলে আসেন। স্থানীয় না হওয়ায় এই বিপদের দিনে প্রশাসনের কাছ থেকেও কোনো সহায়তা পাননি তিনি। এ অবস্থায় সন্তানদের নিয়ে অনেকটা না খেয়েই দিন কাটছে তার।

শাহীনুরের বলেন, ‘সোয়ামী মইরা যাবার পর এই হানে আইয়া ঘর তুলছি। এই ঘরই আমার কাছে রাজপ্রাসাদ।  কিন্তু এহন ঘরে কোনো খাওন নাই। হুনছি, কের নাকি করোনা আইছে। এর লাইগ্যা ভিক্ষা করবার যাইবার পারি না। যেহানেই যাই, মাইনষে তারাইয়া দেয়। মাস দুই আগে ভিক্ষা কইরা যা পাইতাম সেইটা দিয়াই এতোদিন এক বেলা কোনোরকম চাইল সিদ্ধ কইরা পোলাহান নিয়া খাইছি। এহন ঘরে চাউলও শেষ। এতোদিন পাড়া প্রতিবেশী অনেকেই খাওন দাওন দিতো। ওহন তাগোর বাড়িতও যাইবার পারি না। আমার বাড়ি সিরাজগঞ্জ দেইহা সরকারের কোনো সাহায্যও পাই নাই। অহন পোলাপানগুলার মুখে ভাত তুইলা দিবার পারতাছি না। দুইডা চাইল না পাইলে পোলাপাইন নিয়া না খাইয়া মইরা যামু।’

শাহীনুরের প্রতিবেশী ময়থা জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রিফাত রিকা বলেন, ‘তার বাড়ির পাশে একজনের পতিত জমিতে বাঁশ-বেত দিয়ে ছোট্ট ঘর তুলে প্রায় বছর খানেক ধরে শাহীনুর ছেলে মেয়েদের নিয়ে আছেন। স্বামীকে হারানোর পর ভিক্ষা করে সন্তানদের নিয়ে চলছেন। কিন্তু বর্তমানে করোনার ফলে তারা খুব কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। প্রশাসন থেকে এখনো তিনি কোনো সাহায্য পাননি। বর্তমানে যে অবস্থা, প্রতিবেশীরাও তাকে খুব একটা সাহায্য করতে পারছেন না। ফলে স্বামী হারা শাহীনুর সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের খাদ্য সহায়তা যদি শাহীনুরদের মতো হত দরিদ্ররা না পায়, তাহলে কারা পাবে? শুনেছি তার ঘরের খাবার শেষ। যদি কোনো সহায়তা না পায়, তবে করোনা নয়, সন্তানদের নিয়ে না খেয়েই সে হয়তো ক্ষুধার জ্বালায় মারা যাবেন।’

 

টাঙ্গাইল/সিফাত/ইভা

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়