ঢাকা, শুক্রবার, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

প্রত্যন্ত গ্রামেও টেলিটকের ফাইভজি নেটওয়ার্ক

হাসিবুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৮-১৮ ৫:৪২:০৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৮-১৯ ৩:১০:৩৭ পিএম
প্রত্যন্ত গ্রামেও টেলিটকের ফাইভজি নেটওয়ার্ক

হাসিবুল ইসলাম মিথুন: দেশের গ্রাম পর্যায়ে টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ফাইভজি সেবা পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্যে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

‘গ্রাম পর্যায়ে টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ফাইভজি সেবা প্রদানে আধুনিকায়ন’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে সংশোধনী প্রস্তাব প্রস্তুত করে পর্যালোচনার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র থেকে জানা গেছে, আগামী ২২ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টায় পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিসের সভাপতিত্বে প্রকল্পটির ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হবে। সে সভায় প্রকল্পটির নানা দিক মূল্যায়ন করে ছাড়পত্র বা নতুন করে নির্দেশনা দেয়া হতে পারে। পরে প্রকল্পটি পরিকল্পনামন্ত্রীর দপ্তরে পাঠালে মন্ত্রী একনেক সভায় উপস্থাপন করবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রকল্প অনুমোদন দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রস্তাবিত ‘গ্রাম পর্যায়ে টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ৫জি সেবা প্রদানে আধুনিকায়ন’ প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১৫১ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং নিজস্ব অর্থায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড (টিবিএল)।

কমিশন সূত্র থেকে আরো জানা যায়, প্রকল্পটি ২০১৯-২০ অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দহীন অনুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানায়, প্রধানত শহরাঞ্চলে বিদ্যমান টেলিটক ফোরজি নেটওয়ার্ক ইউনিয়ন, গ্রাম পর্যায়ে প্রসারিত করে গ্রামাঞ্চলের জনসাধারণকে সুলভমুল্যে দ্রুতগতির ফোরজি প্রযুক্তিনির্ভর ইন্টারনেট সেবা দেয়া এবং সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য অনুসারে ২০২১-২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ফাইভজি প্রযুক্তিনির্ভর মোবাইল সেবা দেয়া নিশ্চিতকরণ।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটির মূল কার্জক্রম হচ্ছে ৯ হাজার ৪১০ সেট টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম কেনা, তিন হাজার বিটিএস সাইট নির্মাণ, ট্রান্সমিশন হাব-এর জন্য ১০০ সাইট প্রস্তুতকরণ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি কেনা, কাস্টমার কেয়ার ৩০ সাইট এবং আসবাবপত্র কেনা।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষ ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত এবং এই হার গ্রাম পর্যায়ে বেশি। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের ব্যবহারকারীদের ক্রয়ক্ষমতা অনেকাংশে কম। বেসরকারী অন্যান্য মোবাইল অপারেটর এই সকল প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ব্যবসায়ীক ও মুনাফার হিসেব করে নেটওয়ার্ক বিস্তারে অনেকাংশেই অনিচ্ছুক। ফলে গ্রাম পর্যায়ে গ্রাহকরা শহরের তুলনায় অত্যাধুনিক মোবাইল ব্রডব্র্যান্ড সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। এ কারনে জনসাধারণের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগের অসমবন্টন সৃষ্টির মাধ্যমে ডিজিটাল বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। এই কারণে গ্রামের সবার মাঝে প্রাথমিকভাবে ফোরজি ও পরে ফাইভজি সেবা পৌঁছে দিতেই এই প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার।   


রাইজিংবিডি/ ঢাকা/১৮ আগস্ট ২০১৯/হাসিবুল/সাজেদ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন