ঢাকা, শনিবার, ১৪ চৈত্র ১৪২৬, ২৮ মার্চ ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ফিলিস্তিনিদের সহায়তা বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

রাসেল পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-০১-০৩ ৯:৫০:৪৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০১-০৪ ৮:১২:৫৮ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জেরুজালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার ফিলিস্তিনিদের সহায়তা বন্ধের হুমকি দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ‘যারা শান্তি আলোচনা করতে ইচ্ছুক নয়, সেইসব ফিলিস্তিনিকে অর্থসহায়তা দেওয়া হবে না।’ টুইটারে ট্রাম্প অভিযোগের সুরে বলেছেন, ত্রাণ দেওয়ার বিনিময়ে ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে কোনো ধরনের ‘সাধুবাদ বা সম্মান’ পায় না যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় নতুন শান্তি আলোচনার পথ তৈরি হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনিরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র আর কোনোভাবেই নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হতে পারবে না।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রায় এক বছর পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন ট্রাম্প। কিন্তু তার এ স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনসহ মুসলিম বিশ্ব। এছাড়া তার স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান রেখে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে, যেখানে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে ১২৮টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কী বলেছেন?
ফিলিস্তিনিদের ত্রাণ সহায়তা বন্ধের বিষয়ে টুইট করার আগে পাকিস্তান নিয়ে টুইট করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সহায়তা নিলেও বিনিময়ে মিথ্যাচার ও ধোঁকাবাজি ছাড়া কিছুই দেয়নি তারা।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প আরেক টুইটে বলেন, ‘শুধু পাকিস্তানেই আমরা অযথা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিচ্ছি, তা নয়।’ তিনি বলেন, ‘উদাহরণ হিসেবে বলছি, ফিলিস্তিনিদের বছরে শত শত মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিচ্ছি আমরা এবং তাদের কাছ থেকে কোনো সাধুবাদ বা সম্মান পাচ্ছি না। এমন কি সময় অতিক্রম হলেও ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি নিয়ে সমঝোতা করতে চাইছে না।’
 

 

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি


তিনি আরো বলেন, ‘সমঝোতার সবচেয়ে কঠিনতম অংশ জেরুজালেম, যা আমরা আলোচনার টেবিল থেকে বাইরে এনেছি। এজন্য ইসরায়েলকে বেশি মূল্য জোগাতে হবে। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা আর শান্তি আলোচনায় রাজি নয়, তাহলে কেন আমরা ভবিষ্যতে তাদের বিশাল অঙ্কের অর্থ দেব?’

অবশ্য ত্রাণ সহায়তা বন্ধের হুমকি দেওয়ার পর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তবে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনের নেতা মাহমুদ আব্বাস বলে আসছেন, শান্তি আলোচনায় ট্রাম্প আর কোনোমতেই সৎ মধ্যস্থতাকারী নন এবং তার কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করবে না ফিলিস্তিনিরা।

ফিলিস্তিনিদের কী ধরনের সহায়তা দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র?

জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি জাতিসংঘ ত্রাণ সংস্থায় ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য অর্থসহায়তা বন্ধের ইঙ্গিত দেওয়ার পর একই ইস্যুতে হুমকি দিয়ে টুইট করেন ট্রাম্প। জাতিসংঘ ত্রাণ সংস্থা স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বিশেষ খাতে কাজ করে থাকে। এ সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার এককভাবে সবচেয়ে বেশি অর্থ দিয়ে থাকে। ২০১৬ সালে প্রায় ৩৭০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

জাতিসংঘে এক সংবাদ সম্মেলনে নিকি হ্যালি বলেন, প্রেসিডেন্ট মূলত বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনিরা সমঝোতার টেবিলে ফিরে আসতে রাজি না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য তিনি আর সহায়তা দিতে চান না অথবা তা বন্ধ করতে চান।’ হ্যালি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে নিন্দা করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব পাস হয়েছে, তা পরিস্থিতির জন্য উপকারী নয়।

ত্রাণ সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, আলোচনার টেবিলে আসার আগ্রহ দেখাতে হবে ফিলিস্তিনিদের। এখনো পর্যন্ত তারা টেবিলে আসেনি, কিন্তু ত্রাণ ঠিকই চেয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আর ত্রাণ দিচ্ছি না, আমরা নিশ্চিত করে বলছি, আগে টেবিলে আসতে হবে।

যু্ক্তরাষ্ট্র যদি ত্রাণ সহায়তা বন্ধ করে দেয়, তাহলে জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থার কার্যক্রমে ব্যাপক খারাপ প্রভাব পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র একাই এ সংস্থায় প্রায় ৩৩ শতাংশ অর্থ দিয়ে থাকে। সংস্থাটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তহবিল দিয়ে থাকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। কিন্তু ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকেরও কম তহবিল দিয়েছিল ইইউ।

তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩ জানুয়ারি ২০১৮/রাসেল পারভেজ/সাইফ