ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, ০৯ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

'ফোন ট্র্যাকিংয়ে কর্মকর্তাদের অনিয়মের তথ্য মিলছে'

এম এ রহমান মাসুম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৮-২২ ৬:১৩:৫৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৮-২২ ৬:১৩:৫৫ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, 'টেলিফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অনেক কর্মকর্তার রূঢ় আচরণের তথ্য আমরা পাই। সতর্ক হোন ও ত্রুটি-বিচ্যুতি দ্রুত সংশোধন করুন।  অনুসন্ধানে টাইম লাইন অনুসরণে যারা ব্যর্থ হবেন, তাদের উচিত অপশন দিয়ে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করা।’

বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের সকল কর্মকর্তাদের অনুসন্ধান ও তদন্তে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে এক জরুরি সভায় এসব কথা বলেন।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দুদক কমিশনার ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খান ও দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলামসহ সকল বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক, সকল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক, প্রধান কার্যালয়ের সচিব, মহাপরিচালক ও পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান বা তদন্তে কোন প্রকার অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাতিত্ব, শৈথিল্য যা কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে, কর্মকর্তাদের এমন কোন আচরণ কমিশন ন্যূনতম সহ্য করবে না। প্রতিটি কর্মকর্তা আমাদের ঠিক ততক্ষণই প্রিয় থাকবেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি আপনার দায়িত্ব সততা ও স্বচ্ছতার সাথে পালন করবেন। যারা এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবেন তারা কোন প্রকার অনুকম্পা পাবেন না।’

তিনি বলেন, ‘আমি বার বার আপনাদেরকে সতর্ক করি, তারপরও যখন অভিযোগ আসে, তখন ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প পথ থাকে না। অনুসন্ধানের টাইম লাইন নিয়ে অনেকবার কথা বলেছি। এখন থেকে যারা টাইম লাইন অনুসরণে ব্যর্থ হবেন তাদের উচিত হবে অপশন দিয়ে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাজ করা। কারণ এ সুযোগ দুদকের বিধিতে রয়েছে।’

সকল কর্মকর্তাদের মানুষের সাথে বিনয়ী আচরণে আহ্বান জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘টেলিফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অনেকের রূঢ় আচরণের তথ্য আমরা পাই। সতর্ক হোন। কমিশনার (তদন্ড) অসংখ্য মামলার নথি পর্যালোচনা করে যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি উদঘাটন করেছেন, তা দ্রুত সংশোধন করুন।’

নথিতে কোয়ারি দিয়ে অনুসন্ধান বা তদন্ত বিলম্ব করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এখন থেকে পরিচালক কিংবা মহাপরিচালক পর্যায়ে কোয়ারি দিয়ে নথি নিচে নামিয়ে দেওয়া যাবে না। কমিশনের অনুমোদন ছাড়া কোন কোয়ারি দেয়া যাবে না। আমরা এই প্রতিষ্ঠানটিকে মানুষের আস্থার প্রতীক বানাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কারো স্বেচ্ছাচারিতার কাছে এই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষুন্ন হতে দেওয়া হবে না।

সভায় দুদক কমিশনার ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘কমিশনের আইনি ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করা হবে। দুর্বীনিত আচরণ কাম্য নয়। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলে ক্ষমতার দম্ভ থাকে না।’

দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব নথি আমি পর্যালোচনা করেছি, তাতে যেসব ত্রুটি পেয়েছ, তা কাঙ্খিত নয়। আপনারা দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে এসব ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করা যেত।’


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ আগস্ট ২০১৯/ এম এ রহমান/সাজেদ