ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ চৈত্র ১৪২৬, ০২ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সমবায়ে উন্নয়ন

শাহ মতিন টিপু : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-০২ ১০:০৯:১৯ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-০২ ১০:০৯:১৯ এএম

জাতীয় সমবায় দিবস আজ। ‘বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সমবায়ে উন্নয়ন’এই প্রতিপাদ্যে এবার উদযাপিত হচ্ছে ৪৮তম জাতীয় সমবায় দিবস।

দারিদ্র্য বিমোচন ও আত্ম-কর্মসংস্থানের টেকসই হাতিয়ার হচ্ছে সমবায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমবায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন দর্শন বাস্তবায়ন করে চলেছে। বর্তমান সরকার দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প ও ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক’-এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণের পরিবর্তে ক্ষুদ্র সঞ্চয় কার্যক্রম চালু করেছে।

বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে বাধ্যতামূলক সমবায় প্রতিষ্ঠিত হবে। ১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক ভাষণে প্রস্তাব রেখেছিলেন, ‘গ্রামের প্রত্যেকটি কর্মঠ মানুষ এই বহুমুখী সমবায়ের সদস্য হবে। যার যার জমি সে-ই চাষ করবে, কিন্তু ফসল ভাগ হবে তিন ভাগে—কৃষক, সমবায় ও সরকার।’ এই গ্রামীণ সমবায়কে তিনি নতুন গ্রাম সরকার হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। বলেছিলেন, তাঁদের হাতেই উন্নয়ন বাজেটের অংশবিশেষ তুলে দেওয়া হবে, ওয়ার্কস প্রোগ্রামও থাকবে তাঁদের হাতে। তিনি বলেছিলেন, ‘এরা মাথা উঁচু করে দাঁড়ালে একসময় ইউনিয়ন কাউন্সিলের টাউটদের বিদায় দেওয়া হবে।’

সমবায় সমিতির ইতিহাস প্রায় মানবসভ্যতার ইতিহাসের ন্যায় প্রাচীন। বর্তমানের সমবায় সমিতির সাংঠনিক রূপ প্রতিষ্ঠিত হয় ইউরোপের শিল্পবিপ্লবের কিছু পূর্বেই। ১৭৬১ সালে সর্বপ্রথম ফেনউইক উইভারস সোসাইটি গঠন করা হয় স্থানীয় তাঁতীদের ঋণসুবিধা, শিক্ষা ও অভিবাসন সুবিধা দেবার জন্য। পরবর্তীতে শুধু ইংল্যান্ডেই এক হাজারের অধিক সমবায় প্রতিষ্ঠান কর্মকান্ড শুরু করে।

জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণমাধ্যমে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

প্রদত্ত বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সমবায়ের মাধ্যমে আয়-বৈষম্য হ্রাস করে ন্যায়ভিত্তিক একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।’ রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশকে সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত করার লক্ষ্যে সমবায় কার্যক্রমকে আরো গতিশীল, সক্রিয় এবং যুগোপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকভাবে আরও তৎপর হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রদত্ত বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ দেশের কৃষি ও পল্লী উন্নয়নে সমবায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমান সরকারের ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ স্লোগান বাস্তবায়নেও সমবায়কে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। পল্লী অঞ্চলে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের মাধ্যমে পল্লীর মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপযুক্ত প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। ‘

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দেশে এই মুহূর্তে এক লাখ ৭৫ হাজার ৩৭০টি নিবন্ধিত সমবায় প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক কোটি ৯৭ লাখ ৪ হাজার ৪৩২ সদস্য রয়েছেন। এসব সমবায়ের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৮ লাখ ৮১ হাজার ৭০৪ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ ছাড়া সমবায়ভিত্তিক ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এখন থেকে আর মাইক্রোক্রেডিট নয়, ‘মাইক্রো সেভিংস’র ব্যবস্থা করা হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক।

দিবসটি উদযাপনে সরকারি-বেসরকারি সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ উপলক্ষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় আজ বেলা ১টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করবে। এরপর বেলা ৩টায় জাতীয় ও সমবায় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এরপর সেখানে বিকাল ৪টায় ৪৮তম জাতীয় সমবায় দিবস ২০১৯ ও জাতীয় সমবায় পুরস্কার ২০১৮ প্রদান এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দান করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য।

 

ঢাকা/টিপু