ঢাকা, শুক্রবার, ২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন সমৃদ্ধ বাংলাদেশের

নাসির উদ্দিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৮-০৯ ৬:৫৮:৫৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৮-১০ ১০:৩২:৩১ এএম

নাসির উদ্দিন চৌধুরী : গোপালগঞ্জ জেলার ছোট্ট একটি গ্রাম, যার নাম টুঙ্গিপাড়া। এই গ্রামে জন্ম হয় ইতিহাসের এক মহানায়কের, এক কিংবদন্তির। যার জন্য আজ আমরা স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক বলে পরিচয় দিতে পারছি। পারছি সব ভয়কে জয় করে প্রাণ ভরে শ্বাস নিতে। তিনি হলেন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

টুঙ্গীপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া পরিবারের মানুষের আদর করে ডাকা খোকা যে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে চিরদিন, তা হয়ত তখন কেউ বুঝতেই পারেননি। তিনি এমন একজন মানুষ যিনি নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে দেশকে স্বাধীন করতে এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশের সার্বিক উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন।

স্বাধীনতার পর দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সমৃদ্ধ করতে গ্রহণ করেছিলেন নানা পরিকল্পনা। প্রশাসনিক ব্যবস্থার পুনর্গঠন, সংবিধান প্রণয়ন, এক কোটি মানুষের পুনর্বাসন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের  প্রাথমিক স্কুল পর্যন্ত বিনামূল্যে এবং মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত নামমাত্র মূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি।

মদ, জুয়া, ঘোরদৌডসহ সমস্ত ইসলামবিরোধী কর্মকা- কার্যকর-ভাবে নিষিদ্ধকরণ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা, মাদরাাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন, ১১ হাজার প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠাসহ ৪০ হাজার প্রাথমিক স্কুল সরকারীকরণ, দুঃস্থ মহিলাদের কল্যাণে নারী পুনর্বাসন সংস্থা, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন, ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মাফ, বিনামূল্যে/স্বল্পমূল্যে কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, পাকিস্তাানিদের পরিত্যক্ত ব্যাংক, বীমা ও ৫৮০টি শিল্প ইউনিটের জাতীয়করণ ও চালু করার মাধ্যমে হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

ঘোড়াশাল সার কারখানা, আশুগঞ্জ কমপ্লেক্সের প্রাথমিক কাজ ও অন্যান্য নতুন শিল্প স্থাপন, বন্ধ শিল্প-কারখানা চালুকরণসহ অন্যান্য সমস্যার মোকাবেলা করে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক অবকাঠামো তৈরি করে দেশকে ধীরে ধীরে একটি সমৃদ্ধিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রয়াস চালান তিনি।

বঙ্গবন্ধু শুধু রাজনৈতিক মুক্তিই নয়, স্বপ্ন দেখেছিলেন অর্থনীতিতে সমৃদ্ধশীল বাংলাদেশের। তিনিই প্রথম গ্রাম ও শহরের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তৈরি করেছিলেন গ্রামের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের জন্য একটি আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার রূপকল্প।

কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের নিষ্ঠুরতায় থমকে যায় মহান নেতার সেই স্বপ্ন। তবে তার সেই অর্থনীতি উন্নয়নের ভাবনার চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে বর্তমান সরকারের ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে গ্রাম বাংলায় অর্থনৈতিক মুক্তি মিলতে শুরু করেছে।

বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশেকে সোনার বাংলা গড়ে তুলতে ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠনে অনেক বড় অবদান রেখেছিলেন জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক রাইজিংবিডিকে বলেন, অর্থনীতিকে সচল করতে ব্যাংকিং খাতে বঙ্গবন্ধুর সব থেকে বড় অবদান ছিল।

পাকিস্তান আমলে যে সব বেসরকারি ব্যাংক ছিল মুক্তিযুদ্ধের পরে তিনি সেসব ব্যাংক ছয়টি ব্যাংকের আয়তায় নিয়ে আসেন। এ ছয়টি ব্যাংকের নাম দিয়ে তিনি সব ব্যাংক জাতীয়করণ করেন। এ ছয় ব্যাংকের নাম দেন তিনি জনতা, সোনালী, অগ্রণী, রূপালী, উত্তরাও  পূবালী ব্যাংক।

পাশাপাশি দুটি বীমা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন। একটি সাধারণ বীমা ও আপরটি জীবন বীমা। তার এই পদক্ষেপের ফলে দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাত অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল। বলা যায় বঙ্গবন্ধু হত্যার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত দেশের জনগনের মাঝে জনগনের সঞ্চয়ের জন্য নিরাপদ জায়গা হিসেবে গড়ে উঠেছিল ব্যাংকিং খাত।

এছাড়া বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের মধ্যে অন্যতম ছিল কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন। কারণ তিনি মনে করতেন কৃষির উন্নয়ন ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে না। বঙ্গবন্ধু কৃষকের উন্নয়নে ও দেশের অর্থনীতি বেগবান করার লক্ষ্যে ব্যাপক উদ্যোগ হাতে নিয়েছিলেন।

কিন্তু বঙ্গবন্ধুর প্রতি মানুষের ভালবাসা, দেশের সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাওয়া সহ্য হয়নি কিছু ঘাতকের। তাই তারা তৈরি করেছিল ইতিহাসের সেই কাল অধ্যায় ’৭৫ এর ১৫ই আগস্টের।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৯ আগস্ট ২০১৯/নাসির/এনএ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন