ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৭ ভাদ্র ১৪২৬, ২২ আগস্ট ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

বর্ষায় খালিয়াজুরী হাওরে

: রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৫-০৯-২৩ ৫:৫৪:২৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৬-০৯-০৫ ৩:১০:৩২ এএম
Walton E-plaza

|| সিয়াম সারোয়ার জামিল ||

বাঁধাই করা পাড়ে উত্তাল ঢেউ ছলাৎ ছলাৎ শব্দে আছড়ে পড়ছে। সেই বাঁধের ওপর সুন্দর কারুকার্য করা কংক্রিটের চেয়ার। মাথার ওপর বড় বড় ডালপালা ছড়ানো সবুজ গাছ। ওদিকে ঢেউয়ের সঙ্গে বইছে বৃষ্টি-বাতাস, উড়িয়ে নিচ্ছে শরীর-মন। ব্যস্ত জেলেরা তাল মিলিয়ে ধরছেন মাছ। উত্তাল ঢেউ কাটিয়ে নৌকা নিয়ে ছুটছেন মাঝি-মাল্লারা, কেউ ইঞ্জিন চালিয়ে, কেউ বৈঠা বেয়ে। বর্ষায় এমন রূপ দেখা যায় নেত্রকোনার খালিয়াজুরী হাওরে।

সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে খালিয়াজুরী ‘ডাক বাংলো’র মাঠ পেরোলেই হবে। বাজারের পাশেই হাসপাতাল, হাসপাতালের পরেই বাঁধানো পাড়,সেখানে বসেই উপভোগ করা যাবে হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। শুকনো মৌসুমে খালিয়াজুরী হাওরে চাষাবাদ হলেও বর্ষায় পানিতে পরিপূর্ণ থাকে। বর্ষায় এসব এলাকার একমাত্র বাহন হয় নৌকা। বর্ষাকালে হাওরের গ্রামগুলো একেকটি ছোট দ্বীপের মতো মনে হয়। পূর্ণিমার রাতে যদি হাওরে মাছ ধরতে বের হন তবে মনে হবে স্বর্গে চলে গেছেন।

নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলা হাওরবেষ্টিত। খালিয়াজুরী, কৃষ্ণপুর, চাকুয়া, নগর, মেন্দিপুর, গাজীপুর মোট ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে খালিয়াজুরী গঠিত। চতুর্দিক থেকে খালিয়াজুরীকে জড়িয়ে আছে ধনু আর সুরমা নদী। ধনু নদী দিয়ে প্রতিদিন লঞ্চ বিভিন্ন জায়গায় চলাচল করে। খালিয়াজুরী উপজেলা সদর, কৃষ্ণপুর এবং গাজীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান ঘিরে রেখেছে সুরমা নদী। এই নদী দিয়ে সিলেটের হাওরগুলোতে যাওয়া যায়।


খুব বেশি পর্যটক আসেন না এখানে। খালিয়াজুরী হাওর সুন্দর হলেও সিলেটের মত এতটা পরিচিত না। এখানে যাতায়াত ব্যবস্থা খুব ভালো না থাকায় পর্যটন ব্যবস্থাও খুব একটা গড়ে ওঠেনি। একশ দুইশ টাকায় স্থানীয়রা ছোট ট্রলারে করে পর্যটকদের ঘুরিয়ে দেখান খালিয়াজুরীর তীরবর্তী এলাকা। বৃষ্টি থাকলে আবহাওয়াটা বেশ ভালো থাকে, তাতে মন প্রাণ ভরে যাবে।

ভরা মৌসুমে খালিয়াজুরী হাওর অনেকটা সাগরে পরিণত হয়। এই সময়ে খালিয়াজুরীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকরাও এখানে আসেন। পাশাপাশি শীত মৌসুমেও অনেকে আসেন হাওরের নিম্নাঞ্চল ঘুরে দেখতে। দেশটা কত সুন্দর, বিশেষ করে হাওরাঞ্চল কতটা নয়নাভিরাম হতে পারে তা আমরা কয়জন জানি? সৌন্দর্য খুঁজতে আমরা সিলেট, চট্টগ্রাম কিংবা দেশের বাইরে ছুটে যাই। কিন্তু আমাদের হাতের কাছেই কত সৌন্দর্য ডানা মেলে বসে আছে তা চিন্তাও করি না।


যেতে পারেন পাশের হাওরগুলোতে। যেমন ডিঙ্গাপোতা হাওর। মোহনগঞ্জ থেকে রিকশায় বাবলিকোনা যেতে হবে। সেখান থেকে ইঞ্জিন নৌকায় হাওরের বিভিন্ন গ্রামে যেতে পারেন। এ ছাড়াও নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে বর্ষা মৌসুমে লঞ্চে চড়ে যেতে পারেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে। বর্ষাকালে এ পথের লঞ্চগুলো হাওরের পথ ধরেই চলাচল করে। নেত্রকোনা থেকে ইঞ্জিন বোটে তিন ঘণ্টায় যাওয়া যাবে হাওরের মাঝখানে ছোট্ট গাগলাজোড় বাজারে। সারাদিন এ বাজারে মেলে হাওরের নানা ধরনের মাছ। গাগলাজোড় জালালপুরে আছে  আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব উকিল মুন্সির বসতভিটা। সেখানেও যেতে পারেন।

কী কী সঙ্গে নেবেন : আপনার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র যত কম হয় ততো ভালো। যারা সাঁতার জানেন না, তারা লাইফ জ্যাকেট সঙ্গে নিয়ে যাবেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে থাকলে ভালো। ক্যামেরা, ব্যাটারি, চার্জার, মাল্টি প্লাগ, ছাতা, রেইন কোট, স্পঞ্জ বা স্যান্ডেল নিয়ে যাবেন। সঙ্গে টর্চ লাইট নিতে হবে কারণ হাওরাঞ্চলে বিদ্যুতের নিশ্চয়তা নেই। ছিপ বা বরশি দিয়ে মাছ ধরার ইচ্ছে থাকলে, খালিয়াজুরী বাজারে পাবেন।


কীভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে হাওর এক্সপ্রেসে যেতে হবে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ স্টেশন। সেখানে থেকে লেগুনায় ঘণ্টাখানেক লাগবে বোলিয়া হাওরের ঘাটে পৌঁছাতে। ওই ঘাটেই পাবেন খালিয়াজুরী সদরে যাবার ট্রলার। প্রায় এক ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন খালিয়াজুরী উপজেলা সদরে। হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে ভাড়া শোভন-১৭০ টাকা, শোভন চেয়ার-২০৫ টাকা এবং প্রথম শ্রেণি চেয়ার ২৭৫ টাকা। রাজধানীর মহাখালী থেকে সরাসরি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ যায় অনেক বাস। বিআরটিসির নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা আছে। ভাড়া ২৫০-৩০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন : বেসরকারিভাবে থাকার ব্যবস্থা নেই তবে সরকারি রেস্ট হাউস আছে। ভাড়া ১ দিনের জন্য  ভিআইপি-১৫০ টাকা, সাধারণ-৪০ টাকা।

 

ছবি : লেখক



লেখক : শিশুসাহিত্যিক ও ভ্রমণকাহিনি লেখক। সাপ্তাহিক জয়ধ্বনির সম্পাদক। জন্ম ১৯৯১, সাভার, ঢাকা।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫/তাপস রায়

Walton AC
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       

Walton AC
Marcel Fridge