ঢাকা, বুধবার, ১৮ চৈত্র ১৪২৬, ০১ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বাংলা ভাষায় প্রথম উপন্যাস লেখকের জন্মদিন

রুহুল আমিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০৭-২২ ১০:৩৬:৫৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৭-২২ ১২:৫৫:১৩ পিএম

রুহুল আমিন : প্যারীচাঁদ মিত্র। বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এর লেখক। ছদ্মনাম ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী প্যারীচাঁদ মিত্র ছিলেন সমাজহিতৈষী ও সংস্কৃতিসেবী। বাঙালি সমাজের কল্যাণে গড়ে তুলেছেন বহু সংগঠন। ১৮১৪ সালের এই দিনে (২২ জুলাই) তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।

প্যারিচাঁদ মিত্রের বাবার নাম রামনারায়ণ মিত্র। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় পারিবারিক পরিমণ্ডলে। একজন পণ্ডিত ও মৌলভির কাছে যথাক্রমে বাংলা ও ফারসি শিখেন।পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাও শিখেন।

১৮২৭ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন তিনি।সেখানে হেনরি ডিরোজিও নামের একজন অসাধারণ শিক্ষকের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। এ-কলেজেই তিনি তার শিক্ষাজীবন শেষ করেন।

কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরির ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে ১৮৩৬ সালে প্যারীচাঁদ মিত্রের কর্মজীবন শুরু হয় । পরে তিনি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে পদোন্নতি পান এবং আরো পরে প্রতিষ্ঠানটির সচিব হন। পাবলিক লাইব্রেরির কাজের পাশাপাশি প্যারীচাঁদ বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গেও জড়িয়ে যান।তিনি গ্রেট ইস্টার্ন হোটেল কোম্পানি লিমিটেড, পোর্ট ক্যানিং গ্র্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি এবং হাওড়া ডকিং কোম্পানির মতো বিনিয়োগ কোম্পানির অংশীদার ও পরিচালক ছিলেন। এই ক্ষেত্রে তাকে একজন সফল ব্যবসায়ীও বলা যায়।

তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যেমন- জ্ঞানোপার্জিকা সভা, বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি, ডেভিড হেয়ার মেমোরিয়াল সোসাইটি, রেস ক্লাব, এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড হর্টিকালচারাল সোসাইটি, বেথুন সোসাইটির সঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো, জেল ও কিশোর অপরাধীদের সংশোধন কেন্দ্রের পরিদর্শক, কলকাতা হাইকোর্টের গ্র্যান্ড জুরি, বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য, কলকাতা মিউনিসিপ্যাল বোর্ডের অবৈতনিক ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী  এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও, সাংবাদিকতা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্যই প্যারীচাঁদ মিত্র বিখ্যাত হয়ে আছেন। তিনি নারীদের জন্য একটি মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। এক্ষেত্রে তার সহযোগী ছিলেন রাধানাথ শিকদার।

তার ইংরেজি ভাষায় রচিত লেখাসমূহ ছাপা হত ইংলিশম্যান, ইন্ডিয়ান ফিল্ড, ক্যালকাটা রিভিউ, হিন্দু প্যাট্রিয়ট, ফ্রেন্ড অফ ইন্ডিয়া প্রভৃতি পত্রিকায়। তিনি পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেও সফল হয়েছিলেন। স্ত্রী-শিক্ষা প্রচারেও দিয়েছেন যথেষ্ট সক্রিয়তার পরিচয়। সমাজ-সচেতন প্যারীচাঁদ বিধবা-বিবাহকে সমর্থন করতেন এবং বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের ঘোর বিরোধী ছিলেন।

১৮৫৭ সালে প্রকাশিত হয় তার উপন্যাস ‘আলালের ঘরের দুলাল’। এটি বাংলা ভাষায় প্রথম উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃত। এ-উপন্যাসে তিনি যে-ভাষা ব্যবহার করেছেন, পরে তা ‘আলালী ভাষা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বলা হয়ে থাকে এই উপন্যাসে তিনি প্রথমবারের মতো বাংলা সাহিত্যের গদ্যরীতির নিয়ম ভেঙে চলিত ভাষারীতি প্রয়োগ করেন। উপন্যাসটি ‘দি স্পয়েল্ড চাইল্ড’ নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

এ ছাড়া তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে : মদ খাওয়া বড় দায়, জাত থাকার কী উপায় (১৮৫৯), রামারঞ্জিকা, কৃষিপাঠ, অভেদী, ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত, আধ্যাত্মিকা, বামাতোষিণী, যৎকিঞ্চিৎ, গীতাঙ্কুর ইত্যাদি।

তিনি বেশ কিছু ইংরেজি গ্রন্থও রচনা করেছিলেন। এর মধ্যে The Zemindar and Ryots এই গ্রন্থটি তখনকার সময়ে অনেক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। কারণ এটি রচিত হয়েছিলো চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।

প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮৮৩ সালের ২৩ নভেম্বর কলকাতায় মারা যান।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ জুলাই ২০১৭/রুহুল/টিপু