ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

বাণিজ্যসংক্রান্ত টাস্কফোর্স গঠন করছে সরকার

মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০১-১৭ ৪:৩৭:১৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-১৭ ৭:৪৮:৩৪ পিএম

সচিবালয় প্রতিবেদক : বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য দেশের চেম্বারগুলোর সমন্বয়ে বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় সরকার একটি টাস্কফোর্স গঠন করতে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের (ডিসিসিআই) প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে হালাল ফুড রপ্তানি, ভ্যাট সমস্যা, অবকাঠামোগত সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ডিসিসিআই কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে। এসব প্রস্তাবনা বাস্তবায়নে এই টাস্কফোর্স কাজ করবে।

এ সময় মন্ত্রী ভারতের সহযোগিতা কামনা করে পাট রপ্তানির ওপর অ্যান্টি ডাম্পিং প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘ভারত আমাদের প্রতিবেশী এবং সবচেয়ে কাছের বন্ধু। অনেক ক্ষেত্রে তাদের ওপর আমাদের নির্ভর করতে হয়। আমরা অনেক পণ্য তাদের কাছ থেকে আমদানি করি। আমরা পাটজাত পণ্য রপ্তানি করি। এই পণ্যের ওপর তারা অ্যান্টি ডাম্পিং আরোপ করে। এটি আসলেই উচিত নয়।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের কাছেও অনেক পণ্যে অ্যান্টি ডাম্পিং আরোপ করার প্রস্তাব আসে। কিন্তু আমরা তো তা করি না। কারণ ভারতের পণ্যের ওপর অ্যান্টি ডাম্পিং আরোপ করলে তো বন্ধুত্ব থাকে না। বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে আমরা আশা করি, ভারতও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে অ্যান্টি ডাম্পিং প্রত্যাহার করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশকে তামাক ও মদ ছাড়া সকল পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ডিউটি ও কোটা ফ্রি সুবিধা প্রদান করছে। অথচ তারা পাটপণ্য রপ্তানির উপর অ্যান্ডি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে। অনেক পণ্য রপ্তানির উপর শতকরা সাড়ে ১২ শতাংশ হারে কাউন্টার ভেলিং শুল্ক নিচ্ছে। ফলে বাংলাদেশে তৈরি পণ্য ভারতে রপ্তানির ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভারতে বাণিজ্য বিষয়ক একটি সম্মেলনে যাচ্ছি। ওই সম্মেলনে অ্যান্টি ডাম্পিং বিষয়ে আলোচনা করব।  বাংলাদেশ বিশ্বাস করে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ক্ষেত্রে সকল বাধা দূর করতে আন্তরিক হবে।

ভ্যাট নিয়ে ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার। ব্যবসায়ীগণ বিব্রত হন, ক্ষতিগ্রস্ত হন, এমন কোন পদক্ষেপ সরকার গ্রহণ করবে না। ব্যবসায়ীদের পরামর্শ গ্রহণ করে সরকার কাজ করছে। চাহিদা মোতাবেক সরকার ব্যবসায়ীদের সব ধরণের সহযোগিতা করে যাচ্ছে।’

ভ্যাটের জন্য পথে পথে গাড়ি আটকানো, বাসাবাড়িতে হানা দেওয়া ও ফ্যাক্টরিতে তালা দেওয়া ঠিক কাজ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একেবারে ধ্বংসস্তুপ থেকে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে জাতির জনকের অবদান তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যখন দেশের দায়িত্ব নেন তখন কিছুই ছিল না। বাংলাদেশ ছিল যুদ্ধ বিধ্বস্ত ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়ে। সেই জায়গা থেকে দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে একটি জায়গায় নিয়ে গেছেন। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিস্ময়কর উত্থান ও অভুতপূর্ব সাফল্যে অনেকেই ইর্ষান্বিত।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ২৫টি পণ্য বিশ্বের ৬৮টি দেশে রপ্তানি করে আয় করতো মাত্র ৩৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার,  বর্তমানে ১৯৬টি দেশে ৭২৯টি পণ্য রপ্তানি করে আয় হচ্ছে ৩৪.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগামী অর্থবছরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হবে ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ ২০০৫-৬ সালে দেশের রপ্তানি ছিল মাত্র ১০.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২১ সালে রপ্তানি লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আশা করছি রপ্তানি লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক, সামাজিকসহ সকল ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ২০০৫-৬ অর্থবছরে আমাদের মাথাপিছু আয় ছিল ৫৪৩ মার্কিন ডলার, এখন তা ১,৪৬৬ মার্কিন ডলার। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার এখন ৭.১১ শতাংশ, অর্থবছর শেষে তা ৭.৫ শতাংশ হবে। দারিদ্রের হার ২০০৬ সালে ছিল ৩৮.৪ শতাংশ, এখন তা ২৩.২ শতাংশে নেমে এসেছে এবং ২০০৬ সালে দেশে অতিদরিদ্র মানুষ ছিল ২৪.২ শতাংশ, এখন তা ১২.৯ শতাংশে নেমে এসেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘২০০৬ সালে স্বাক্ষরতার হার ছিল ৫২.৩ শতাংশ, আজ তা ৬৩.২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ২০০৬ সালে মানুষের গড় আয়ু ছিল ৬৫.৪ বছর, এখন তা হয়েছে ৭১.৬৩ বছর। ২০০৬ সালে  প্রতিহাজারে শিশু মৃত্যুর হার ছিল ৪৮.৪ জন, এখন তা কমে এসেছে ২৯ জনে। ২০০৫-০৬ সালে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৫,২৪৫ মেগাওয়াট এখন তা ১৫,০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন সকল ক্ষেত্রে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশ এখন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা অর্জন করেছে।’

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির নব-নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের প্রেসিডেন্ট আবুল কাশেম খান। উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, ডিসিসিআই’র সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট কামরুল ইসলাম, ভাইস-প্রেসিডেন্ট হোসেইন এ সিকদার, সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম রেজাউল কবীর, চেম্বার পরিচালক আতিক ই রাব্বানী, ইমরান আহমেদ, মামুন আকবার, রাশেদুল আহসান, হোসাইন আকতার, ইঞ্জিনিয়ার আকবার হাকিম, মো. আলাউদ্দিন মালিক, ওসমান গণি, রিয়াদ হোসাইন।  

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৭ জানুয়ারি ২০১৭/নঈমুদ্দীন/হাসান/মুশফিক/শাহনেওয়াজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন