ঢাকা, সোমবার, ১৩ মাঘ ১৪২৬, ২৭ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বাস কন্ডাক্টরের ছেলে ভারতকে জেতালেন এশিয়া কাপ

আবু হোসেন পরাগ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৯-১৫ ৪:১১:৩৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৯-১৫ ৪:১১:৩৬ পিএম

ক্রীড়া ডেস্ক : শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে শনিবার বাংলাদেশকে হারিয়ে সপ্তমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ শিরোপা জিতেছে ভারত। ভারতের জয়ের নায়ক বাঁহাতি স্পিনার  অথর্ব আনকোলেকার।

কলম্বোর ফাইনাল জিততে হলে ১০৬ রান ডিফেন্ড করতে হতো ভারতকে। সেটাই তারা করে দেখিয়েছে। ৫ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশকে। ২৮ রানে ৫ উইকেট নিতে যাতে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল আনকোলেকারের। ১৮ বছর বয়সি এই স্পিনার জেতেন ম্যাচসেরার পুরস্কারও।

আনকোলেকারের ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পথটা মোটেই সহজ ছিল না। যখন তার বয়স ৯ বছর, তখন মারা যান বাবা বিনোদ আনকোলেকার। একটা সময় বাবাই তাকে ক্রিকেটার হওয়ার জন্য উৎসাহিত করতেন। বাবার মৃত্যুটা তার জন্য ছিল তাই বড় ধাক্কা।

তার বাবা ছিলেন মুম্বাইয়ে সরকারি বাসের কন্ডাক্টর। স্বামী মারা যাওয়ার পর সেই জায়গায় বাস কন্ডাক্টরের চাকরিটা পান আনকোলেকারের মা বৈদেহি। সেখান থেকেই ছেলেকে পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রিকেটার করে তোলার লড়াই শুরু করেন মা।

একটা সময় ১৫ কিলোমিটার দূরে বাসে চেপে অনুশীলন করতে যেতে হতো আনকোলেকারকে। অনেক সময় প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়তেন। ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলতেন। তখন মা আবার অনুপ্রেরণা জোগাতেন ছেলেকে।

বাস কন্ডাক্টর মায়ের সেই সন্তানই এবার যুব এশিয়া কাপ জেতালেন ভারতকে। পুরো টুর্নামেন্টেই আনকোলেকার দারুণ পারফর্ম করেছেন। গ্রুপপর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৬ রানে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৬ রানে ৪ উইকেট। আর ফাইনালে ৫ উইকেট নিয়ে দলকে জেতালেন শিরোপা।

ছেলের এমন সাফল্যে খুশি মা বৈদেহি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, ‘আশা করি ওর বাবা এটা দেখেছেন। ও ওর বাবাকে আজ গর্বিত করেছে, ও আজ সবাইকে গর্বিত করেছে।’

স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে কতটা লড়াই করতে হয়েছে, বৈদেহি শোনালেন সেই গল্পটাও, ‘আমার স্বামীর মৃত্যুর পর আমি শিক্ষার্থীদের টিউশন করিয়ে সংসার চালিয়েছি। এরপর ২০১৪ সালে আমি বাসের চাকরিটা পাই। জীবনটা অনেক কঠিন ছিল।’

‘২০১০ সালে একবার আমি ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ও ক্রিকেট চালিয়ে যেতে চায় কি না; কারণ এটা ব্যয়বহুল খেলা। ও বলেছিল, ও চালিয়ে যেতে চায়। আমার সহকর্মী, বন্ধু এবং ওর কোচদের থেকে অনেক সহায়তা পেয়েছি আমি। সে কারণেই বাচ্চাদের বড় করতে পেরেছি।’

আনকোলেকারের ছোট ভাইও ক্রিকেটার। সে খেলে মুম্বাই অনূর্ধ্ব-১৪ দলে।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯/পরাগ