ঢাকা     সোমবার   ১০ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৬ ১৪২৭ ||  ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

বায়ু দূষণে বাড়ে করোনায় মৃত্যু ঝুঁকি

296 || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:২৯, ২৪ এপ্রিল ২০২০  
বায়ু দূষণে বাড়ে করোনায় মৃত্যু ঝুঁকি

গবেষণা বলছে, যে চারটি দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি, সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ মৃত্যু ঘটেছে অপেক্ষাকৃত বেশি বায়ু দূষণপূর্ণ এলাকায়।

গবেষণাটি ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এ প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতালি স্পেন ফ্রান্স এবং জার্মানির প্রশাসনিক ৬৬টি অঞ্চলের মধ্যে মাত্র ৫টি অঞ্চলে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার বেশি। সেগুলো তুলনামূলক সবচেয়ে দূষিত অঞ্চল। ফলে গবেষকদের দাবি- বায়ু দূষণ করোনায় মৃত্যুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক।

গবেষণায় সংশিষ্ট এলাকার বাতাসে নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়েছিল। পূর্বের অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্য ঝুঁকি; বিশেষ করে ফুসফুসের রোগের পেছনে নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইডের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ফলে যে এলাকার বায়ু দূষিত সেই এলাকায় কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে তার মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে।

গবেষক দলের একজন ‘মার্টিন লুথার ইউনিভার্সিটি’র ইয়ার্ন ওগেন বলেন, ‘পরিবেশকে বিষাক্ত করার অর্থই হলো, আমাদের দেহকে বিষাক্ত করা। আমাদের বিশ্লেষণটি বায়ু দূষণের সঙ্গে করোনাভাইরাসের যে সম্পর্ক রয়েছে তা প্রমাণ করে। তবে এটি কোনো প্রামাণ্য সম্পর্ক নয়।’ ওগেন এরপর প্রাথমিকভাবে ফুসফুসের প্রদাহজনক অবস্থার উন্নতি করে ভাইরাসটির প্রতিরোধ ব্যবস্থা করা যায় কিনা খতিয়ে দেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

এপ্রিলে প্রকাশিত পৃথক আরেকটি গবেষণায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা সূক্ষ্ম কণার মাধ্যমে বায়ু দূষণের দিকে নজর দিয়েছিলেন। তাতে দেখা গেছে, করোনার বেশ আগেও ওই অঞ্চলগুলোতে মৃত্যুর হার বেশি ছিল। সাম্প্রতিক আরেকটি পত্রিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, ইতালির উত্তরাঞ্চলে যেখানে মৃত্যুর হার বেশি সেখানে বায়ু দূষণও সর্বোচ্চ স্তরে ছিল।

বিজ্ঞান গবেষণা সাময়িকী ‘সায়েন্স অব টোটাল এনভায়রনমেন্ট’-এ প্রকাশিত নতুন গবেষণায় জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ৬৬টি প্রশাসনিক অঞ্চলের নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রার সঙ্গে ১৯ মার্চ পর্যন্ত কারোনায় মৃত্যুর তুলনা করা হয়েছে। সেসব অঞ্চলে কোথায় বায়ু দূষণ বেশি তারও একটি ম্যাপ তৈরি করেছেন তারা। দেখা যায়, ৪,৪৪৩ জনের মৃত্যুর মধ্যে শতকরা ৭৮ ভাগ হলেন উত্তর ইতালির চারটি অঞ্চলের এবং স্পেনের মাদ্রিদের আশেপাশের একটি অঞ্চলের। ওই পাঁচটি অঞ্চলের বায়ুতে নাইট্রোজেন- ডাই-অক্সোইডের মাত্রা এবং বায়ু প্রবাহের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।

ওগেন স্মরণ করিয়ে দেন, চীনের হুবেই প্রদেশ, যেখানে মহামারিটি শুরু হয়েছিল সেখানেও দূষিত বাতাস আটকে পড়েছিল। এজন্য মৃত্যু এবং আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে গিয়েছিল। লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোনাথন গ্রিন ওগেনের বক্তব্য সমর্থন করে বলেন, এই গবেষণা বায়ু দূষণের সঙ্গে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ানোর মধ্যে একটি সম্পর্ক স্থাপন করেছে ঠিকই কিন্তু করোনাভাইরাসের অন্যান্য কারণগুলোও অস্বীকার করা যায় না।

গ্রিন আশাব্যঞ্জকভাবে বলেন, এখন বিশ্বজুড়ে লকডাউন চলছে। এতে যানবাহন চলাচল সীমিত হওয়ায় বায়ু দূষণ হ্রাস পেয়েছে। এতে আর যাই হোক, মহামারির আগে নোংরা বাতাসের তুলনায় বর্তমান বায়ু দূষণের মাত্রা অনেক হ্রাস পেয়েছে যা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, যুক্তরাজ্যের শহরগুলোতে গত কয়েক দশক ধরে নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছে। হতে পারে এ কারণে সেখানে করোনায় মৃত্যুর হার বেশি।

এদিকে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা ডা. মারিয়া নায়রা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যেসব দেশে উচ্চমাত্রার দূষণ রয়েছে তাদের দ্রুত করোনা প্রতিরোধে প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি


ঢাকা/তারা

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়