ঢাকা, রবিবার, ১৪ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ মার্চ ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বিএসইসি চেয়ারম্যানের দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পায়নি দুদক

এম এ রহমান মাসুম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৮-২৬ ২:৫৪:০১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৮-২৬ ২:৫৭:০৩ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রাথমিক অনুষ্ঠানে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পায়নি দুদক। তাই এ পর্যায়ে অনুসন্ধান থেকে পিছু হটলো সংস্থাটি। ফলে চূড়ান্তভাবে অনুসন্ধান করবে না বলে ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

তার বিরুদ্ধে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ ছিল। যে কারণে ৭ আগস্ট সংস্থাটির গোয়েন্দা ইউনিট থেকে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছিল। এমনকি অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের একজন সহকারী পরিচালককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্যের কাছে জানতে চাইলে রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘দুদকের গোয়েন্দা কার্যক্রমের কোনো তথ্য আমাদের জানার সুযোগ নেই। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।’

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি কমিশনে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগকরাীর কোনো অস্তিত্ব নেই। অভিযোগকারী ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। এটি একটি ভুয়া অভিযোগ।’

অভিযোগের বিষয়বস্তু সম্পর্কে বলা হয়েছে, খায়রুল হোসেনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, এর কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত ২০ আগস্ট অভিযোগটি অস্বীকার করে খায়রুল হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আমি কোনো কাগজপত্র হাতে পাইনি। তবে এটুকু বলতে পারি, বাজারে অনেক কথাবার্তা থাকতে পারে। কোনো সিদ্ধান্ত চেয়ারম্যান হিসেবে এককভাবে নেয়া হয় না। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়ে থাকে।’

খায়রুল হোসেন দুর্বল কোম্পানির প্রাথমিক পাবলিক অফার (আইপিও) অনুমোদন করে শেয়ারবাজারে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করেছেন এমন অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে সংস্থাটি।

যদিও এ বিষয়ে শুরু থেকেই দুদক আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে অস্বীকার করে।

অভিযোগ রয়েছে, খায়রুল হোসেনের আট বছরের মেয়াদে প্রায় ৮৮টি আইপিও অনুমোদিত হয়। যার প্রায় অর্ধশত নিম্নমানের বলে অভিযোগ ওঠে। তার সময়ে বেশ কয়েকটি নিম্ন মানের কোম্পানি মিথ্যা তথ্য দিয়ে বার্ষিক আর্থিক বিবরণীতে উচ্চ মুনাফা দেখিয়ে সিকিউরিটিজ রেগুলেটরে আইপিও অনুমোদন করিয়ে নেয়। তালিকাভুক্ত হওয়ার পরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সংস্থার শেয়ারের সূচক নিচের দিকে যেতে শুরু করে। কোম্পানিগুলোর পূর্ববর্তী আয়ের রিপোর্টগুলো জাল ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শেয়ারবাজার সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বেঞ্চমার্ক ইনডেক্স, ডিএসইএক্স ৬০০ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে। যেখানে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা শেয়ারের বাজারমূল্য কমেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে মূল সূচকের অব্যাহত পতনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ করে আসছে। বিক্ষোভ চলাকালে ক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা বিএসইসির চেয়ারম্যান  খায়রুল হোসেনের পদত্যাগও দাবি করেছিলেন।

** শেয়ার কারসাজিতে বিএসইসি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ আগস্ট ২০১৯/এম এ রহমান/ইভা