ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বিজয়ের শেষ লগ্নে নিহত ৬ শতাধিক পাকসেনা

শাহ মতিন টিপু : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-১৫ ১:১৫:১৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-১৫ ২:১৭:১৩ পিএম

১৫ ডিসেম্বর। জেনারেল নিয়াজী বুঝে যান, মার্কিন সপ্তম নৌবহর তাদের সাহায্য করতে আসবে না। শেষ আশাও শেষ হয়ে যায় পাক হানাদারদের।

বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রায় চূড়ান্ত বিজয়ের কাছাকাছি। আকাশে-বাতাসে তার-ই পূর্বাভাস। ফলে ১৫ ডিসেম্বর সকালে সব আশা ছেড়ে দিল, শর্তসাপেক্ষে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব নিয়ে বিদেশি দূতাবাসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেন নিয়াজী। কিন্তু শর্তসাপেক্ষে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব ভারত সরকার প্রত্যাখ্যান করে।

ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশে অবস্থানরত পাক বাহিনীকে এই আশ্বাস দিতে রাজি যে, যুদ্ধবন্দীরা জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী ব্যবহার পাবেন। এতে আরও ভেঙ্গে পড়ে পাক হানাদাররা।

ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের কর্মীরা সেই প্রস্তাব পাঠিয়ে দেন দিল্লির মার্কিন দূতাবাসে। সেখান থেকে পাঠানো হয় ওয়াশিংটনে। এরপর ওয়াশিংটন ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাসের কাছে জানতে চায় নিয়াজীর এই প্রস্তাবে পাক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সমর্থন আছে কি না। প্রস্তাবের মূল কথা- ‘আমরা যুদ্ধ বন্ধ করেছি। তবে বাংলাদেশে অবস্থানরত গোটা পাক বাহিনীকে চলে যেতে দিতে হবে, কাউকে গ্রেপ্তার করা চলবে না।’

নিয়াজীর প্রস্তাব ছিল অনেকটা যুদ্ধবিরতির মতো, আত্মসমর্পণ নয়। কিন্তু মিত্রবাহিনী বিনাশর্তে আত্মসমর্পণ ছাড়া কিছুতেই রাজি নয়। এ জন্য ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টা পর্যন্ত সময় দেয়া হয়। আর এ পর্যন্ত ভারতীয় বিমান বাহিনী কোন আক্রমণ করবে না। এর মধ্যে আত্মসমর্পণের খবর না পেলে আবার আক্রমণ শুরু করা হবে।

একাত্তরের এই দিনে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে মুক্তিবাহিনীর ৭ নম্বর সেক্টরে যোগ দেন। শৃংখলা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং সাংগঠনিক ক্ষমতার কারণে অচিরেই সকলের শ্রদ্ধা ও বিস্ময় জাগিয়ে তোলেন। তিনি কোন বিশ্রাম না নিয়ে দিনের বেলা অপারেশনের পরিকল্পনা তৈরি করতেন এবং প্রতিরাতেই গেরিলাদের সঙ্গে অপারেশনে যেতেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ দখলের যুদ্ধে তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। মহানন্দা নদী পেরিয়ে তিনি একের পর এক শত্রু বাংকার দখল করে যখন প্রবল বিপদ উপেক্ষা করে এগুচ্ছিলেন তখন হঠাৎ মাথায় গুলি লাগে তার। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করেন।

এদিকে রণাঙ্গনে মুক্তিবাহিনী চট্টগ্রামে কুমিরার দক্ষিণে আরো কয়েকটি স্থান হানাদার মুক্ত করে। এদিন বগুড়া জেলা ও পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি শত্রুমুক্ত হয় ।

রাজধানী ঢাকার উপকন্ঠ গাজীপুরে সর্বশেষ সম্মুখ যুদ্ধটি হয় ১৫ ডিসেম্বর। মুক্তিযুদ্ধে গাজীপুরবাসীর বীরত্ব. অবিস্মরণীয়। যার প্রভাব পড়ে ঢাকায়ও।

ঢাকা সদর উত্তর ১১নং সাব সেক্টর অধিনায়ক মেজর আফছার উদ্দিন বাহিনী এবং ভালুকা, সিডস্টোর এবং টাঙ্গাইলে কাদেরিয়া বাহিনীর আক্রমণে বহু পাকসেনা নিহত ও আহত হয়। অন্যরা দ্রুত পালিয়ে গাজীপুর চান্দনায় চৌরাস্তায় জড়ো হয়ে কনভয় নিয়ে ছয়দানা নামক স্থানে পৌঁছা মাত্র পাক বাহিনীর কনভয় আক্রান্ত হয়। এতে ৬ শতাধিক পাকসেনা নিহত হয় এবং বেশ কিছু হানাদার বাহিনী আহত হয়। এ যুদ্ধে মিত্র বাহিনীর একজন অফিসার সহ কিছু সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

মূলত এটি মুক্তি বাহিনীর শেষ যুদ্ধ এবং ১৫ ডিসেম্বর গাজীপুর শত্রু মুক্ত হয়। ১৬ ডিসেম্বর পাক বাহিনীর আত্মসর্মপণের মধ্যদিয়ে চূড়ান্ত বিজয় সূচিত হয় লাল সবুজ পতাকার।


ঢাকা/টিপু

     
 
রাইজিংবিডি স্পেশাল ভিডিও