ঢাকা, শুক্রবার, ২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

বিমানবন্দরে গ্রিন ও রেড চ্যানেল সম্পূর্ণ চালু নতুন অর্থবছরে

কেএমএ হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৬-০৩ ৮:০২:৫৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৬-১৯ ৮:২৫:০৮ পিএম

কেএমএ হাসনাত : দেশের যেসব বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট উঠানামা করে সেসব  বিমানবন্দরে গ্রিন ও রেড চ্যানেল সম্পূর্ণ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে আগামী ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি প্রস্তাব দিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। একইসঙ্গে রাজস্ব ফাঁকি রোধে ব্যক্তি ও পণ্যের ঝুঁকি বিশ্লেষণের কথাও বলা হয়েছে ওই প্রস্তাবে।

সূত্র জানায়, এনবিআর আগামী ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের প্রস্তাবে ব্যক্তি ও পণ্যের ঝুঁকি বিশ্লেষণ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ব্যবস্থা চালু হলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে কোনো যাত্রী বাংলাদেশে আসার আগে তার ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হবে। একইসঙ্গে আমদানিকৃত পণ্য দেশে নিয়ে আসার আগেও এই পণ্যেরও ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হবে।

এ দুটো ব্যবস্থার নামকরণ হয়েছে ‘অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন’ (এপিআই) এবং ‘প্রি-অ্যারাইভেল প্রসেসিং’ (পিএপি)। এসবের উদ্দেশ্য হচ্ছে রাজস্ব ফাঁকি রোধ করা। আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাত্রীদের আসার আগেই এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাত্রীর তথ্য নেওয়া হবে। এর সাহায্যে যাত্রীর ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হবে। আর এ জন্য অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন (এপিআই), প্যাসেঞ্জারদের নামের রেকর্ড (পিএনআর) সিস্টেম চালু করা হবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসার পর যাত্রীদের গ্রিন চ্যানেল ও রেড চ্যানেল সম্পূর্ণভাবে চালু করার পরিকল্পনাও আগামী অর্থবছর থেকে বাস্তবায়ন করা হবে। পণ্যের ক্ষেত্রেও একই রকম বিষয় চালু করা হবে আগামী অর্থবছর থেকে। এ লক্ষ্যে একটি আইনি কাঠামোর খসড়া তৈরি করেছে এনবিআর। আগামী অর্থবছর থেকেই এটি কার্যকর করা হবে। এতে প্রি-এরাইভাল প্রসেসিং (পিএপি) বা পণ্য বন্দরে আসার আগেই বা আমদানির আগেই ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে তা শুল্কায়ন সমাপ্ত করা হবে। ফলে রাজস্ব ফাঁকি রোধের পাশাপাশি পণ্যও দ্রুত ছাড় করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া এনবিআর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের কৃষকেরা ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। ফলে হাওর এলাকায় অনেক কৃষক হতাশায় খেতে আগুন ধরিয়ে প্রতিবাদ করার সংবাদ ছাপা হচ্ছে। কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণে কৃষকদের উৎপাদিত ধান চালের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে চাল আমদানিতে বর্তমানে সর্বোচ্চ হারে শুল্ক আদায় করা হচ্ছে। এটি আগামী অর্থবছরেও অব্যাহত থাকবে।

আয়করের ক্ষেত্রে এনবিআর বলেছে, আগামী অর্থবছর ট্যাক্স জিডিপি অনুপাত ১৫ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ জন্য কর পরিপালন নিশ্চিতকরণ ও করনেটের আওতা বাড়ানো হবে। অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় নির্মিত ন্যাশনাল হাইওয়ে, এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সাবওয়ে ইত্যাদি অবকাঠামো খাতকে শর্তসাপেক্ষে যে কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, আগামী অর্থবছরও তা অব্যাহত থাকবে।

চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে নজর দেওয়া হচ্ছে। কোনো হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের জন্য বিশেষ সেবা সুবিধা না রাখলে বর্তমানে প্রযোজ্য করের ৫ শতাংশ অতিরিক্ত কর আরোপ করা হবে।

২০১৯-২০২০ অর্থবছরে কর অব্যাহতি যৌক্তিকীকরণের পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত অগ্রাধিকার খাতগুলোর জন্য কর প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হবে। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিমুখী কর তথ্য ইউনিট গঠন করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে এনবিআর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি দেশের অন্যান্য সিস্টেমের সাথে আন্তঃসংযুক্ত থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য লাভ করবে এবং কর ফাঁকি উদঘাটন ও করদাতা চিহ্নিতকরণে কাজ করবে।

এনবিআর মূসকের ব্যাপারে বলেছে, বর্তমানে কর জিডিপি অনুপাত ১০ এর কাছাকাছি। অন্যদিকে ভ্যাট-জিডিপি অনুপাত ৩ দশমিক ৬। অনলাইনভিত্তিক মূল্য সংযোজন কর ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে আগামী পাঁচ বছরে ভ্যাট-জিডিপি অনুপাত ৪ দশমিক ৭০ এ উন্নীত হবে বলে আশা করছে এনবিআর। এর ফলে দেশের কর-জিডিপি অনুপাতও বাড়বে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩ জুন ২০১৯/হাসনাত/সাইফুল

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন