ঢাকা, রবিবার, ১৪ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ মার্চ ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বিশ্ব মান দিবসের গুরুত্ব

শাহ মতিন টিপু : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৪ ১১:১৭:২৯ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১৪ ১১:১৭:২৯ এএম

পণ্য ও সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী কর্মরত বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের অবদানের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য বিশ্ব মান দিবসের অবতারণা। বিশ্ব মান দিবস আজ।

প্রতি বছর ১৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি উদযাপিত হয়। মূলত পণ্য-সেবার মান উন্নয়ন ও বজায় রাখার প্রতি কর্তৃপক্ষ, উদ্যোক্তা এবং ভোক্তাদের সচেতন করার উদ্দেশ্যেই দিবসটি পালন করা হয়।

১৯৪৬ সালের ১৪ অক্টোবর লন্ডনে ২৫টি দেশের প্রতিনিধিরা একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান নির্ধারক সংস্থার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন। দিনকে স্মরণীয় করে রাখতেই ‘১৪ অক্টোবর’ আজো মান দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। ১৯৭০ সাল থেকে আইএসও এই দিনটি পালন করে আসছে। প্রত্যেক বছরই দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় চলমান বিষয়াদিকে ঘিরে নির্ধারণ করা হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ভিডিও মান বৈশ্বিক সম্প্রীতির বন্ধন’।

অনেক প্রতিষ্ঠান মানহীন খাদ্যপণ্য উৎপাদন করে বাজারে ছাড়ছে। রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর নিয়মিত বাজার তদারকিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নকল ও ভেজাল পণ্য তৈরি এবং ওজনে কারচুপিসহ নানা অনিয়ম ধরা পড়ছে। মানহীন খাদ্যপণ্য নিয়ে আতঙ্কে থাকছেন ক্রেতারা। রাষ্ট্রায়ত্ত মান সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) পণ্যের মান নির্ধারণ ও নিশ্চিত করার কাজ করছে। কিন্তু সংস্থাটির জনবল সংকট ও সক্ষমতার অভাবে চাহিদা অনুযায়ী সেবার পরিধি বাড়াতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে আজ ৫০তম বিশ্ব মান দিবস উদযাপন করছে বাংলাদেশ।

মানুষের উদ্বেগ বেশি থাকলেও অনেক খাদ্যপণ্যে বিএসটিআইর নির্ধারিত মান নেই। বর্তমানে ১৮১টি পণ্যের মান নিশ্চিত করা বিএসটিআইর জন্য বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে মাত্র ৭৬টি খাদ্যপণ্য। বাকি খাদ্যপণ্যের মান নিশ্চিত করা বিএসটিআইর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবে বাধ্যতামূলক পণ্যের বাইরে অন্য পণ্যের গুণগত মান সঠিক কি-না তাও যাচাই করে বিএসটিআই। শুধুমাত্র কেউ চাইলেই এ সেবা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

বিএসটিআইর মহাপরিচালক মো. মুয়াজ্জেম হোসাইন জানিয়েছেন, সারাদেশে পণ্য ও সেবার মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংস্থার মাত্র ৪০০ জনবল রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এ জনবল দিয়ে বাধ্যতামূলক পণ্যের মান নিশ্চিত করাও অনেক ক্ষেত্রে দুরূহ।

বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুল হালিম পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

প্রদত্ত বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বায়নের এ যুগে সবার জন্য নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে ‘আন্তর্জাতিক মান’র ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় মান সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিএসটিআইর প্রধান কার্যালয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক অফিসগুলোয় আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনে বিশেষ সাক্ষাৎকারভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠান এবং বাংলাদেশ বেতারে আলোচনা অনুষ্ঠান সম্প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড লাগানো হয়।

দিবসটি উপলক্ষে আজ বিকাল ৩টায় তেজগাঁওয়ের বিএসটিআইর প্রধান কার্যালয়ে এক আলোচনাসভা হবে। ওই আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। বিশেষ অতিথি থাকবেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, এফবিসিসিআইর সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করবেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুল হালিম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বিএসটিআইর মহাপরিচালক মো. মুয়াজ্জেম হোসাইন।


ঢাকা/ শাহ মতিন টিপু