ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭, ০২ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বৃষ্টির ফোটাও দেখা যাচ্ছে বৃষ্টির ওপর!

মামুন চৌধুরী : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-৩০ ৩:০৩:৫৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-৩০ ৩:৩৩:২৪ পিএম

কয়েকদিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। হবিগঞ্জের চা বাগানগুলোর জন্য আশির্বাদ হয়ে এসেছে এ বৃষ্টি। গাছে গাছে গজাচ্ছে চা পাতার নতুন কুঁড়ি। শ্রমিক থেকে মালিক সকলের চোখেমুখেই খুশির ঝিলিক।

উচুঁ আর ঢালু স্থানে আড়াই থেকে তিন ফুট গাছে কুঁড়ি আসার জন্য বৃষ্টি ছিল অপরিহার্য। সেই কাঙ্খিত বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এরমধ্যে গাছের বড় কুঁড়িগুলো শ্রমিকরা সংগ্রহ করছেন। নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ফ্যাক্টরিতে। প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে। বিক্রির জন্য যাবে ওয়্যার হাউজে।

সূত্র জানায়, বাগানে ফসলটির উৎপাদন শুরু হবার কথা বছরের ১৫ মার্চ থেকে। কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছিল না। বর্তমানে বৃষ্টির দেখা পেয়ে করোনার মাঝেও হবিগঞ্জের বাগানগুলোতে সচল হয়েছে উৎপাদন কার্যক্রম।

দেশে লস্করপুর, সিলেট, জুড়ী, লংলা, মনু-ধলাই, বালিশিরা, চট্টগ্রামসহ ৭টি  ভ্যালির মাধ্যমে প্রায় ১৯০টি বাগানে চা উৎপাদন হয়ে আসছে। এর মধ্যে পঞ্চগড়ে কাজী এন্ড কাজী বাগানে অর্গানিক চা উৎপাদন হচ্ছে।

আর সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেট জেলার বাগানসহ দেশের অন্যান্য বাগানগুলোতে  ব্ল্যাক ‘টি’ উৎপাদন হচ্ছে সেই ব্রিটিশ আমল থেকে। সেই সময় থেকেই বছরের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় হতে চা-পাতার উৎপাদন শুরু হয়। সমাপ্ত হয় ডিসেম্বর মাসে। উৎপাদন শেষ হলে চা পাতার গাছগুলোর নানাভাবে পরিচর্যা করা হয়ে থাকে।

প্রতি মৌসুমে হবিগঞ্জের বাগানগুলো প্রায় ১ কোটি কেজি চা-পাতা উৎপাদন করে থাকে। নতুন করে চারা রোপণ করে চা-পাতার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বাগান কর্তৃপক্ষগুলো নানাভাবে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। নিয়মমাফিক বৃষ্টির সাথে রয়েছে চা-পাতা উৎপাদনের সম্পর্ক। অতি বৃষ্টি হলে হবে না। নিয়ম অনুয়ায়ী বৃষ্টির সাথে উৎপাদনের ভাল-মন্দ নির্ভর করে। এছাড়াও চা-পাতার উৎপাদন বাড়াতে বাগান কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শ্রমিকদের আন্তরিকতা বিরাট ভূমিকা রাখে।

যাই হোক বৃষ্টির সাথে সম্পর্ক রেখে হবিগঞ্জের বালিশিরা ও লস্করপুর ভ্যালির আওতাধীন হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের দেউন্দি, লালচান্দ, চন্ডিছড়া, চান্দপুর, পারকুলসহ ২৪টি, বাহুবলের আমতলী, ফয়জাবাদ, মধুপুরসহ ১০টি, নবীগঞ্জের দুটি ও মাধবপুর উপজেলার পাঁচটি বাগানের চা-পাতার উৎপাদন চলছে।

চুনারুঘাটের চন্ডিছড়া চা-বাগানের ব্যাবস্থাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। গাছে গাছে কুঁড়ি গজাচ্ছে। শ্রমিকরা আন্তরিকতার সাথে গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করছে। ফ্যাক্টরিতে নিয়ে এসে প্রক্রিয়াজাত করে চা পাতার উৎপাদন করা হচ্ছে।'

তিনি বলেন, ‘গড়ে ২৫ দশমিক ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত চাই। না হলে হবে না। চা বাগানে এখন সবুজ জেগে উঠেছে। যা দৃষ্টি ও হৃদয়কে দারুণভাবে মুগ্ধ করছে। এভাবে বৃষ্টিপাত হলে, চা-পাতা উৎপাদনে সহায়ক হবে। এরজন্য তাপমাত্রা চাই ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর মধ্যে।'

দেউন্দি চা-বাগানের শ্রমিক অনিল মুড়া বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে গাছ থেকে চা-পাতা সংগ্রহ করছি। এটা আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়। সব একই রকম লাগে। তবে বৃষ্টির পরে যে কুঁড়িগুলো বের হয় তা চকচকে সবুজ থাকে।'

 

হবিগঞ্জ/টিপু

       
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : হবিগঞ্জ, সিলেট বিভাগ