ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ মাঘ ১৪২৬, ২৮ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বেগম রোকেয়া দিবস আজ

নিউজ ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-০৯ ১১:২৫:৩১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-০৯ ১১:২৭:৫১ এএম

নারীদেরকে অন্ধকার কূপ থেকে টেনে আনতে যিনি সবার আগে নিজের হাত কূপের দিকে বাড়িয়েছিলেন, তিনি হলেন বেগম রোকেয়া। তাকে বলা হয় বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত।

বেগম রোকেয়া দিবস আজ। নারী জাগরণের পথিকৃত বেগম রোকেয়ার অবদানকে স্মরণ করে তার জন্ম ও মৃত্যুদিন হিসেবে ৯ ডিসেম্বরকে ‘রোকেয়া দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

দিবসটি বাংলাদেশে সরকারিভাবে একটি জাতীয় দিবস হিসেবেও বিবেচিত। গত শতাব্দীর উনিশ ও বিশ শতকের প্রথমে যেসব নারী লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, তাদের মধ্যে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন গভীরভাবে সমাজ সচেতন ও যুক্তিবাদী। অন্যদিকে সমাজ পরিবর্তনে একনিষ্ঠ সংগঠক।

তার উত্তর প্রজন্মের নারীরা তার কাছ থেকে পেয়ে আসছেন অনুপ্রেরণা। যা নারী জাগরণে এখনো এক প্রধান উৎসমূল। নারী জাগরণের কথা উঠলেই এই মহীয়সী নারী সর্বাগ্রে উদাহরণ হয়ে ওঠেন। মাত্র ৫৩ বছর বয়সে তিনি পরলোকগমন করেন।

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে, জমিদার পরিবারে। অল্প বয়সে বিহারের অধিবাসী ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

বেগম রোকেয়ার রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে- মতিচূর (প্রবন্ধ), sultana's dream (নকশাধর্মী রচনা), পদ্মরাগ (উপন্যাস), অবরোধবাসিনী (গদ্যগ্রন্থ) ইত্যাদি। এ ছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

ধর্মান্ধ সমাজে তখন নারী শিক্ষার ছিল নিষিদ্ধ যুগ । পরিবারের কঠোর অনুশাসনের পরও জ্ঞান অর্জনের অদম্য অনুরাগ এক সময় বেগম রোকেয়াকে নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে ২০০১ সালে জন্মভিটা রংপুরের পায়রাবন্দে গড়ে তোলা হয় বেগম রোকেয়ার স্মৃতি কেন্দ্র। শিক্ষার আলোর জন্য মহিয়সী এই নারীকে তাঁর জন্মভূমি পায়রাবন্দসহ সারাদেশেই সরকারি-বেসরকারিভাবে স্মরণ করা হচ্ছে।

এবারও রোকেয়া দিবসে সরকারিভাবে ৫ জন বিশিষ্ট নারী পাচ্ছেন ‘বেগম রোকেয়া’পদক। ইতোমধ্যে ‘বেগম রোকেয়া পদক’ ২০১৯ দেওয়ার জন্য পাঁচজন বিশিষ্ট নারী ব্যক্তিত্বকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন করেছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নারী জাগরণের ক্ষেত্রে সেলিনা খালেক, নারী শিক্ষায় অধ্যক্ষ শামসুন নাহার ও নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ড. নুরুননাহার ফয়জুন নেসাকে (মরণোত্তর) পদক দেওয়া হবে। এছাড়া নারীর অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে পাপড়ি বসু এবং নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য আখতার জাহান পদক পাবেন।

আজ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থেকে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট নারী ব্যক্তিত্ব বা তার পরিবারের প্রতিনিধিদের হাতে এ পদক তুলে দিবেন।



ঢাকা/শাহ মতিন টিপু