ঢাকা, বুধবার, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৪ জুলাই ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

উইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

আবু হোসেন পরাগ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-১২-১৪ ১১:৪০:০০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১২-১৫ ৮:০৬:৫৩ এএম
উইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে সিরিজ বাংলাদেশের
Voice Control HD Smart LED

আবু হোসেন পরাগ : তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ৫০ ওভারে ১৯৮/৯ (হেমরাজ ৯, হোপ ১০৮*, ব্রাভো ১০, স্যামুয়েলস ১৯, হেটমায়ার ০, পাওয়েল ১, চেজ ৮, অ্যালেন ৬, পল ১২, রোচ ৩, বিশু ৬*; মিরাজ ৪/২৯, মাশরাফি ২/৩৪, সাকিব ২/৪০, সাইফউদ্দিন ১/৩৮, মুস্তাফিজ ০/৩৩, মাহমুদউল্লাহ ০/১৪)।

বাংলাদেশ: ৩৮.৩ ওভারে ২০২/২ (তামিম ৮১*, লিটন ২৩, সৌম্য ৮০, মুশফিক ১৬*; পল ২/৩৮)।

মিরাজ-সৌম্য-তামিমে সিরিজ বাংলাদেশের

মেহেদী হাসান মিরাজের অসাধারণ বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৯৮ রানেই বেঁধে ফেলেছিল বাংলাদেশ। দারুণ ব্যাটিংয়ে বাকি কাজটা সেরেছেন তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকাররা। বাংলাদেশ ম্যাচ জিতেছে ৬৯ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখেই।

১০৪ বলে ৯ চারে ৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন তামিম। মুশফিকুর রহিম ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন। জয় থেকে ২৩ রান দূরে থাকতে ৮০ রান করে আউট হন সৌম্য।

প্রথম দুই ম্যাচে দুই দলই একটি করে জয় পাওয়ায় আজ শেষ ম্যাচটা হয়ে গিয়েছিল সিরিজ নির্ধারণী। যেখানে দাপুটে জয়েই ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ ওয়ানডে সিরিজ জয়। সব মিলিয়ে ২৪তম। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০১৪ সালের আগস্টের পর ১৩টি দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজের ১২টিই হারল। একটি ড্র হয়।     

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ এর আগে নিজেদের প্রথম টি-টোয়েন্টি আর টেস্ট- দুটিই হেরেছিল। বছরের শুরুর দিকে শ্রীলঙ্কার কাছে টি-টোয়েন্টি হারের পর কিছুদিন আগে জিম্বাবুয়ের কাছে হারে টেস্ট। এই মাঠের ওয়ানডে অভিষেকটা অবশ্য জয় দিয়েই রাঙিয়ে রাখল স্বাগতিকরা।

সৌম্যর দুর্দান্ত ইনিংস

দলের জয়ের জন্য দরকার ২৩, সৌম্য সরকারের সেঞ্চুরির জন্য ২০। অতি আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়ে অবশ্য আউট হয়ে গেলেন তিনি। কিমো পলের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৮১ বলে ৫টি করে চার ও ছক্কায় ৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। তামিম ইকবালের সঙ্গে তার দ্বিতীয় উইকেট জুটি ১৩১ রানের।

সৌম্যর বিদায়ের সময় ৩৫.২ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৭৬ রান। ৮০ রানে ব্যাটিং করা তামিমের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম।



তামিম-সৌম্য জুটির সেঞ্চুরি

ফ্যাবিয়ান অ্যালেনের তিন বলে দুই ছক্কা হাঁকালেন সৌম্য সরকার। তাতে তামিম ইকবালের সঙ্গে তার দ্বিতীয় উইকেট জুটির সেঞ্চুরিও পূর্ণ হলো। ১২৬ বলে ছুঁয়েছে জুটির সেঞ্চুরি। দলীয় ৪৫ রানে লিটন দাসের বিদায়ের পর জুটি বেঁধেছিলেন এই দুজন।

৩১ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৪৯ রান। তামিম ও সৌম্য দুজনই ৬২ রানে অপরাজিত আছেন। জয়ের জন্য ১৯ ওভারে আর ৫০ রান দরকার বাংলাদেশের।

সৌম্যর ফিফটি

তামিম ইকবালের পর ফিফটি তুলে নিয়েছেন সৌম্য সরকারও। ৬২ বলে ফিফটি করতে ৩টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। এটি তার সপ্তম ওয়ানডে ফিফটি।

রোচ-হোপের ম্যাচ শেষ

হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগায় ইনিংসের পঞ্চম ওভার শেষে মাঠ ছেড়েছিলেন কেমার রোচ। এই ম্যাচে আর খেলতে পারবেন না এই পেসার। ব্যাটিংয়ে ইনিংসের শেষ ওভারে ফিজিওর সেবাশুশ্রূষা নিতে হয়েছিল সেঞ্চুরিয়ান শাই হোপকে। এই ব্যাটসম্যানও ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন।

তামিমের টানা দ্বিতীয় ফিফটি

পরপর দুই ম্যাচে ফিফটি করলেন তামিম ইকবাল। ৪৬ থেকে লেগ স্পিনার দেবেন্দ্র বিশুকে সুইপ করে চার হাঁকিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ৬২ বলে ফিফটি করতে ৬টি চার হাঁকান তামিম।

বাংলাদেশের একশ

২০.৫ ওভারে দলীয় শতরান পূর্ণ করেছে বাংলাদেশ। ২১ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১০৫ রান। তামিম ইকবাল ৪৪ ও সৌম্য সরকার ৩৬ রানে অপরাজিত আছেন।

 



তামিম-সৌম্য জুটির ফিফটি

দ্বিতীয় উইকেটে ফিফটি রানের জুটি গড়েছেন তামিম ইকবাল ও সৌম্যর সরকার। ৫৪ বলে ছুঁয়েছে জুটির পঞ্চাশ। দলীয় ৪৫ রানে লিটন দাসের বিদায়ের পর জুটি বেঁধেছিলেন এই দুজন।

২০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৯৬ রান। তামিম ৪২ ও সৌম্য ২৯ রানে অপরাজিত আছেন। জয়ের জন্য ৩০ ওভারে ১০৩ রান দরকার বাংলাদেশের।

বাংলাদেশের পঞ্চাশ

১২.১ ওভারে দলীয় পঞ্চাশ পূর্ণ করেছে বাংলাদেশ। এই সময়ে বাংলাদেশ হারিয়েছে লিটন দাসের উইকেট (২৩)। তামিম ইকবাল ২২ ও সৌম্য সরকার ৫ রানে ব্যাট করছেন।

ভালো শুরুর পর আত্মঘাতী লিটন

লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশকে ভালো সূচনা এনে দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। কেমার রোচকে প্রথম ওভারেই দুই চারে স্বাগত জানান লিটন। এরপর আরো তিনটি দারুণ চার মারেন তিনি। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি। আরো একবার নিজের উইকেট প্রতিপক্ষকে উপহার দিয়ে এসেছেন।

পেসার কিমো পলের অফ স্টাম্পের বল পুল করতে গিয়েছিলেন লিটন। ঠিকমতো খেলতে পারেননি। মিড অনে সহজ ক্যাচ নেন রোভম্যান পাওয়েল। ৩৩ বলে ৫ চারে ২৩ রানে শেষ হয় লিটনের ইনিংস।

লিটনের বিদায়ে ভাঙে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। ১০.১ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৪৫ রান। ২২ রানে ব্যাটিং করা তামিমের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সৌম্য সরকার।

 



বাংলাদেশের সামনে মাঝারি লক্ষ্য

দারুণ বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুইশ পার করতে দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯৮ রান করেছে সফরকারীরা। অথচ ২২ ওভারে ২ উইকেটে ৯৬ রান তুলেছিল তারা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এটাই টেনেছেন শাই হোপ। টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি। আগের ম্যাচে ১৪৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে সিরিজে রেখেছিলেন। আজও তাকে আউট করতে পারেনি বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে নেমে শেষ পর্যন্ত ১৩১ বলে ৯ চার ও এক ছক্কায় ১০৮ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।

২৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার মেহেদী হাসান মিরাজ। মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসান ২টি করে, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন নেন একটি উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ৫০ ওভারে ১৯৮/৯ (হেমরাজ ৯, হোপ ১০৮*, ব্রাভো ১০, স্যামুয়েলস ১৯, হেটমায়ার ০, পাওয়েল ১, চেজ ৮, অ্যালেন ৬, পল ১২, রোচ ৩, বিশু ৬*; মিরাজ ৪/২৯, মাশরাফি ২/৩৪, সাকিব ২/৪০, সাইফউদ্দিন ১/৩৮, মুস্তাফিজ ০/৩৩, মাহমুদউল্লাহ ০/১৪)।

হোপের টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে একাই টানতে থাকা শাই হোপ তুলে নিয়েছেন দারুণ এক সেঞ্চুরি। ৯৪ থেকে সাকিব আল হাসানকে লং অফের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ১২১ বলে সেঞ্চুরি করতে ৯টি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান। পরপর দুই ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি করলেন তিনি।

এটি হোপের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি, সবগুলোই চলতি বছর। বাংলাদেশের সঙ্গে দুটি ছাড়া বাকি দুটি ভারত ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

মাশরাফির আরেকটি

আগের ওভারে নিয়েছিলেন ইনিংসে নিজের প্রথম উইকেট। নিজের পরের ওভারে আরেকটি উইকেট নিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ডানহাতি পেসারের নিচু হওয়া বলে এলবিডব্লিউ হয়েছেন কেমার রোচ। রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি।

৮ বলে ৩ রান করেন রোচ। তখন ৪৬ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৯ উইকেটে ১৭৭ রান। ওপেনিংয়ে নেমে তখনো ৯৩ রানে অপরাজিত শাই হোপ। এগারো নম্বরে নেমেছেন দেবেন্দ্র বিশু।

পলকে ফিরিয়ে মাশরাফির প্রথম

আক্রমণে ফিরে ইনিংসে নিজের প্রথম উইকেট পেয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ডানহাতি পেসারের স্লোয়ারে শট খেলতে গিয়ে বল মিস করে বোল্ড হন কিমো পল।

২২ বলে ১২ রান করে ফেরেন পল। তখন ৪৩.৫ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৭১ রান। ৯০ রানে ব্যাটিং করা শাই হোপের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন কেমার রোচ।

 



অ্যালেনকে ফিরিয়ে সাকিবের মধুর প্রতিশোধ

এক বল আগে সাকিব আল হাসানকে লং অন দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন ফ্যাবিয়ান অ্যালেন। এক বল পরই তাকে ফিরিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছেন সাকিব। বাঁহাতি স্পিনারকে সুইপ করেছিলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ডিপ স্কয়ার লেগ থেকে অনেকটা সামনে দৌড়ে এসে দারুণ এক ক্যাচ নেন মোহাম্মদ মিথুন।

১৭ বলে ৬ রান করেন অ্যালেন। তখন ৩৮ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ১৪৩ রান। ৭৫ রানে ব্যাটিং করা শাই হোপের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন কিমো পল।

চেজকে ফিরিয়ে সাকিবের প্রথম

৩ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়েছিলেন শাই হোপ ও রোস্টন চেজ। আক্রমণে ফিরিয়েই ৩৪ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি ভেঙেছেন সাকিব আল হাসান। বাঁহাতি স্পিনারকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে উড়াতে চেয়েছিলেন চেজ। কিন্তু সীমানা পার করতে পারেননি। লং অফে ক্যাচ নেন সৌম্য সরকার।

ইনিংসে এটি সাকিবের প্রথম উইকেট। ২০ বলে ৮ রান করে ফেরেন চেজ। তখন ৩৩.৩ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৩৩ রান। ৭২ রানে ব্যাটিং করা শাই হোপের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন দলে ফেরা ফ্যাবিয়ান অ্যালেন।

পাঁচ রান পেনাল্টি

২৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের অফ কাটার ব্যাটে খেলতে পারেননি রোস্টন চেজ। বল তার ব্যাট ও শরীরের মাঝের ফাঁক দিয়ে চলে যায় উইকেটের পেছনে। বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু বল তার গ্লাভস ছুঁয়ে গিয়ে আঘাত করে কিছুটা পেছনে থাকা হেলমেটে। নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশকে পাঁচ রান পেনাল্টি করেন আম্পায়ার। মানে পাঁচ রান ‘উপহার’ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

মিরাজের সেরা বোলিং

নিজের কোটার শেষ ওভারের শেষ বলে রোভম্যান পাওয়েলকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। ১০ ওভারে ২৯ রানে ৪ উইকেট নেন এই অফ স্পিনার। ২২ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটাই তার সেরা বোলিং। গত অক্টোবরে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪৬ রানে ৩ উইকেট ছিল মিরাজের আগের সেরা।

 



রোভম্যানকে ফিরিয়ে মিরাজের চতুর্থ

আগের ওভারে ফিরিয়েছিলেন শিমরন হেটমায়ারকে। নিজের পরের ওভারে এসে আবার উইকেট নিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অফ স্পিনারের অফ স্টাম্পের বল ডিফেন্ড করতে চেয়েছিলেন রোভম্যান পাওয়েল। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে জমা হয় উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে।

রোভম্যান ৯ বলে করেন ১ রান। একটা সময় ২ উইকেটে ৯৬ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ তখন ৫ উইকেটে ৯৯ রান, ২৫.৫ ওভারে। ৩ রানের মধ্যে পড়েছে ৩ উইকেট। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেটে এসেছেন রোস্টন চেজ। ওপেনিংয়ে নেমে একপ্রান্তে ৫৫ রানে অপরাজিত আছেন শাই হোপ।

আরেকবার মিরাজের শিকার হেটমায়ার

টেস্ট সিরিজে চার ইনিংসে চারবার। এরপর প্রথম ওয়ানডেতেও শিমরন হেটমায়ারকে আউট করেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তার উইকেটটা পেয়েছিলেন শুধু রুবেল হোসেন। শেষ ম্যাচে আবার মিরাজের শিকারে পরিণত হলেন হেটমায়ার। মানে সাত ইনিংসে ছয়বার!

আগের ওভারে মারলন স্যামুয়েলসকে ফিরিয়ে দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। হেটমায়ার উইকেটে আসায় পরের ওভারে মিরাজকে আক্রমণে ফেরান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। অধিনায়কের সিদ্ধান্তটা কাজে লাগে দারুণভাবে। রাউন্ড দ্য উইকেটে করা অফ স্পিনারের বলে এলবিডব্লিউ হন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

হেটমায়ার ৬ বলে শূন্য করে ফেরার সময় ২৩.৫ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৯৭ রান। ৫৪ রানে ব্যাটিং করা শাই হোপের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল।

স্যামুয়েলসকে ফিরিয়ে সাইফউদ্দিনের প্রতিশোধ

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের প্রথম ওভারে দুটি চার হাঁকিয়েছিলেন মারলন স্যামুয়েলস। নিজের পরের ওভারে এসেই স্যামুয়েলসকে আউট করে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছেন সাইফউদ্দিন। ডানহাতি পেসার দিয়েছিলেন অফ কাটার। শট খেলতে চেয়েছিলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। বল ব্যাটের কানায় লেগে উপড়ে নিয়ে যায় স্টাম্প।

৩২ বলে ২ চারে ১৯ রান করে ফেরেন স্যামুয়েলস। তার বিদায়ে ভাঙে ৩৯ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি। তখন ২২.২ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৯৬ রান। ৫৩ রানে ব্যাটিং করা শাই হোপের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন শিমরন হেটমায়ার।

 



হোপের ফিফটি

আগের ম্যাচে করেছিলেন দারুণ এক সেঞ্চুরি, খেলেছিলেন অপরাজিত ১৪৬ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। শাই হোপ পরের ম্যাচে করলেন ফিফটি। ৫৫ বলে ফিফটি করতে ৬টি চার হাঁকান ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

২০ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৮৩ রান। হোপ ৫০ ও মারলন স্যামুয়েলস ৯ রানে অপরাজিত আছেন।

ব্রাভোকে ফিরিয়ে মিরাজের দ্বিতীয়

ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে দ্বিতীয় আঘাত হেনেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ড্যারেন ব্রাভোকে ফিরিয়ে ৪২ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভেঙেছেন তিনি। অফ স্পিনারকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলতে চেয়েছিলেন ব্রাভো। বল মিস করে বোল্ড হন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

ব্রাভো ২৬ বলে একটি চারে করেন ১০ রান। ১৩.৪ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ তখন ২ উইকেটে ৫৭ রান। শাই হোপের নতুন সঙ্গী মারলন স্যামুয়েলস। প্রথম দুই উইকেটই নিয়েছেন মিরাজ।

প্রথম উইকেট মিরাজের

প্রথম দুই ম্যাচেই দুই প্রান্ত থেকে স্পিন দিয়ে বোলিং শুরু করেছিল বাংলাদেশ। আজ বোলিং আক্রমণ শুরু করেন অবশ্য পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। তবে প্রথম সাফল্য এসেছে স্পিনারের হাত ধরেই।

চতুর্থ ওভারে বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অফ স্পিনারের অফ স্টাম্পের বল ব্যাকফুটে গিয়ে কাট করেছিলেন চন্দ্রপল হেমরাজ। পয়েন্টে নিচু ক্যাচ নেন মোহাম্মদ মিথুন।

হেমরাজ ১৭ বলে ২ চারে করেন ৯ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ১৫ রানে। উইকেটে শাই হোপের সঙ্গী ড্যারেন ব্রাভো।

 



দুই পরিবর্তনের বাংলাদেশ

আগের ম্যাচ থেকে বাংলাদেশের একাদশে দুটি পরিবর্তন এসেছে। প্রথম দুই ম্যাচে রান না পাওয়ায় বাদ পড়েছেন ইমরুল কায়েস। তার জায়গায় এসেছেন মোহাম্মদ মিথুন। এ ছাড়া রুবেল হোসেনের জায়গায় খেলছেন পেস অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

বাংলাদেশ একাদশ

তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ মিথুন, মাহমুদউল্লাহ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), মুস্তাফিজুর রহমান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের একটি পরিবর্তন

ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাদশে একটি পরিবর্তন এসেছে। পেসার ওশানে টমাসকে ছাড়া খেলতে নামছে সফরকারীরা। তার জায়গায় এসেছেন আরেক পেসার ফ্যাবিয়ান অ্যালেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ

চন্দ্রপল হেমরাজ, শাই হোপ, ড্যারেন ব্রাভো, মারলন স্যামুয়েলস, শিমরন হেটমায়ার, রোভম্যান পাওয়েল (অধিনায়ক), রোস্টন চেজ, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, কিমো পল, দেবেন্দ্র বিশু, কেমার রোচ।

হাবিবুলকে ছাড়িয়ে মাশরাফি

আগের ম্যাচেই ছুঁয়েছিলেন হাবিবুল বাশারকে। পূর্বসূরিকে ছাড়িয়ে এবার বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দেওয়ার রেকর্ডটা নিজের করে নিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। অধিনায়ক হিসেবে এটি মাশরাফির ৭০তম ওয়ানডে। হাবিবুল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ৬৯ ওয়ানডেতে।

দেশের হয়ে মাশরাফির দুইশ

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস করতে নেমেই অন্যরকম এক ডাবল সেঞ্চুরি করে ফেললেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। দেশের হয়ে যে এটি মাশরাফির ২০০তম ওয়ানডে। অবশ্য মাশরাফির ক্যারিয়ারের ২০২তম ওয়ানডে এটি। ২০০৭ সালে এশিয়া একাদশের হয়ে দুই ম্যাচ খেলেছিলেন নড়াইল এক্সপ্রেস।

টস

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের অভিষেক ওয়ানডেতে টস জিতেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। আগে বোলিং নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ম্যাচ শুরু দুপুর ১২টায়।

 



চার বছরের খরা ঘোচাতে মরিয়া উইন্ডিজ

২০১৪ সালের আগস্টে দেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশকে। এরপর থেকে তারা কোনো ওয়ানডে সিরিজ জেতেনি। পরের চার বছরে তারা ১২টি দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলে ১১টিতেই পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে। এর মধ্যে গত জুলাই-আগস্টে দেশের মাটিতে বাংলাদেশের কাছে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এবার বাংলাদেশ সফরে এসে প্রথম ওয়ানডে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজ বাঁচিয়ে রাখে তারা। তিন ম্যাচের সিরিজে এখন ১-১ সমতা। শেষ ম্যাচটা জিতে চার বছর সিরিজ জিততে না পারার আক্ষেপ ঘোচাতে মরিয়া ক্যারিবীয়রা।

ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল বলেছেন, ‘এটা এখন সবার মুখে মুখে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনেক দিন ধরে কোনো ওয়ানডে সিরিজ জেতেনি। আর সেটা পরিবর্তন আনার এটা দারুণ একটা সুযোগ। আগামীকাল তা করতে ছেলেরা উজ্জীবিত ও আত্মবিশ্বাসী।’

জয়ে বছর শেষ করতে চায় বাংলাদেশ

চলতি বছর এটাই বাংলাদেশের শেষ ওয়ানডে ম্যাচ। এ বছর এখন পর্যন্ত ১৯ ওয়ানডের মধ্যে ১২টি জিতেছে বাংলাদেশ। বছরের শেষ ম্যাচটাও জয়ে রাঙাতে চায় মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। আর সেটা হলে বাংলাদেশ জিতবে সিরিজও।

ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মাশরাফি বলেছেন, ‘জয় দিয়ে শেষ করতে পারলে ভালো হবে। প্রথম ম্যাচের পর বলেছিলাম, এ বছরের জয়ের হার বেশ ভালো। তাই জয় দিয়ে শেষ করতে পারলে খুব ভালো হবে। সব মিলিয়ে আমার কাছে মনে হয় আমাদের ওয়ানডে ফরম্যাট বেশ ভালো গিয়েছে। শেষটাও জয়ী দল হিসেবে থাকতে পারলে ভালো হবে।’

‘সিরিজ জিততে আমাদের সেরা ক্রিকেটটা খেলতে হবে। যদিও ম্যাচটি ডু অর ডাই পজিশন। এরকম ম্যাচ আমরা আগেও জিতেছি। সেই আত্মবিশ্বাস আমাদের কাজে লাগবে। এ ম্যাচটা জিততে পারলে পরবর্তী সিরিজে আমাদের আত্মবিশ্বাস ভালো থাকবে। টি-টোয়েন্টি যে সিরিজটি হবে, সেটাতে অনেক সাহায্য করবে’ – বলেন মাশরাফি।

ভাগ্য ফিরবে ওয়ানডে অভিষেকে

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ এর আগে নিজেদের প্রথম টি-টোয়েন্টি আর টেস্ট- দুটিই হেরেছে। বছরের শুরুর দিকে শ্রীলঙ্কার কাছে টি-টোয়েন্টি হারের পর কিছুদিন আগে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছে টেস্ট। এই মাঠের ওয়ানডে অভিষেক আজ। উপলক্ষটা জয়ে রাঙাতে পারবে বাংলাদেশ?

কার মুখে শেষ হাসি

মিরপুরে প্রথম ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সহজেই ৫ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে হয় দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। শাই হোপের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ৪ উইকেটে জিতে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিলেটে আজ তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটা তাই সিরিজ নির্ধারণী। কে হাসবে শেষ হাসি- বাংলাদেশ না ওয়েস্ট ইন্ডিজ? জবাব দেবে সময়ই।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ ডিসেম্বর ২০১৮/পরাগ

Walton AC
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       

Walton AC
Marcel Fridge