ঢাকা, সোমবার, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬, ২২ জুলাই ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ভাঙা ব্যাটে ক্রিকেটার, অবশেষে সফল অলরাউন্ডার

মহিউদ্দিন অপু : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-১২-০৯ ৮:৩৯:০১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১২-১০ ৮:১০:১০ এএম
ভাঙা ব্যাটে ক্রিকেটার, অবশেষে সফল অলরাউন্ডার
Voice Control HD Smart LED

মহিউদ্দিন অপু : কথায় আছে, ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। উপায়ের জন্য ইচ্ছের সঙ্গে চেষ্টাও থাকতে হয়। বারবার ব্যর্থ হয়েও হতাশ না হয়ে ইচ্ছে, আশা ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রমী অনুশীলনই একজন মইনুলকে সফলতা এনে দিয়েছে।

উপকূলীয় বরগুনা জেলার চরকলোনী গ্রামের মইনুল ইসলাম মঈন। শৈশব থেকেই যার স্বপ্ন ছিল লাল-সবুজ পতাকাটাকে বহন করে বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার হবে। প্লাস্টিকের খেলনা ব্যাট, ছোট কাঠের ব্যাট, রাবার ও টেনিস বলে প্রাথমিক ক্রিকেট শুরু হয় তার। মহল্লার শর্টপিচ থেকে স্কুলের ফুলপিচে পা দিতেই ক্রিকেটার হবার স্বপ্নটা বাড়তেই থাকে তার।

বরগুনা কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে স্থানীয় স্কুল টুর্নামেন্ট খেলার জন্য জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে একটি ভাঙা ক্রিকেট ব্যাট সংগ্রহ করে মেরামত শেষে স্কুল টুর্নামেন্টে প্রশংসনীয় রান করেন তিনি। ভাঙা ব্যাটে ভালো খেলে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নটাকে সেদিনই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিলেন তিনি। আস্তে আস্তে সংগ্রহ করা শুরু করলেন স্থানীয় ক্রিকেট খেলোয়াড়দের ফেলে দেয়া খেলার পুরাতন সরঞ্জামাদি। লালন করতে থাকলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একজন ক্রিকেটার হওয়ার আশা-আকাঙ্ক্ষা।

মইনুলের দৃঢ় প্রত্যয়ে স্কুল জীবনেই বরগুনা জেলা ক্রিকেট দলের সদস্য হওয়ার সুগম পথ সৃষ্টি করে দেয়। অনূর্ধ্ব-১৩ থেকে শুরু করে অনূর্ধ্ব-১৮ এর নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে বরগুনা জেলার অন্যতম একজন ক্রিকেটার হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। পরিবারের সমর্থন পুরোপুরি না থাকলেও সারাদিন ব্যাট, প্যাড, বল, গ্লাভস নিয়ে ক্রিকেট অনুশীলনে নিজেকে ব্যস্ত রাখলেন তিনি। জেলা দলের সদস্য হওয়ার পর থেকে লেখাপড়া, পরীক্ষা কিংবা বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠান বাদ গেলেও প্রত্যহ ক্রিকেট অনুশীলন বাদ যায়নি তার।

২০০৬ সালে বরগুনা জেলা ক্রিকেট অনূর্ধ্ব-১৩ দলের হয়ে মইনুল ইসলাম মঈনের ক্রিকেটার জীবন শুরু হয়। এরপর অনূর্ধ্ব-১৪, ১৬ ও ১৮ খেলেন তিনি। অনূর্ধ্ব-১৮ তে তিনি বরিশাল বিভাগ থেকে ন্যাশনাল রাউন্ডে সর্বোচ্চ রান করেন। একই সঙ্গে বোলিং করে ২য় সর্বোচ্চ উইকেটও পান এবং বাংলাদেশ জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলেও নিয়মিত খেলার সুযোগ পান।

ইতোমধ্যে ২১ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার ঢাকা প্রথম বিভাগীয় ক্রিকেটে শেখ জামাল ক্লাব, বাংলা বয়েজ, ইন্দিরা রোড কেসি, সূর্য তরুণ ক্রিকেট ক্লাব, সিটি ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। সর্বশেষ ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ ২০১৮-২০১৯ মৌসুমে সিটি ক্লাবের হয়ে লিগে সফল অলরাউন্ডার এর ভূমিকা পালন করেন তিনি।

মইনুল জানান, এ বছর ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে তিনি সিটি ক্লাব হয়ে খেলেন। লিগ শেষে তার মোট রানের সংখ্যা দাড়ায় ৫৪০ এবং মোট উইকেট পেয়েছেন ২১টি। তিনি আরো জানান, লিগের গ্রুপ পর্যায়ে কলাবাগান ক্লাবের সঙ্গে তিনি ৬২ রান, র‍্যাপিড ফাউন্ডেশন ক্লাবের সঙ্গে ৮৫ রান, মোহাম্মদপুর ক্লাবের সঙ্গে ৫৭ রান এবং সুপারলিগের খেলায় রূপগঞ্জ টাইগার্স এর সঙ্গে ৫০ রান করেন। এছাড়াও শেষ ম্যাচে কলাবাগান ক্লাবের সঙ্গে ৯১ রান ও র‍্যাপিড ফাউন্ডেশন ক্লাবের সঙ্গে বোলিং করে ৫ উইকেট অর্জন করেন তিনি।

মইনুল বলেন, আলহামদুলিল্লাহ্‌ এবার লিগে অনেকটাই ভালো খেলার চেষ্টা করেছি। ৫টা হাফ-সেঞ্চুরি করেছি। সবমিলিয়ে এবার ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে সফল অলরাউন্ডারের ভূমিকা পালন করতে পেরেছি। পরবর্তী বছর ইনশাআল্লাহ প্রিমিয়ার লিগ খেলার চেষ্টা করবো।

বরগুনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ও জেলা ক্রিকেট দলের কোচ নাজমুল ইসলাম বলেন, মইনুলের জেলা পর্যায়ের ক্রিকেট আমার হাত ধরেই শুরু হয়। ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে তার এই সাফলতার আনন্দ শুধুমাত্র সিটি ক্লাবেরই নয়, এ সফলতার আনন্দ আমার, বরগুনা জেলা ক্রীড়া সংস্থসহ বরগুনাবাসী সবার।

বরিশাল বিভাগীয় ক্রিকেট দলের কোচ তাসরিকুল ইসলাম টোটাম বলেন, মইনুল ইসলামের এই সাফল্য আমায় অনেক আনন্দিত করেছে। মইনুল একজন পরিশ্রমী ক্রিকেটার। মইনুল অনূর্ধ্ব-১৪, ১৬, ১৮ দলে খেলার সুযোগ পেতে বার বার ব্যর্থ হয়েও কখনো হতাশ হয়নি। চেষ্টা ও পরিশ্রমের কারণে অবশেষে সে তার লক্ষ্য জয় করেছে। বাংলাদেশের অলরাউন্ডার ক্রিকেট তারকা সাকিব আল-হাসানের সঙ্গে প্রায়ই মইনুলকে তুলনা করে থাকি। কারণ ব্যাটিং ও বোলিং সব দিক থেকেই সে নিঃসন্দেহে তরুণদের মধ্যে একজন ভালো মানের অলরাউন্ডার।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৯ ডিসেম্বর ২০১৮/ফিরোজ

Walton AC
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       

Walton AC
Marcel Fridge