ঢাকা, শনিবার, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

মনে পড়ে রানা, মনে পড়ে সেতু

আব্দুল্লাহ এম রুবেল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৬ ৮:৪৫:৩৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৩-১৭ ৯:৫৬:৪৫ এএম
মনে পড়ে রানা, মনে পড়ে সেতু

আব্দুল্লাহ এম রুবেল : বাংলাদেশের ক্রিকেটের সেই শোকগাথা দিন আজ। ১৬ মার্চ, ২০০৭ বাংলাদেশের ক্রিকেটে হঠাৎই এক দমকা খবর। না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন তরুণ উদীয়মান ক্রিকেটার মানজারুল ইসলাম রানা। সাথে আরেক ক্রিকেটার সাজ্জাদুল হাসান সেতু। এই দুই ক্রিকেটারকে হারিয়ে ফেলার আজ ১১ বছর হতে চলল। প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই এই দিনে বিদায় নিতে হয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্রকে। মনে পড়ে মানজারুল ইসলাম রান, মনে পড়ে সাজ্জাদুল হাসান সেতু। কেমন আছিস ওপারে তোরা।

রানা সেতুর চলে যাওয়ার দিনে আজও মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। নিদহাস ট্রফির ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে টাইগাররা। মারা না গেলে হয়তো থাকতে পারতেন এই দলেরই একজন হয়ে। তবে মাঠে দেখা না গেলেও হয়তো রানা মাঠে থাকবেন প্রতিটি খেলোয়াড়ের সাথে অদৃশ্য হয়ে। মাঠে অদৃশ্যভাবেই অনুপ্রেরণা জাগাতে পারেন সব খেলোয়াড়দের। যেমনটি হয়েছিল রানা মারা যাওয়ার পরদিন। বিশ্বকাপে সেদিন রানাকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে ভারতকে হারিয়েছিল হাবিবুল বাশারের দল। সেদিন মাঠে দলের অনুপ্রেরণা ছিলেন তিনি। আজও তবে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুন মানজারুল রানা।

মানজারুল ইসলাম রানা এদেশের প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের একজন ছিলেন। মারা যাওয়ার আগে লাল সবুজ জার্সিতে ৬টি টেস্ট আর ২৫টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন রানা। রানা না থাকলেও বাংলাদেশের ক্রিকেট কিন্তু আজ রানার স্বপ্ন দেখা পথেই। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশকে আজ বিশ্ব ক্রিকেট সমীহ করে।
১৬ মার্চ বাংলাদেশের ক্রিকেট আলাদা করেই মনেই রাখে। মাঠের ক্রিকেটে রানাই যেন ফিরে আসেন এই দিন দলের ছায়া খেলোয়াড় হয়ে। অদৃশ্য থেকেই অনুপ্রেরণা আর উৎসাহ যোগান সতীর্থ ক্রিকেটারদের। ২০০৭ সালের যেদিন রানা দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজে বিশ্বকাপ খেলছিলো বাংলাদেশ দল। পরদিন রানার মৃত্যুশোককে শক্তিতে পরিণত করে ভারতের বিপক্ষে জয় পায় বাংলাদেশ। এরপর যখনই এই দিনে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল মাঠে নামে, একেবারে হতাশ হতে হয় না। রানাই হয়তো ওপার থেকে বাংলাদেশের হয়ে খেলে থাকেন।

২০০৭ সালের এই দিনে রানা যখন পরপারে, পরদিন মাঠে নামে বাংলাদেশ। ওই দিন মাঠে নামা কোনো ক্রিকেটারের মনে হয়নি মানজারুল মাঠে নেই। ছিলেন দলের ছায়াসঙ্গী হয়ে। আধুনিক যুগের খেলায় কোনো ক্যামেরায় হয়তো তিনি ধরা পড়েননি। কিন্তু প্রতিটি ক্রিকেটারের সঙ্গে মাঠেই ছিলেন, বিশ্বাস ছিল পোর্ট অব স্পেনে মাঠে নামা ক্রিকেটারদের। ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ সেদিন প্রমাণ করেছিলেন তার আধ্যাত্মিক উপস্থিতি।

আজ শ্রীলঙ্কায় কলম্বোর এম প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে নিদহাস ট্রফির ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে উঠতে পারবে বাংলাদেশ? আজও কি অনুপ্রেরণা হতে পারেন না মানজারুল রানা?

১৯৮৪ সালের ৪ জানুয়ারি খুলনায় জন্মগ্রহণ করা মানজারুল ইসলাম রানার বাংলাদেশ দলে টেস্ট অভিষেক ঘটে ২০০৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তার আগেই হয় ওয়ানডে অভিষেক। দেশের হয়ে ৬টি টেস্ট আর ২৫টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলা খুলনার ছেলে রানা ও ৫০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা সেতু আজও আমাদের উপলব্ধিতে।

 

 

রাইজিংবিডি/খুলনা/১৬ মার্চ ২০১৮/রুবেল/আমিনুল

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন