ঢাকা, রবিবার, ৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

মস্তিষ্ক এবং হৃদযন্ত্রের কাজ

মোঃ আমিরুল ইসলাম প্রামাণিক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২৪ ৪:২৫:২৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৯-২৪ ৪:২৫:২৯ পিএম

মোঃ আমিরুল ইসলাম প্রামাণিক: যারা বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন নি তাদের পক্ষে মানব মস্তিষ্ক এবং হৃদযন্ত্রের কাজ কী তা জানার কথা নয়। কিন্তু বিজ্ঞানের বাইরে থাকা অনেক মানুষ এ সম্পর্কে ধারণা না থাকার কারণে প্রতিনিয়ত নানা সমস্যায় ভুগছেন। মানুষ হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই এ সম্পর্কে ধারণা থাকা বাঞ্ছনীয়। শরীর সুস্থ রাখার জন্য এ বিষয়ে আমাদের ধারণা থাকলে তা থেকে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আমরা অনেক উপকার পেতে পারি। তাছাড়া মানব মনের সাথে এ দু’টি যন্ত্রের যোগসূত্র রয়েছে। মস্তিষ্ক মনের সমুদয় কার্যাবলী পরিচালনা করে এবং হৃদযন্ত্র মস্তিষ্ককে এসব কাজে সাহায্য করে। এ দু’টি যন্ত্র ঠিকঠাক কাজ না করলে মানব মনে অনেক ধরনের গোলযোগ দেখা দেয়। মনের সতেজতা ও ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে এ দু’টি যন্ত্রের ভূমিকা অপরিসীম। এজন্য অতি সংক্ষেপে আপনাদের সদয় অবগতির জন্য মানব মস্তিষ্ক এবং হৃদযন্ত্রের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এবং তাদের কাজ তুলে ধরছি-

মস্তিষ্ক : মস্তিষ্ককে তিনভাগে বর্ণনা করা হয়েছে এবং তা হচ্ছে-
এক. মস্তিষ্কের উপরের ও সম্মুখ ভাগের অংশ (Fore Brain): এই অংশে থাকে মহামস্তিষ্ক বা প্রধান মস্তিষ্ক। মহামস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম হচ্ছে মগজ বা ঘিলুর বৃহৎ অংশ। সেরিব্রামের উপরের অংশে থাকে ধূসর বর্ণের পদার্থ (Grey Matter) ও ভিতরের দিকে থাকে সাদা বর্ণের পদার্থ (White Matter)। যাকে চলতি কথায় আমরা মগজ বা ঘিলু বলি। আমাদের জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেচনা, চিন্তা, কর্ম, অনুভূতি, ইচ্ছাশক্তি, বাকশক্তি, দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ প্রভৃতির মূল কেন্দ্র এখানেই অবস্থান করছে। এটি না থাকলে বা কেটে বাদ দিলে মানুষ জড় পদার্থে পরিণত হয়ে যেত।

দুই. মধ্য মস্তিষ্ক (Mid Brain): এটি মস্তিষ্কের খুবই একটি ক্ষুদ্র অংশ। লম্বায় এটি এক ইঞ্চিরও কম। এটি মস্তিষ্কের পেছনে এবং সম্মুখ ভাগের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। মধ্য মস্তিষ্কের কাজ হচ্ছে সেরিবেলাম ধারণ করে রাখা এবং তাতে রক্ত চলাচলের সুব্যবস্থা করা।

তিন. পশ্চাৎ অংশের মস্তিষ্ক (Hind Brain): এই অংশে অবস্থান করছে সেরিবেলাম, মেডুলা অবলঙ্গাটা ও পনস্। এই অংশগুলো নিয়েই পশ্চাৎ মস্তিষ্ক গঠিত। সেরিব্রামের মতই সেরিবেলামের বাইরের অংশ ধূসর পদার্থ বা গ্রে ম্যাটার দিয়ে তৈরি এবং ভিতরের অংশ হোয়াইট ম্যাটার দিয়ে তৈরি। এই সেরিবেলাম পেশীর টোন ও মুভমেন্ট নিয়ন্ত্রণ করে, শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গতিভঙ্গী বা ভাবভঙ্গীর সামঞ্জস্য রক্ষা করে। মস্তিষ্কের এই অংশের ক্রিয়ার বিকৃতি ঘটলে বা তাতে আঘাত লাগলে বা এই অংশ নষ্ট হয়ে গেলে আমাদের লেখাপড়া, চালচলন বা গতিভঙ্গী, চোখের চাহনি প্রভৃতিরও বিকৃতি ঘটে অর্থাৎ এই সব কাজ স্বাভাবিক ও সুষ্ঠুভাবে করা যায় না, যেমন- টলে টলে পড়ে যাওয়া, হাত-পায়ের কাঁপুনি, হাত-পা ছোঁড়া ইত্যাদি দুর্লক্ষণ জন্মে।

হৃদযন্ত্র: হৃদযন্ত্র মানব দেহের রক্ত সঞ্চালনের প্রধান যন্ত্র। মানব দেহের হৃদপিণ্ড একগুচ্ছ মাংসপেশী সমৃদ্ধ যন্ত্র এবং আকারটি একটি আপেলের মত বা হাত মুঠো করলে যতখানি দেখায় ঠিক ততখানি। পাম্পের মত এই যন্ত্রটি দিনরাত অবিরাম কাজ করে দেহটিকে বাঁচিয়ে রেখেছে। একবার এটি বিশুদ্ধ রক্ত ধমনী ও তার শাখা-প্রশাখার মাধ্যমে পাম্প করে সারা দেহে পাঠাচ্ছে, আবার অবিশুদ্ধ রক্ত শিরা ও তার শাখা-প্রশাখার মাধ্যমে টেনে নিয়ে ফুসফুসে পাঠিয়ে বিশুদ্ধ করে আবার সারা দেহে পাঠাচ্ছে। একবার হৃদযন্ত্রটি কুঞ্চিত হয়ে (Contracting)  রক্ত পাঠাচ্ছে পরক্ষণেই আবার প্রসারিত হয়ে (Dilating) রক্ত গ্রহণ করছে। এভাব অবিরাম করে যাচ্ছে। সুস্থ ও পূর্ণ বয়স্ক লোকের হৃদপিণ্ডের এই কুঞ্চন ও প্রসার ক্রিয়া মিনিটে গড়ে ৭২ বার হয়ে থাকে। হৃদযন্ত্রের এই ক্রিয়া বা স্পন্দন থেমে গেলে তৎক্ষণাৎ আমাদের মৃত্যু ঘটে।

যারা বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছেন তারা এর চাইতে অনেক বেশি অবগত আছেন। তবে ন্যূনতম যেসব বিষয় একজন মানুষের জানা প্রয়োজন বলে মনে করেছি তা আপনাদের সমীপে পেশ করেছি। এই তথ্যগুলি জানা থাকলে ভবিষ্যতে নানা ক্ষেত্রে তা আপনার উপকারে আসবে বলে আশা করছি। (সংগৃহীত)

লেখক: চাকরিজীবী এবং হোমিওপ্যাথিক শিক্ষার্থী




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮/তারা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন