ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

মার্সেল ফ্রিজ কিনে ফ্রি টিভি পেয়ে মিটেছে বোনদের ঝগড়া

মিনহাজুল আবেদীন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-৩০ ৬:৩৫:৫৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৩-২১ ৮:৪৮:৩৪ পিএম
মার্সেল ফ্রিজ কিনে ফ্রি টিভি পেয়ে মিটেছে বোনদের ঝগড়া
টিভি বুঝে নিচ্ছেন সানজিদা আক্তার শারমিন
Walton E-plaza

নিজস্ব প্রতিবেদক : দুই বোনেরই ঠান্ডা পানি ছাড়া চলে না। বাসার ফ্রিজটি আকারে ছোট। ফ্রিজে পানি রাখতে গিয়ে বোনদের মাঝে ঝগড়া লেগে যেত। ফলে তাদের বাবা বড় ফ্রিজ কেনার সিদ্ধান্ত নেন। মেয়েদের পছন্দে দেশীয় ব্র্যান্ড মার্সেলের ফ্রিজ কেনেন তিনি। কী আশ্চর্য! সেই ফ্রিজ কিনেই অপ্রত্যাশিতভাবে তারা পেয়েছেন ২০ ইঞ্চির এলইডি টিভি। দুই বোনই এখন মহাখুশি। তাদের মধ্যে আর ঝগড়া নেই। দুজনেই একমত হয়ে টিভিটি তাদের ঘরে সেট করেছেন।

রাইজিংবিডিকে এমনটাই বললেন বড়বোন সানজিদা আক্তার শারমিন। তাদের বাড়ি গাজীপুরের কোনাবাড়ির আমবাগ গ্রামে। গাজীপুর ডিগ্রি কলেজে পড়ছেন তিনি। দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে তৃতীয় বর্ষের ক্লাস শুরুর অপেক্ষায় আছেন শারমিন। গত ১৯ জুন মার্সেল শোরুম ইলেকট্রো সেফ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে সাড়ে ১৬ সিএফটির একটি বড় ফ্রিজ কিনে এই উপহার পান তারা।

শারমিন বলেন, “বাসার ফ্রিজটি ছোট হওয়ায় প্রায়ই আমার ছোটবোনের সঙ্গে ঝগড়া লাগত। আমি কখনো ফ্রিজে পানি রাখলে ও আমার রাখা পানি খেয়ে ফেলে, আবার কখনো ও রাখলে আমি ওরটা খেয়ে ফেলি। এভাবেই প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কারণে-অকারণে ঝগড়া লেগেই থাকে। দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাতে এক দিন বাবা আমাদের দুই বোনকে ডাকলেন। বললেন, তোমরা আর যাতে দুইজনে ঝগড়া না কর, তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একটি বড় ফ্রিজ কিনবেন।”

শারমিন বলেন, “বাবার কথা শুনে আমরা দুই বোন খুশি হই। আমি যখন প্রথম বর্ষে ছিলাম, তখন আমার বান্ধবীর বাসায় দুই জনে মিলে প্রাইভেট পড়তাম। তখন আমি ওদের বাসায় দেখেছি মার্সেলের বড় ফ্রিজ। সেটি আমার পছন্দ হতো। তাই কি ফ্রিজ কিনব এটা নিয়ে বান্ধবীর কাছে পরামর্শ চাইতেই সে মার্সেলের ফ্রিজ কেনার জন্য বলে। আমার বাসার আশপাশের বেশিরভাগ প্রতিবেশী মার্সেলের পণ্য ব্যবহার করে। তাদের কাছে পরামর্শ চাইতে তারাও মার্সেলের ফ্রিজ কেনার জন্য বলেন। সকলেই মার্সেলের পণ্যের দাম কম ও গুণগত মান ভালো বলে জানান।”

শারমিন জানান, মার্সেলের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন বা অফার সম্পর্কে তাদের কিছু জানা ছিল না। শোরুমে গিয়ে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। তখন তাদের আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। দেখা যাক ভাগ্যে কী আছে!

তিনি বলেন, “ফ্রিজটি কিনে আমার মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে বাড়ি চলে আসি। এ সময় মা ডেকে বলেন, মনি দেখ তো কী একটা মেসেজ এসেছে। আমি মেসেজটা দেখতেই আনন্দে লাফ দিয়ে বোনকে নিয়ে নাচতে থাকি। আর আমার ছোট বোনকে বলি আজ থেকে ফ্রিজ তোকে দিলাম। সে কারণ জানতে চাইলে বলি, কী ভাগ্য আমাদের দেখ, আমরা মার্সেল থেকে একটি ২০ ইঞ্চি এলইডি টিভি ফ্রি পেয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে দুই বোন বাবাকে সঙ্গে নিয়ে ফ্রি টিভিটি আনতে আবার শোরুমে যাই।”

তিনি বলেন, “আমাদের দুই বোনের মাঝে কম-বেশি ঝগড়া লেগে থাকলেও মার্সেলের ফ্রি টিভিটি পেয়ে আমরা দুই বোন খুশি হয়েছি। এখন আমাদের মাঝে আর ঝগড়া নেই। আমাদের রুমে আমরা টিভিটি সেট করেছি, যাতে অবসর সময়ে পছন্দের অনুষ্ঠান দেখতে পারি। আমাদের দুই বোনের ঝগড়া মিটিয়ে আনন্দ আরো বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য মার্সেলকে ধন্যবাদ।”

তিনি আরো বলেন, “জীবনে কোনো পুরস্কার পাওয়া হয়নি। আমি এগুলো বিশ্বাসও করতাম না। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কোম্পানি এই সমস্ত অফার দিয়ে মানুষকে ঠকায়। কিন্তু ভাবতেও অবাক লাগছে যে, মার্সেলের কাছ থেকে আমি এতবড় একটি উপহার পেয়েছি। যা সারাজীবন আমাদের মনে থাকবে।”

মার্সেলের পণ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "মার্সেল পণ্য খুবই ভালো। আমি আসলে পুরস্কার পেয়েছি বলে বলছি না। আমার চাচা প্রায় ১১ বছর হলো মার্সেলের টিভি ব্যবহার করছেন। ভালো চলছে। এখনো সমস্যা দেখা দেয়নি। আমি নিজে কিনেছি অন্যকেও কিনতে বলব। আমি মার্সেলের সাফল্য কামনা করছি।”



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ জুন ২০১৮/মিনহাজুল আবেদীন/সুজন/বকুল

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন