ঢাকা, সোমবার, ১ পৌষ ১৪২৬, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

রসনার রাজা কুমিল্লার রসমালাই

: রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৬-০৪-১৭ ৫:৫১:৪৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৬-০৪-১৭ ৬:৪৯:২৫ পিএম

কুমিল্লার রসমালাই

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা : কুমিল্লার সঙ্গে জোড় শব্দ হিসেবে উঠে আসে রসমালাইয়ের নাম। রসমালাই এখন কুমিল্লার লোগো হয়ে গেছে। রসমালাই রসনার রাজা। একবার খেলে, আরেকবার খেতে মন চাইবে। কুমিল্লায় এসে কেউ রসমালাই ছাড়া খালি হাতে ফিরেছেন এমন ঘটনা বিরল।

 

বলা যায়, মিষ্টির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রসমালাইয়েরও ইতিহাস। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিক থেকে রসমালাই তার রসে মাতোয়ারা করে রেখেছে সবাইকে।  প্রথমে নাম ছিল ক্ষীরভোগ। পাকিস্তান আমলে অবাঙালিরা কুমিল্লায় এসে ক্ষীরভোগকে রসমালাই বলতে শুরু করে। সম্ভবত সেই থেকেই রসমালাই নামটি প্রসিদ্ধ। আজ অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়েছে যে, উৎসবে আনন্দে রসমালাই ছাড়া কুমিল্লাবাসীর যেন চলেই না।

 

প্রথম দিকে মাটির হাঁড়িতে বিক্রি হতো রসমালাই। শেষে আসে পলিথিনের ঠোঙ্গা আর প্লাস্টিকের কৌটা। পহেলা বৈশাখ, ঈদ, পূজা, পরীক্ষার ফল প্রকাশ এসব সময়ে কুমিল্লা মনোহরপুরে রসমালাই দোকানের সামনের রাস্তায় মানুষের লাইন পড়ে যায়।

 

রসমালাইয়ের কারিগররা জানান, কুমিল্লার বাইরে ‘কুমিল্লার রসমালাই’ বলে বিক্রি করা হলেও কুমিল্লার মতো ভালো কারিগর না থাকায় আসল রসমালাইয়ের স্বাদ পাওয়া যায় না। দুধ চিনি আর অল্প ময়দার সমন্বয়ে তৈরি হয় রসমালাই। বাংলাদেশে বিদেশি অতিথি আপ্যায়নের মেন্যুতেও থাকে কুমিল্লার রসমালাই।

 

রসমালাইও এখন নকলের জোয়ারে ভাসছে। কুমিল্লা শহরের বাইরে, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে অসংখ্য রসমালাইয়ের দোকান। দোকানগুলো ব্যবহার করছে কুমিল্লার আসল রসমালাইয়ের দোকান মাতৃভাণ্ডার, ভগবতী পেড়া ভাণ্ডার ও শীতল ভাণ্ডারের নাম। অথচ তাদের কোনো শাখা নেই। শহরের মনোহরপুর কালি বাড়ির সামনে মাতৃভাণ্ডার, ভগবতী পেড়া ভাণ্ডার ও শীতল ভাণ্ডারের অবস্থান। এ ছাড়া শহরে পোড়াবাড়ি সুইটস, জলযোগ, জেনিস সুইটস ভালো মানের রসমালাই তৈরি করছে।

 

 

এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে রয়েছে অনেকগুলো নকল রসমালাইয়ের দোকান। তারা মাতৃভাণ্ডারের নাম ব্যবহার করছে কৌশলে। কোনোটার নাম আদি মাতৃভাণ্ডার, কোনোটার নাম নিউ মাতৃভাণ্ডার। তারা ভেজাল দিয়ে কম দামে রসমালাই বিক্রি করছে।

 

ভগবতী পেড়া ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী কিরণময় দত্ত জানান, কুমিল্লার রসমালাই বিদেশেও যাচ্ছে। গুণগত মান ঠিক রাখলে ৩৬ ঘণ্টায় রসমালাই নষ্ট হয় না। ভেজাল ব্যবসায়ীরা নিন্মমানের গুড়োদুধ আর ময়দা দিয়ে রসমালাই তৈরি করে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। গরুর খাঁটি দুধ ছাড়া রসমালাই তৈরি করা সম্ভব নয়।

 

মাতৃভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী শংকর সেন গুপ্ত জানান, এটা আমাদের পৈত্রিক ব্যবসা। মান ঠিক রেখে কেজি ২৪০ টাকার কমে রসমালাই বিক্রি করা সম্ভব নয়। চিনি আর গরুর দুধের দাম বাড়ছে, তাই বাড়ছে রসমালাইয়ের দামও।

 

পদুয়ার বাজার এলাকার শাহজালাল সুপার শপের দেলোয়ার হোসেন জানান, অনেকে অধিক মুনাফার জন্য ময়দা আর চিনি দিয়ে কিছু একটা তৈরি করে রসমালাই বলে চালিয়ে দেয়। তারা তা ক্রেতাদের কাছে ১৫০ টাকায় বিক্রি করছে। এতো কম দামে আসল রসমালাই বিক্রয় করা সম্ভব নয়। 

 

সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সভাপতি আলী আকবর মাসুম বলেন, নকল রসমালাইয়ের কারণে একদিকে মানুষ প্রতারিত হচ্ছে, অন্যদিকে কুমিল্লার ঐতিহ্য নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

 

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল বলেন, মূল মাতৃভাণ্ডার তাদের নামের রেজিস্ট্রেশন করেনি। তাদের নাম ব্যবহার করে অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এ বিষয়ে মাতৃভাণ্ডারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই নকল রসমালাইয়ের দোকানে অভিযান চালানো হবে।

 

 

 

রাইজিংবিডি/কুমিল্লা/১৭ এপ্রিল ২০১৬/মহিউদ্দিন/টিপু

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন