ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০২ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

রাঙামাটির শিশুপার্ক, অযত্ন-অবহেলায় ১৫ বছর

রেজাউল করিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০১-১৭ ৮:৫৬:৪৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-১৭ ৮:৫৬:৪৬ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি রূপের রানী খ্যাত রাঙামাটিতে শিশুদের বিনোদনের জন্য একমাত্র পার্কটি অযত্নে-অবহেলায় পড়ে আছে।

জেলা শহরের একমাত্র শিশুপার্কটিতে ২০০৫ সালে তৎকালীন পৌর চেয়ারম্যান  কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন গ্লোবাল ভিলেজের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়। পরবর্তীতে আদালত এটির মালিকানা জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে এটিকে পূর্ণাঙ্গ পার্ক হিসেবে গড়ে তুলে শিশুদের বিনোদনের উপযোগী করার নির্দেশ দেয়।

শহরের একমাত্র শিশুপার্কটি ১৫ বছর ধরে অযত্নে-অবহেলায় পড়ে থাকায় একদিকে যেমন শহরের শিশু-কিশোরদের মেধা ও মননের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, পাশাপাশি  পার্কের ভেতরে প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড। দিনে মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাস্থল আর রাতে চলে অসামাজিক কার্যকলাপ।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে পার্কটি পড়ে থাকায় দিন দিন এটি অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হচ্ছে। তারা জানান, দিনে মাদকসেবীরা এখানে আড্ডা দেয়। পার্কের পাশ দিয়ে যেতে হয় স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের। এ সময় তারা অস্বস্তিবোধে করে। রাতের বেলায় চলে অসামাজিক কার্যকলাপ। দ্রুত পার্কটির সংস্কারের দাবি জানান তারা।

পার্কটি দ্রুত চালু করার জন্য বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মানববন্ধনসহ নানান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।



পরিবেশবাদী সংগঠন গ্লোবালের ভিলেজের নির্বাহী পরিচালক ফজলে এলাহী বলেন, উচ্চ আদালত পার্কটির মালিকানা জেলা প্রশাসনের হাতে ন্যস্ত করে এটির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়। স্থাপনা উচ্ছেদ করে ঠিকই কিন্তু এরপর পার্কে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর সংস্কার করে এটিকে শিশুদের উপযোগী করে গড়ে তোলার দাবি জানান তিনি।

শহরের শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈয়বিয়া আইডিয়াল স্কুলের অধ্যক্ষ মো আখতার হোসেন চৌধুরী বলেন, পার্কটিকে সংস্কার করে শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে তারা বিনোদনের সুযোগ পাবে।

দীর্ঘদিন পর আশার বাণী শোনালেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে শীঘ্রই এটির সংস্কার কাজ শুরু হবে। এটির সংস্কারে প্রাথমিক পর্যায়ে ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

যেহেতু পার্কটি লেক তীরবর্তী, সেই হিসাবে এটি পর্যটকদের বিনোদনের অন্যতম স্থান হবে বলে মনে করেন তিনি।



রাইজিংবিডি/চট্টগ্রাম/১৭ জানুয়ারি ২০১৭/রেজাউল করিম/বকুল

       
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম বিভাগ