ঢাকা, রবিবার, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

রাশিয়া থেকে ৫৫০ কোটি ডলারের অস্ত্র কিনছে ভারত

রাসেল পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-০১-২২ ৪:৫০:২১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০১-২২ ৫:০৭:০৮ পিএম
রাশিয়া থেকে ৫৫০ কোটি ডলারের অস্ত্র কিনছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার কাছ থেকে ৫৫০ কোটি ডলার মূল্যের সামরিক অস্ত্র কেনার একটি বিশাল চুক্তি চূড়ান্ত করতে দেশটির সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ভারত।

চুক্তি চূড়ান্ত হলে রাশিয়ার পাঁচটি অত্যাধুনিক এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পাবে ভারত। এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রু পক্ষের পরমাণু বোমা বহনকারী যুদ্ধবিমান, স্টিলথ ফাইটার জেট, গোয়েন্দা বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শুধু শনাক্তই করতে পারে না, ৪০০ কিলোমিটার গতিতে ৩০ কিলোমিটার উচ্চতায় সেগুলো ধ্বংসও করতে পারে। এ ধরনের অস্ত্র যুক্ত হলে ভারতের সামরিক বাহিনী আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ৫৪ মাসের মধ্যে এই প্রথম ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য পাঁচটি এস-৪০০ ট্রিয়াম্ফ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তাদের সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হবে। ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করতে চায় ভারত। এই সময়ের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েনের সব কাজ শেষ করতে চায় তারা।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্রুজ মিসাইলের পাশাপাশি মধ্যম পাল্লার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রও মোকাবিলা করতে পারবে এস-৪০০ ট্রিয়াম্ফ। এর বহুমুখী ব্যবহারে এই অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নবযুগের সূচনা হবে।

যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চুক্তির বাণিজ্যিক দিক চূড়ান্ত করতে উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। এমন সময় তারা এ উদ্যোগ নিয়েছে, যখন ২০১৪ সালের একটি চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ার কাছ থেকে ৩০০ কোটি ডলার মূল্যের ছয়টি এস-৪০০ ব্যাটারি বা ন্যাটোর দেওয়া নামানুযায়ী ‘এসএ-২১ গ্রোলার’ গ্রহণ করছে চীন।

টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের এক খবরে বলা হয়েছে, এরই মধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ব্যবস্থার কিছু সহায়ক উপাদান পেয়েছে চীন। খবর পাওয়া গেছে, গত সপ্তাহে এক ঝড়ে সহায়ক ‍উপাদানগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।

 



ক্রিমিয়ার আকাশ সুরক্ষার জন্য ইউক্রেন সীমান্তে এস-৪০০ ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে রাশিয়া। এ ছাড়া তুরস্ক ও সৌদি আরবের কাছে এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রির প্রক্রিয়ায় রয়েছে রুশ সরকার।

যুদ্ধের সময় কোনো শহর রক্ষার কাজে এস-৪০০ ব্যবস্থা মোতায়েন করতে পারবে ভারত, এমন কি পাকিস্তানের স্বল্প পাল্লার নাসর পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র (হাতফ-নাইন) নিষ্ক্রিয় করতে পারবে। ভারতের ‘কোল্ড স্ট্রাট’ পরমাণু প্রযুক্তির পাল্টা হিসেবে পাকিস্তান প্রায়ই নাসর ক্ষেপণাস্ত্রের নাম উল্লেখ করে থাকে।

এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানের ১০০-৩০০টি লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে। একই সময়ে নিজস্ব আকাশসীমায় ধেয়ে আসা বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম এস-৪০০। এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ব্যয় নির্ভর করে, গ্রাহকদেশ কোন মাত্রার শক্তিশালী ব্যবস্থা চাইছে তার ওপর। ভারত প্রধানত দীর্ঘপাল্লার (১২০-৩৭০ কিলোমিটার) ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় এই ব্যবস্থা ব্যবহার করতে চায়।

২০১৫ সালে এস-৪০০ কেনার বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের আলোচনা শুরু হয়। ভারতের ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার পর ওই বছর ডিসেম্বর মাসে ছাড়পত্র দিলে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে ভারতের গোয়ায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। রাশিয়ার কাছ থেকে পাঁচটি এস-৪০০ ব্যবস্থাসহ গ্রিগোরিভিচ শ্রেণির চারটি ফ্রিগেট এবং ২০০টি ‘কামোভ-২২৬টি’ লাইট হেলিকপ্টার কেনার বিষয়ে প্রাথমিক চুক্তি করে ভারত। একই দিন রাশিয়ার কাছ থেকে দ্বিতীয় পরমাণু সাবমেরিন ভাড়া নেওয়ারও চুক্তি করে ভারত। সব মিলেও ওই দিন রাশিয়ার সঙ্গে ১ হাজার কোটি ডলারের সামরিক চুক্তি হয় ভারতের।

রাশিয়ার সঙ্গে এস-৪০০ ব্যবস্থা কেনার চুক্তি চূড়ান্ত হলে, তা হবে দুই দেশের মধ্যে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় সামরিক চুক্তি। তবে দুই দেশের মধ্যে এর চেয়েও বড় সামরিক চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ জানুয়ারি ২০১৮/রাসেল পারভেজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন