ঢাকা, সোমবার, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭, ১৩ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

লক্ষাধিক গৃহহীন পরিবার পাবে ‘স্বপ্নের নীড়’

আসাদ আল মাহমুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-০৭ ৭:৪৬:৩১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-০৭ ১০:১৪:০২ পিএম

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় নদীভাঙন ও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের মধ্যে অনেকেরই নতুন ঘর নির্মাণের সামর্থ্য নেই। এসব পরিবারের জন্য লক্ষাধিক ঘর তৈরির পরিকল্পনা করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। গৃহহীন পরিবারগুলো পাবে ‘স্বপ্নের নীড়’

সূত্র জানায়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিল- কেউ গৃহহীন থাকবে না। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে লক্ষাধিক পরিবারকে ঘর তৈরি করে দেয়া হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে টেস্ট রিলিফ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির বিশেষ বরাদ্দ বাতিল করে সেই অর্থ দিয়ে গৃহহীন মানুষের জন্য দুর্যোগসহনীয় ঘর তৈরি করা হবে। প্রতি ছয় মাস পর টিআর খাতে ২০০ কোটি টাকা ও কাবিটা খাতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় অর্থ বিভাগ। 

চলতি বছর থেকে আগামী ২০২৪ সাল পর্যন্ত টিআর, কাবিটা কর্মসূচিতে ৩ হাজার কোটি টাকা জমা হবে। এ টাকা দিয়ে ১ লাখ গৃহহীন পরিবারকে ঘর তৈরি করে দেয়া হবে। তাদের দুটি কক্ষ, একটি বারান্দা, বাথরুম ও রান্নাঘর তৈরি করে দেয়া হবে। থাকবে সোলার সিস্টেমসহ বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হবে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে ৩ লাখ টাকা।

সূত্র আরো জানায়, টিআর ও কাবিটা কর্মসূচি নিয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাই চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মন্ত্রণালয়ে এক সভায় টিআর ও কাবিটার বিশেষ বরাদ্দ বাতিল করা হয়। এ কর্মসূচির অর্থ দিয়ে গৃহহীন পরিবারের জন্য টেকসই ও দুর্যোগসহনীয় ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়।

১৯৮৮ সালের বন্যার পানির লেভেলের ওপরে থাকবে এসব ঘরের ভিত। আরসিসি পিলার ও ইটের দেয়ালে হবে ঘরগুলো। বন্যা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মানুষকে ঘর ছেড়ে যেতে হবে না।

যেসব পরিবারে পুরুষ সদস্য নেই, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব‌্যক্তি এবং যারা ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনে ঘর হারিয়েছেন তাদের ঘর নির্মাণ করে দেয়া হবে।

গৃহহীনদের ঘর তৈরি করে দেয়ার জন্য একটি প্রাথমিক তালিকা করা হয়েছে। গোপালগঞ্জে ১৯৩টি, সাতক্ষীরা ১২২, টাঙ্গাইল ১২৪, রাজশাহী ১৩২, জয়পুরহাট ১৪০, ঝালকাঠি ১৪১, সিরাজগঞ্জ ২০০, মানিকগঞ্জ ২০১, খুলনা ২০২, বাগেরহাট ২০৩, মেহেরপুর ২০৬, চুয়াডাঙ্গা ২০৯, নওগাঁ ২১১, পিরোজপুর ২১১, নীলফামারী ২১২, লক্ষ্মীপুর ২১৩, পাবনা ২১৬, রাজবাড়ী ২২২, নেত্রকোনা ২২৩, পটুয়াখালী ২৪৪, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৬০, শেরপুর ২৭১, লালমনিরহাট ২৭৫, রংপুর ২৮৭, গাইবান্ধা ৩০৬, জামালপুর ৩৪৪, খাগড়াছড়ি ৩৪৬, কিশোরগঞ্জ ৩৫১, মাগুরায় ৩৭২, বান্দরবান ৪১৫, দিনাজপুর ৪২২, কুড়িগ্রাম ৪৬৫,রাঙামাটি ১৭১, চাঁদপুর ১৯২, ঢাকা (সাভার) ৫০, শরীয়তপুর (নড়িয়া)  ৪৩, নারায়ণগঞ্জ ১৭, মুন্সীগঞ্জ ২০, মাদারীপুর ২৪, গাজীপুর ৪৫, ফরিদপুর ৫০, ফেনী ৫৩, ঢাকা ৬৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৬৭, নরসিংদী ৬৮, মৌলভীবাজার ৭২, সিলেট ৮৫, হবিগঞ্জ ৮৮, কুমিল্লা ৮৮, চট্টগ্রাম ৮৯, ভোলা ১০১, শরীয়তপুর ১০৩, কক্সবাজার ১০৯, নড়াইল ১১০, কুষ্টিয়া ১১৪,  ময়মনসিংহ ১৪৪, নোয়াখালী ১৫৩, ঠাঁকুরগাও ১৫৩, নাটোর ১৫৭, বরগুনা ১৬৮, সুনামগঞ্জ ১৭০ পঞ্চগড় ১৭২, ঝিনাইদহ ১৭৪, যশোর ১৭৬, বগুড়া ১৭৮, বরিশাল ১৮০ ও রাঙ্গামাটি জেলায় ১৬টি ঘর নির্মাণ করা হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, টিআরের বিশেষ বরাদ্দের প্রায় ২০০ কোটি টাকায় ৭ হাজার ৭৩৬টি ঘর নির্মাণ হবে। কাবিটার বিশেষ বরাদ্দের প্রায় ১০০ কোটি টাকায় ৩ হাজার ৮৬৮টি ঘর নির্মাণ সম্ভব। এগুলো আগামী মে-জুনের মধ্যে নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে টাকা বরাদ্দ দেয়া হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, ১ লাখ গৃহহীনকে ঘর নির্মাণ করে দেবে সরকার। আমরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সব গৃহহীনকে দুর্যোগসহনীয় ঘর করে দেয়ার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের টিআর-কাবিখার যে বিশেষ বরাদ্দ ছিল, সেটা বন্ধ করে দিয়েছি। সেই ফান্ডটি দুর্যোগসহনীয় ঘর নির্মাণ প্রকল্পে নিয়ে আসা হয়েছে। একটি ঘর তৈরি করতে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ টাকা। এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় করা হচ্ছে। এছাড়া, গত বছর থেকে নির্মাণ ব্যয় বাড়িয়ে ঘরের নকশা ও মান ভালো করা হয়েছে ।

এনামুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল- কেউ গৃহহীন থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী একাধিক বার বলেছেন, কেউ গৃহহীন থাকবে না। সেজন্য এ উদ্যোগ। আমাদের মন্ত্রণালয়ে টিআর ও কাবিটার বিশেষ বরাদ্দ ছিল। সেই ফান্ড দিয়ে আমরা দুর্যোগসহনীয় ঘর করে দিব।

** ‘আল্লাহ আমার হায়াত যেন প্রধানমন্ত্রীকে দেন’


ঢাকা/আসাদ/রফিক