ঢাকা, শুক্রবার, ৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২৩ আগস্ট ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

লড়াই শেষ হয়নি।। মিনার মনসুর

: রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৫-১২-১৫ ৭:৪২:৪২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৬-০৯-০৫ ৩:০৯:৪৭ এএম
Walton E-plaza

এমন কথা প্রায়ই শোনা যায় যে, ৪৪ বছর আগে কী হয়েছিল তা নিয়ে এত ঘাঁটাঘাঁটি কেন? দেশের উন্নয়ন চাইলে সামনে তাকাতে হবে। ভুলে যেতে হবে সব। তারা এমনভাবে কথাগুলো বলেন শুনে মনে হতে পারে যে, দেশের জন্যে তাদের দরদ ও দুর্ভাবনার অন্ত নেই। আর উন্নয়ন জিনিসটাকে তারা এমনভাবে জাতির সামনে দাঁড় করান যেন তার সঙ্গে আমাদের অতীতের বিশেষ করে একাত্তরে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির গুরুতর একটি বিরোধ আছে।

সর্বোপরি, তারা আকারে-ইঙ্গিতে এও বোঝাতে চান যে, তখন এমন কিছু ঘটেছিল যা জাতি হিসেবে আমাদের জন্যে খুবই বিব্রতকর। এ ধরনের কথা যারা বলেন তাদের দেখে মনে হতে পারে যে, তারা ভাজা মাছটিও উল্টে খেতে জানেন না। কিন্তু আদতে এরাই হলেন বাংলাদেশের সমাজের সবচে ধুরন্ধর ও বিপজ্জনক লোক। এখনো যারা সুযোগ পেলেই মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তবুদ্ধির চেতনার পক্ষের মানুষের ওপর হামলে পড়েন, জাতীয় পতাকাকে অবমাননা করেন কিংবা শহীদ মিনার ভাঙতে উদ্যত হন। তারা হুকুমের দাস মাত্র। তাদের নিয়ন্ত্রণের রিমোট কন্ট্রোলটি ধরা থাকে সাধুবেশী ধূর্ত মানুষগুলোর হাতে। যত ছদ্মবেশই ধারণ করুন না কেন, বাস্তবতা হলো, যারা এসব কথা বলেন তারা কখনোই আমাদের স্বাধীনতাকে মেনে নেননি। তাদের বুকে দাউ দাউ করে জ্বলছে প্রতিশোধের আগুন। আর তার ছোবল কতোটা ভয়ঙ্কর হতে পারে সেটা আমরা পঁচাত্তরে দেখেছি। এখনো দেখছি কখনো পেট্রোলবোমার বীভৎসতায়; কখনো বা চাপাতির রক্ত-লোলুপতায়।

একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরের পর বিজয়ের বাঁধভাঙা আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে এ কঠিন বাস্তবতাটি হয় আমরা বিস্মৃত হয়েছিলাম অথবা তার ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছিলাম। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, পাকিস্তানি হানাদারদের সঙ্গে বুকে বুক মিলিয়ে অস্ত্র হাতে সেদিন যারা আমাদের স্বাধীনতাকে আঁতুড় ঘরেই হত্যা করতে চেয়েছিল এবং তারই অংশ হিসেবে সংঘটিত করেছিল মানবেতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা-ধর্ষণ ও ধ্বংসযজ্ঞ, মানুষ নামের সেই হায়েনাদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের হৃদয়ের দরোজাও। সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাই তারা ভোগ করেছে। চাকরিবাকরি ব্যবসাবাণিজ্য, সর্বত্রই তারা বিচরণ করেছে অবাধে। এত রক্তক্ষয়ী একটি যুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর যুদ্ধাপরাধী ঘাতক-দালালদের প্রতি মহানুভবতার এমন নজির পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এখানে যে কথাটি না বললেই নয় তা হলো, শুধু রাষ্ট্রের কাঁধে দায় চাপিয়ে নাগরিক হিসেবে নিজেদের মজ্জাগত নৈতিক ও আদর্শিক দোলাচলবৃত্তি কিংবা দুর্বলতাকে আড়াল করা যাবে না। এ সত্য আমরা কীভাবে অস্বীকার করবো যে, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ হলেও কী সমাজে, কী রাজনীতিতে যুদ্ধাপরাধী ঘাতক-দালাল ও ধর্মব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার মতো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কোনো অভাব ঘটেনি কখনোই।

বস্তুত দুই ধরনের মানসিকতা কাজ করেছে তখনকার সমাজ ও রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে। প্রথমত, কেউ কেউ ভেবেছেন, যা হওয়ার হয়ে গেছে। থাকুক না সবাই মিলেমিশে! দ্বিতীয়ত, বঙ্গবন্ধুবিরোধী একটি মোর্চা তৈরি করার জন্যে মরিয়া দেশিবিদেশি শক্তি সচেতনভাবেই এদের পুনর্বাসনে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল। বঙ্গবন্ধুর কাছে ধরনা দিয়ে এসব গণধিকৃত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষে ওকালতি করার মতো লোকেরও অভাব ছিল না তখন। এ ধরনের ওকালতির মাধ্যমে নিজেদের আখেরও গুছিয়ে নিয়েছেন কেউ কেউ। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, যাদের নিয়ে এতকিছু তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের কৃতকর্মের জন্যে একবারও ক্ষমা চেয়েছিল কিনা সেই সাধারণ প্রশ্নটিও কেউ তোলেননি।

বরং আমাদের দেশে তথাকথিত নিরপেক্ষতার বর্মাবৃত এমন সুশীল ব্যক্তির সংখ্যাই অধিক যারা সুযোগ পেলেই জাতিকে ‘অতীত’ ভুলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। মুক্তিযুদ্ধকে ‘গণ্ডগোল’ বলেন এবং রাজাকার ও মুক্তিযোদ্ধাদের এক পাল্লায় মাপার অপপ্রয়াস চালান সর্বাত্মকভাবে।

এটা কোনো কাকতালীয় বিষয় নয় যে, পাকিস্তানও একই ভাষায় কথা বলে আসছে শুরু থেকেই। একাত্তর সালের পর বিকৃত ভাবাদর্শের সেই দেশটিতে সরকার বদল হয়েছে অনেকবার বহুবার, কিন্তু বাংলাদেশ-প্রশ্নে তাদের ভাষা ও অবস্থানের বদল হয়নি অদ্যাবধি। পাকিস্তানের বেদনা বোধগম্য। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের প্রধান একটি রাজনৈতিক দল যার প্রতিষ্ঠাতাকে দলের পক্ষ থেকে জোর গলায় ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ বলে দাবি করা হয়, তারাও কেন একই ভাষায় কথা বলে? কেন একাত্তরের গণহত্যার নায়কদের সঙ্গে তাদের গলায় গলায় ভাব? কেন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে তারা জুড়ে দিয়েছিল শহীদের রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা? যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দলটির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যের জন্যে একাত্তরে বাংলাদেশকে যারা পোড়ামাটিতে পরিণত করতে চেয়েছিল সেই পাকিস্তানিদের এত দরদ উতলে উঠল কেন?

সব ‘কেন’র শিকড় সন্ধান করলে দেখা যাবে যে, সব রসুনের গোড়া এক। নাম, অবয়ব ও অবস্থান ভিন্ন হলেও সবার শিকড় অভিন্ন। বাংলাদেশের জয় মানে তাদের পরাজয়। কথাটি শুনে অনেকে অখুশি হতে পারেন। সারগর্ভ বয়ানও তুলে ধরতে পারেন তাদের দেশপ্রেমের সপক্ষে। যারা জেগে ঘুমান তাদের ঘুম ভাঙানো যায় না। তারপরও সেইসব সুশীলজনের জ্ঞাতার্থে পুনরুক্তির আশঙ্কা সত্ত্বেও বলি, বাংলাদেশের অভ্যুদয়কেই যারা নিজেদের পরাজয় বলে মনে করে পৃথিবীর তাবৎ সুবচন এক করেও তাদের স্বরূপ আড়াল করা যাবে না।

যারা মনে করেন যে মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে আমি তাদের সঙ্গে একমত নই। মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অস্ত্রসমর্পণ করে যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি মুহূর্তের জন্যেও মাঠ ছাড়েনি। জমা দেয়নি অস্ত্র। তারা বরাবরই যুদ্ধ জারি রেখেছে। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদাররা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়েছে ঠিক কিন্তু তাদের এদেশীয় অনুচররা আত্মসমর্পণ করেনি। বরং তারা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের আনাচে-কানাচে। যাদের পক্ষে সেটা সম্ভব হয়নি যুক্তরাজ্যে পালিয়ে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই যুদ্ধাপরাধীর মতো তারা আস্তানা গেড়েছে দেশের বাইরে। সবার লক্ষ্য একটাই। একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণ। এমনকি একাত্তরে যুক্তরাষ্ট্রসহ যে-সব দেশ তাদের সর্বাত্মক মদদ জুগিয়েও বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঠেকাতে পারেনি তাদের লক্ষ্যও ভিন্ন নয়। দেশিবিদেশি শক্তির সক্রিয় সমর্থনপুষ্ট হয়ে একাত্তরের পরাজিত শক্তি প্রতিশোধ গ্রহণে নেমে পড়েছিল আমাদের বিজয়ের পরপরই। ১৯৭২ সালেই তাদের হাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন সাহিত্যিক শহীদুল্লাহ কায়সার এবং সেনা কর্মকর্তা লে. কামরুল হাসান মো. সেলিম।

আর মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে তারা রীতিমতো একটি কারবালার সৃষ্টি করেছিল স্বাধীন বাংলাদেশে। কারার অভ্যন্তরে থেকেও তাদের আক্রোশ থেকে রক্ষা পাননি মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী জাতীয় চার নেতা। তারপর তারা আরও বহু হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। উপর্যুপরি হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে বঙ্গবন্ধুর কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও। এটাও সুবিদিত যে সেই চেষ্টা এখনও অব্যাহত আছে সর্বাত্মকভাবে।

বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে যেমন জাতির মেধাবী সন্তানদের ওপর হামলা হয়েছে, তেমনি পরাজয়ের পূর্বমুহূর্তেও খুঁজে খুঁজে হত্যা করা হয়েছে শিক্ষক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের। জাতিকে মেধাশূন্য করাই ছিল এ হত্যাযজ্ঞের মূল লক্ষ্য। স্বাধীনতার সাড়ে চার দশক পর আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি লক্ষ করা যাচ্ছে। একের পর এক হামলা হচ্ছে মুক্তচিন্তার লেখক-প্রকাশকদের ওপর। ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যাও করা হয়েছে কয়েকজনকে। হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের। তবে এটা যে হঠাৎ করে শুরু হয়েছে তা নয়। কবি শামসুর রাহমানকে তাঁর শ্যামলীর বাসায় ঢুকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে দিনেদুপুরে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে কমপক্ষে দুই দশক আগে। বাংলা একাডেমি বইমেলা চলাকালে একাডেমি চত্বরেই একইভাবে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে কবি-অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদকে। সেই যাত্রা তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও অকালেই বিদায় নিতে হয়েছে তাঁকে। সেটাও বহু বছর আগের ঘটনা।

পেট্রল বোমার বিভীষিকা, আশুরার সমাবেশ কিংবা রাসমেলায় বোমা হামলার নৃশংসতা দেখে আজ আমরা অনেকে শিহরিত হচ্ছি। অথচ বেমালুম ভুলে যাচ্ছি পহেলা বৈশাখে রমনা বটমূলে হাজার হাজার মানুষের মিলনমেলায় বোমা হামলার কথা। নেত্রকোনা ও যশোরে উদীচীর সম্মেলনে বোমা হামলা হয়েছে। হামলা হয়েছে কমিউনিস্ট পার্টির জনসভায়। বাদ যায়নি জনাকীর্ণ আদালত কিংবা সিনেমা হলও। আর আহমদিয়াদের ওপর হামলা সে তো নৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছিল।

তার মানে এখন যা কিছু ঘটছে তার কোনো কিছুই একেবারে নতুন বা আকস্মিক নয়। বরং আরও একটু পেছনে তাকালে আমরা দেখবো, সেই পঞ্চাশের ও ষাটের দশকেই আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ করা হয়েছে সুপরিকল্পিতভাবে। নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে রবীন্দ্রচর্চার ওপর। বারবার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শহীদ মিনার। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়েছে। সৃষ্টি করা হয়েছে সাম্প্রদায়িক বিভেদ ও উত্তেজনার। এখনও তাই হচ্ছে। তফাৎ শুধু এটুকু সবাই আশা করেছিল যে, এত বিশাল আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে আর কখনো পাকিস্তানি মধ্যযুগীয় ভাবধারার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। তফাৎ হয়ত আরও একটু আছে। প্রথমত, পেট্রোল বোমার ব্যবহার তখন ছিল না। দ্বিতীয়ত, পশ্চিম পাকিস্তানে শিয়া-সুন্নি বিরোধ থাকলেও এই জনপদে কখনো শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেনি। এখন পরিকল্পিতভাবে ধর্ম ও সম্প্রদায়ভিত্তিক বিরোধ ও উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে। আশুরার সমাবেশে কিংবা রাসমেলায় বোমা হামলা তারই আলামত মাত্র। মনে রাখতে হবে এটা দুই নেত্রীর লড়াই নয়। এটা হলো পরস্পরবিরোধী দুটি আদর্শের লড়াই। আর সেখানে বাংলাদেশের আদর্শের বিরোধী শক্তি যারা, একাত্তরে পরাজিত হয়েছে তাদের অবস্থান, তারা এতটাই অনড় যে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত হতে দেখা যায়নি কাউকে। যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দল বা দলগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে বিন্দুমাত্র বিবেকবোধের জাগরণ ঘটেনি।    
 
অতএব, একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটেছে এটা বলা যাবে না কোনোভাবেই। বরং বলা যায়, সেদিন থেকেই প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছে। শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে সেই যুদ্ধ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। একাত্তরের পর আবারও মুখোমুখি হয়েছে তখনকার বিজয়ী ও পরাজিত পক্ষ। এ যুদ্ধ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে একাত্তরের বিজয়ী পক্ষের শরীরী ভাষা দেখে মনে হচ্ছে যে, এ-যুদ্ধের গুরুত্ব তারা ঠিক অনুধাবন করতে পারছেন না। অন্যদিকে, পরাজিত পক্ষ সঠিকভাবেই জানে যে এটা তাদের অস্তিত্বের লড়াই। তাদের শীর্ষ সিপাহসালারদের কয়েকজনের ফাঁসি হয়ে গেছে, আরও কয়েকজনের মাথার ওপরে ঝুলছে ফাঁসির রশি। এমনকি একাত্তরে পরাজয়ের পরও এত বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়নি তাদের। তাই তারা মরণকামড় দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে এটাই স্বাভাবিক। তাদেরকে দুর্বল ভাবারও কোনো কারণ নেই।

অন্যদিকে, যে রাজনীতির বা আরও নির্দিষ্ট করে বললে রাজনৈতিক দলটির ছত্রছায়ায় থেকে তারা তাদের যাবতীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে সেই রাজনীতি এখনো প্রবলভাবে বিদ্যমান। আর তার নেতৃত্বের আসনে যারা বসে আছেন তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের সূতিকাগার পাকিস্তানের নাড়ির বন্ধন আজকের নয়। অতএব, কাণ্ডারি হুঁশিয়ার। একাত্তরের মতো এবারও লড়াইয়ে আমাদের অবশ্যই জিততে হবে।

 


লেখক : কবি ও সাংবাদিক

 

 

 


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৫ ডিসেম্বর ২০১৫/শাহনেওয়াজ/তারা

Walton AC
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       

Walton AC
Marcel Fridge