ঢাকা, সোমবার, ৪ কার্তিক ১৪২৬, ২১ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

শায়েস্তাগঞ্জে মেয়েদের শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে যে কলেজ

মামুন চৌধুরী : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০১-১৫ ৩:৩১:১৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-১৫ ৩:৩১:১৬ পিএম

মো. মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ : শায়েস্তাগঞ্জে নারীদের শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ‘জহুর চাঁন মহিলা কলেজ’। দানবীর বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মুহাম্মদ আব্দুল কবিরের অর্থায়নে ২০০৯ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজটিতে লেখাপড়া করে স্থানীয় অনেক দরিদ্র মেয়েরাও উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ করতে পারছেন।

শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার সাবাসপুর এলাকায় কলেজটি স্থাপিত। তিনতলা ভবন। উপরের তলায় সাজানো গোছালো হোস্টেল। দ্বিতীয়তলার এক পাশে ছোট পরিসরে পরিপূর্ণ একটি ‘লাইব্রেরি’। এর পেছনে রয়েছে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা। বাকি রুমগুলোতে চলছে অফিস ও ক্লাসের কার্যক্রম। 

শিক্ষার্থীর সংখ্যা চার শতাধিক। নেই হইহল্লা। শান্ত পরিবেশ। ভবনের চার পাশে প্রাচীরঘেরা। একটিমাত্র গেইটে থাকে সার্বক্ষণিক পাহারাদার। নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখানে কঠোরতর।

২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠা পাওয়া এ বিদ্যাপীঠটি দিন দিন পাঠদানে এগিয়ে যাচ্ছে। অধ্যক্ষসহ ১৯ জন শিক্ষকের পাঠদানে প্রতিবছরই আশানুরুপ ফলও আসছে।

প্রতিষ্ঠার শুরুতেই কলেজটিতে শিক্ষা কার্যক্রম স্থানীয় উদ্যোগের কারণে আলাদা গতি পায়। এতে করে তৃণমূলের মেয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষালাভের সুযোগ তৈরি হয়। কলেজটি স্থাপন করায় এলাকার বাসিন্দারা প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মুহাম্মদ আব্দুল কবিরের প্রতি কৃতজ্ঞ।

এ কলেজের অদূরে আরেকটি ডিগ্রী কলেজ থাকলেও সেখানে ছেলে-মেয়েদের সহাবস্থান থাকায় মেয়েদের জন্য একটি আলাদা কলেজ ছিল অনেকেরই চাওয়া। এ কলেজটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেই চাওয়াটিই পূরণ হয়েছে। মেয়েদের আলাদা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় নারীশিক্ষার হারও এখানে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, কলেজটিতে নিয়মিত ক্লাসে পাঠদান দিচ্ছেন শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীরাও পাঠগ্রহণে খুবই মনযোগী। ক্লাসের অবসরে শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়ে বাড়তি জ্ঞান অর্জন করছেন।  নামাজের সময়ে তারা কলেজের নামাজখানায় নামাজ আদায় করে নিচ্ছেন। খাবারের সময়ে হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থীরা খাবার সেরে নিচ্ছেন। বাকিরা বাড়ি থেকে আনা খাবার খেয়ে নিচ্ছেন।

 

জহুর চাঁন মহিলা কলেজের লাইব্রেরি


আবার বছরে একবার হলেও এ কলেজ থেকে ‘শিক্ষা ভ্রমণে’ যাওয়া হচ্ছে। রয়েছে স্কাউট গ্রুপ। জাতীয় দিবসগুলো শ্রদ্ধাভরে পালন হচ্ছে।  নিয়মিত ক্লাস পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।  এ কলেজের শিক্ষার্থীদের কোচিং, প্রাইভেট বা বাড়িতে গিয়ে তেমন একটা পড়তে হচ্ছে না। ক্লাসের পড়া ক্লাসেই শেখা হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে আয়োজন করা হচ্ছে শিক্ষামূলক বিতর্ক প্রতিযোগিতার। এতে করে সৃজনশীল মেধার বিকাশ ঘটছে।

নিয়মানুবর্তিতা থাকায় অভিভাবকরা কলেজটির প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কারণে দিন দিন শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে আসন অনুপাতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। বাড়তি কোন বেতন বা পরীক্ষা ফি নেওয়ার কেনো অভিযোগ নেই।

বর্তমানে এ কলেজে ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিজ্ঞান বিভাগ চালু রয়েছে।  ডিগ্রী ক্লাস চালু করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাকার্যক্রমের সফলতায় কলেজটি সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন পেয়েছে।

কলেজের প্রভাষক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জালাল উদ্দিন রুমী বলেন, ‘কলেজের শুরু থেকে ভাল ফলাফল আসছে। এখানে যারা ভর্তি হচ্ছে সেসব শিক্ষার্থীদেরকে আমরা গড়ে তুলছি। তারা পরীক্ষায় ভাল করছে।’

কলেজ গভার্নিং বডি’র সদস্য সমাজসেবক আব্দুল্লাহ সরদার বলেন, ‘এ কলেজ প্রতিষ্ঠা করে তৃণমূলের নারী শিক্ষার্থীদের বিরাট উপকার করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মুহাম্মদ আব্দুল কবির। আমরা এলাকাবাসী তার এ ঋণ কোন দিন শোধ করতে পারব না।’

কলেজ গভর্নিং বডি’র সভাপতি আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল বলেন, ‘অল্পদিনে এ কলেজটি অনেক সুনাম অর্জন করেছে। এর পেছনে এমপি আলহাজ্ব আবু জাহির,  কলেজ প্রতিষ্ঠাতা দানবীর বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মুহাম্মদ আব্দুল কবির, এলাকাবাসী, গভার্নিং বডি, অধ্যক্ষ, শিক্ষকবৃন্দ, এলাকাবাসীর অবদান রয়েছে।’

অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ পাল বলেন, ‘এ কলেজটিতে শিক্ষার্থীর সমস্যা সুযোগ-সুবিধা সব কিছুকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এখানে পড়াশোনা করে তারা আলোর পথ খুঁজে পাচ্ছে।’

 

 

রাইজিংবিডি/হবিগঞ্জ/১৫ জানুয়ারি ২০১৭/মামুন চৌধুরী/টিপু

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন