ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

শুভ জন্মদিন মাশরাফি বিন মুর্তজা

আব্দুল্লাহ এম রুবেল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-১০-০৫ ৮:২১:৫৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-০৫ ১২:২৬:০২ পিএম

আব্দুল্লাহ এম রুবেল : মাশরাফি বিন মর্তুজা। বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। একটি প্রেরণার নাম। পুরো দলের জন্য প্রেরণার বাতিঘর। একজন জীবন্ত কিংবদন্তি। যার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ইনজুরির ভয়াল থাবা। ছোট-বড় মিলিয়ে ১১টি অস্ত্রোপচার হাঁটুতে। যেখানে এত অস্ত্রোপচারের পর হাঁটু ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়ার কথা, সেখানে মাশরাফি দিব্যি খেলে যাচ্ছেন। দেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার উপস্থিতিতেই বদলে যায় পুরো দলের চেহারা। তারই হাত ধরে ক্রিকেটে নতুন দিনের পথ পেয়েছে বাংলাদেশ। ১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর নড়াইল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। আজ ৩৫ বছর বয়স পূর্ণ হয়েছে তার। আজ এই টাইগার অধিনায়কের জন্মদিন।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে প্রায় ১৭ বছর ধরে যুক্ত আছেন তিনি। ক্যারিয়ারের শুরুতে পেসার হিসাবে বিশ্বব্যাপী সুনাম কুড়ালেও বর্তমানে অধিনায়ক হিসাবে তার খ্যাতিটা বেশি। তার নেতৃত্বে উল্লাসে মেতে ওঠে গোটা বাংলাদেশ। যিনি ক্লান্তিহীন কোটি কোটি উন্মাতাল ভক্তের প্রত্যাশা কাঁধে বইতে পারেন।' বাংলাদেশের গৌরব।'  মাশরাফির চলনে-বলনে-কথনে যেন কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন চলে। অধিনায়ক মাশরাফি পুরো দলকে দারুণভাবে উজ্জীবিত রাখেন। দলের সব খেলোয়াড়রা তাকে কাছের মানুষ হিসেবে জানে। দলের তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে সবসময় কথা বলেন। তাদের সমর্থন জোগান। নিজেদের সমস্যার কথা খেলোয়াড়রা তাকে অবলীলায় বলতে পারেন। খেলোয়াড়রা তার কাছ থেকে দারুণ আস্থা পায়। খেলোয়াড়রা যখন বিশ্বাস করে দুঃখ-কষ্ট-সমস্যার দিনেও অধিনায়ক তাদের পাশে আছেন তখন মাঠের খেলায় নিজেকে ফিরে পাওয়ার নতুন একটা জেদ-জোশ তার মধ্যে জন্ম নেয়। পুরো দলকে নিজের একটা বড় পরিবার বলেই মানেন মাশরাফি।  
 
-উদাহরণ খুঁজছেন?

খুব বেশি দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এই তো এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ ২২২ করেও ভারতকে কী চাপেই না রেখেছিল! লড়াইটা শেষ বল পর্যন্ত পৌঁছেছে। এটা একটা ফাইনালের মতো ফাইনাল হয়েছে, দুর্দান্ত ফাইনাল। এবারের এশিয়া কাপে সবচেয়ে প্রশংসিত হয়েছে মাশরাফি বিন মতুর্জার অধিনায়কত্ব। এশিয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচের পর একটা ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। লিটন দাসের ফিফটির পর অধিনায়ক মাশরাফি বারবার বলছেন, ‘ইনিংসটা বড় কর, ইনিংসটা বড় কর’। এরপরই যখন বুকের ওপর হাত দিয়ে সতীর্থকে ইঙ্গিত করছেন, হৃদয় দিয়ে খেলতে, ইঙ্গিত করছেন দেশের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিতে। এ দৃশ্য দেখার পর মাশরাফি শুধুই অধিনায়ক থাকেন না, হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের মুখ! বিশ্ব মিডিয়াতেও তার সেই রূপটি যেন আলোর মতো ঔজ্জ্বল্য ছড়াচ্ছে। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ও বর্তমান ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজার চোখে মাশরাফি হচ্ছেন ‘কাপ্তান অব এশিয়া কাপ’!
 


তামিমের এক হাতে ব্যাট করার ঘটনাটি দেখুন !
এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তামিম হাতে আঘাত পেয়ে মাঠ ছেড়েছেন। হাসপাতালে গিয়ে হাতের কব্জিতে ব্যান্ডেজ বেধে এসেছেন। বিশেষ পরিস্থিতিতে তামিমকে ব্যাট করতে পাঠানোর সিদ্ধান্তটা আসলে নিয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি। মাশরাফি তামিমকে মাঠে নামতে বলেন। তামিম প্রথমে ঠাট্টা মনে করলেও পরবর্তীতে বুঝলেন মাশরাফি সত্যিই চান সে মাঠে নামুক। শুধু তাই নয়, তামিমের দুই আঙুলে ব্যান্ডেজ থাকায় হাতে গ্লাভস পরাও সম্ভব হচ্ছিল না। তামিমের সিদ্ধান্তের পর অধিনায়ক নিজে গ্লাভস কেটে গ্লাভসের ভেতর হাত ঢুকিয়ে দেন। বাকিটা ইতিহাস। নেমে লাকমালের শেষ বলটা এক হাতে ব্যাটিং করেন তামিম। 

মাশরাফির কথাতে উজ্জ্বীবিত হয়েই মাঠে নামেন তামিম এবং একহাতে ব্যাট করে দারুণ অনুকরণীয় এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। মুশফিকও সে অনুপ্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে করলেন দুর্দান্ত ব্যাটিং (১৪৪ রান, ৩২ রান এসেছিল তামিমের সঙ্গে শেষ উইকেট জুটিতে) এবং বাংলাদেশ জিতল ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে।

এছাড়া সুপার ফোরে অঘোষিত সেমিফাইনালে পকিস্তানের বিপক্ষে সাকিব না থাকার খবর জানানোর পর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা কিভাবে দলকে অণুপ্রেরণা ও উদ্বুদ্ধ করেছিলেন জানান মুশফিক। তিনি বলেন, ‘মাশরাফি ভাই একটি কথাই বলেছিলেন যে, “যুদ্ধে নামলে পেছনে তাকিয়ে থাকার সুযোগ নেই। যুদ্ধে ময়দানে গা বাঁচিয়ে চললে চলবে না। হয় মারব, নয় মরব।’ মাশরাফি ভাই যে কথাটি বলেছে, এটা দারুণ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে দলকে। আমাকে আমার শত ভাগ দিতে হবে। আমরা ফল নিয়ে চিন্তা না করে চেষ্টা করেছি শতভাগ দিতে। জানতাম সেটি দিতে পারলে আমরাই জিতব।’ সেই ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ।

আর সুপার ফোরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মোস্তাফিজের যখন পাঁচ ওভার শেষ হয় তখন আর পেরে উঠছিলেন না মোস্তাফিজ। ডিহাইড্রেশনে ক্র্যাম্প করতে শুরু করে পায়ের  পেশি। এর মাঝেই ক্লান্তি কাটানোর চেষ্টা করেছেন, মাঠে নিজে নিজে স্ট্রেচিং করেছেন।  কিন্তু তার শরীর দিচ্ছিল না। ছুটে গেলেন অধিনায়কের কাছে, জানালেন নিজের ক্লান্তির কথা। কিন্তু অধিনায়ক তো মোস্তাফিজকে নিয়েই ডেথ ওভারের ছক করে রেখেছেন। তার মধ্যে রুবেল  হোসেনও নেই। তাই মোস্তাফিজকে নিয়ে বল করাবেনই ম্যাশ। তাকে সাহস দেন অধিনায়ক। অধিনায়কের সাহসেই শেষ ওভারে বল হাতে নিলেন মোস্তাফিজ। ম্যাচের শেষ ওভারে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের প্রয়োজন ৮ রান। তাদের হাতে চার উইকেট। ওই ওভারে মুস্তাফিজ মাত্র চারটি রান দিয়ে এক স্বপ্নময় জয় তুলে দেয় বাংলাদেশকে। বল করাতে না চাওয়া মোস্তাফিজই অধিনায়কের প্রেরণায় হাসি  ফোঁটালেন গোটা বাংলাদেশের।
 


মাশরাফি ওয়ানডে ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ দলকে ৬৪টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৫টি ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। হেরেছেন ২৭টি ম্যাচ। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে ২৮টি ম্যাচ খেলে ১০টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে তিনি একটি ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেই ম্যাচটিতে বাংলাদেশ জয় পেয়েছিল।

মাশরাফি বিন মর্তুজা এখন শুধু ওয়ানডে ক্রিকেট চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি তো দীর্ঘদিন ধরে টেস্ট ক্রিকেট খেলেন না। আর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ১৯৬ টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে মাশরাফি বিন মর্তুজা ব্যাট হাতে করেছেন ১ হাজার ৭২০ রান। আর বল হাতে নিয়েছেন ২৫১টি উইকেট।

তিনি তার ক্যারিয়ারে ৩৬টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ৭৯৭ রান করেছেন। বল হাতে নিয়েছেন ৭৮টি উইকেট। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তিনি ৫৪টি ম্যাচ খেলে ৩৭৭ রান করেছেন ও বল হাতে ৪২টি উইকেট নিয়েছেন।  

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৫ অক্টোবর ২০১৮/মোহাম্মদ মিলন/আমিনুল

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন