ঢাকা, শুক্রবার, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২২ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

সবচেয়ে বড় ইফতার মাহফিল নলতা শরিফে

এম.শাহীন গোলদার : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-১২ ৩:৩৯:৪৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৫-১২ ৩:৫৯:০৩ পিএম

শাহীন গোলদার, সাতক্ষীরা : দেশের সবচেয়ে বড় ইফতার মাহফিল হয় সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা শরিফে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পয়লা রমজান শুরু হয়ে এ ইফতার মাহফিল চলবে ৩০ রমজান পর্যন্ত। মাসব্যাপী এই ইফতার মাহফিলের পরিধি আরো বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার রোজাদারের জন্য এখানে ইফতার প্রস্তুত করা হয়।

নলতা রওজা শরিফ প্রাঙ্গণে ৫ থেকে ৬ হাজার এবং জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মিশন ও মহল্লায় ৪ হাজার ইফতারির প্লেট সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তবে এত বড় আয়োজনে কারো কোনো সমস্যা হয়েছে বলে এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এখানে প্রতিদিন ইফতারের পূর্বে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দেশ ও জাতীর কল্যাণে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

হজরত শাহ সুফি আলহাজ খান বাহাদুর আহছানউল্লাহর (রহ.) মৃত্যুর পরও মিশন কর্তৃপক্ষ এ মাহফিলকে অব্যাহত রেখেছে।

নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের ব্যবস্থাপনায় ও নলতা শরিফের খাদেম আলহাজ আনছার উদ্দিন আহমেদের বিশেষ তত্ত্বাবধানে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

এখানে বাঁশ-খুঁটি আর টিন দিয়ে তৈরি করা বিশাল ছাউনিতে একসাথে ৬ হাজার রোজাদার ইফতার করতে পারেন। ইফতার বণ্টন ও তদারকির জন্য রয়েছে ২০০ স্বেচ্ছাসেবক। সব শ্রেণির মানুষ প্রতিদিন অংশ নেন এই ইফতার মাহফিলে। দূর-দূরান্ত থেকেও ইফতারের উদ্দেশ্যে রোজাদাররা ছুটে আসেন নলতা রওজা শরিফ প্রাঙ্গণে।

ইফতারি সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে খেজুর, ছোলা, শিঙাড়া, ফিরনি, চিড়া, কলা ও ডিম। এত মানুষের ইফতারির আয়োজনের পরও জেলার বিভিন্ন মসজিদে একবার করে ইফতারি পৌঁছে দেওয়া হয়।

বাবুর্চি মহব্বত আলী জানান, প্রতিদিন ৬০০ কেজি দুধ দিয়ে ফিরনি রান্না করা হয়। সিদ্ধ করা হয় ১০ হাজার ডিম। প্রতি বছরই আমি এখানে রান্নার কাজ করে থাকি। এ মাসটি আমরা রোজাদারদের খেদমত করি।

শিঙাড়া বাবুর্চি মুক্তার হোসেন বলেন, আমি এখানে ৩৪ বছর ধরে সিঙ্গাড়া বানাই। ১৫ থেকে ২০ জন একত্রে কাজ করি। আসরের নামাজের আগেই সিঙ্গাড়া প্রস্তুত করে ফেলি।

স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, আমরা প্রতিদিন চারটি গ্রুপে ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবক রয়েছি এখানে। সকলেই নিজ উদ্যোগে এখানে এসেছি। বিকেল ৪টার পর থেকে বণ্টন কাজ শুরু করি। চেষ্টা করি যেন আগত কোনো রোজাদারের কোনোরূপ অসুবিধা না হয়।

৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ইফতারিতে অংশ নিতে আসা সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মো. মতিয়ার রহমান বলেন, শুনেছি, এখানে ১০ হাজার মানুষ একসঙ্গে ইফতারি করে। তাই আজ প্রথম আমি অংশগ্রহণ করতে আসলাম। অনেক জ্ঞানী-গুনী মানুষ এখানে আসেন। শুধু তাই নয়, মহান সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ লাভে নলতা দরবারের শাহী জামে মসজিদে ইতেকাফে বসেন ৫৫০ থেকে ৬০০ জন ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। যাদের খাওয়া-দাওয়া ও ইফতারের ব্যবস্থাও এখানে করা হয়। দরবার এলাকায় অবস্থিত নলতা শরিফ শাহী জামে মসজিদে প্রতিদিন তারাবিতে অংশ নেন ২ হাজারেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।

নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের হিসাবরক্ষক এবাদুল হক বলেন, প্রতিবছর রমজানে ইফতার, তারাবি ও ইতেকাফ উপলক্ষে নলতা রওজা শরিফে সাড়ে ৬ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে বাঁশ-খুঁটি দিয়ে টিনের ছাউনি তৈরি করা হয়। আর প্রতিদিন ইফতারিতে খরচ গড়ে ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। দিনে দিনে এর ব্যাপ্তি আরো বাড়ছে।

নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের সদস্য মো. মালেকুজ্জামান জানান, ক্রমান্বয়ে এর পরিধি বেড়েই চলেছে। নতুন মসজিদটা নির্মাণ হয়ে গেলে এখানে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের বসার স্থান হবে। বর্তমান অস্থায়ীভাবে টিন ও বাঁশ দিয়ে ছাউনি তৈরি করা হয়েছে। এখানকার সকল কর্মকর্তাদের ইচ্ছা কেউ যেন এখান থেকে খালি মুখে ফিরে না যায়। কেউ যেন কষ্ট না পায়, এটিই আমার দাদু খান বাহাদুর আহছানউল্লাহর (রহ.) চাওয়া।



রাইজিংবিডি/সাতক্ষীরা/১২ মে ২০১৯/শাহীন গোলদার/রফিক

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন