ঢাকা, শনিবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৩০ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

সব অপরাধীকে শাস্তি দেয়ার সক্ষমতা হয়নি: দুদক চেয়ারম্যান

এম এ রহমান মাসুম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৮-২১ ৬:৪৩:৪৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৮-২১ ৬:৪৪:৫৫ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন,' কমিশনের প্রায় ৭০ ভাগ মামলায় অপরাধীদের শাস্তি হচ্ছে। তবে তদন্তের ক্ষেত্রে কমিশনের সক্ষমতা এখনও কাক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। কমিশন শতভাগ মামলায় শাস্তি প্রত্যাশা করে।'

বুধবার জাতিসংঘ উন্নয়ন তহবিলের (ইউএনডিপি) প্রতিনিধি ফিলিয়াট ম্যাটসেজার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এসব তথ্য জানান।

বৈঠকে ফিলিয়াট ম্যাটসেজা দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমসহ সাবির্ক কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চান।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদক দুর্নীতি দমন, প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের সকল কার্যক্রম সমগুরুত্বে পরিচালনা করছে। প্রতিকারমূলক কার্যক্রমের ফলাফল স্বয়ংক্রিয়ভাবেই প্রতিরোধমূলক কার্যেই পরিগণিত হয় বলে অনেকেই মনে করেন। কারণ দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত এবং প্রসিকিউশনের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি হলে তা দুর্নীতি প্রতিরোধেও বিশেষ ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশন বহুমাত্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিক মূল্যবোধে জাগ্রত করার লক্ষ্যে দেশের স্কুল, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৮ হাজার ‘সততা সংঘ’ গঠন। এছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধে গণসচেতনতা বৃদ্ধির  লক্ষ্যে জেলা, উপজেলা, নগর-মহানগর পর্যায়ের স্বচ্ছ এবং সৎ মানুষদের নিয়ে  দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি সেবা দেয়ার প্রক্রিয়াকে পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে ঘুষ, দুর্নীতি, দীঘসূত্রিতা এবং জনহয়রানি লাঘবের লক্ষ্যে কমিশন ২৮ টি প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করেছে। এসব টিম সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান আইন, বিধি, পরিচালনা পদ্ধতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অপচয়ের দিকসমূহ পর্যবেক্ষণ করে এসব প্রতিষ্ঠানের জনসেবার ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও দুর্নীতির কারণসমূহ চিহ্নিত করে তা বন্ধে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করে প্রতিবেদনসমূহ সরকারের নিকট পেশ করা হচ্ছে।

গণশুনানি সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, গণশুনানিকে সরকারি সেবাপ্রত্যাশী জনগণ এবং সেবা দেয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যক্ষ সংযোগের একটি প্রক্রিয়াও বলা যেতে পারে। এটি স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাদিহিতা নিশ্চিতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, তাত্ত্বিকভাবে অনেকে বলেন, অর্থনৈতিক বিকাশের সাথে সাথে দুর্নীতিও বিকশিত হয়। কমিশন এই দুর্নীতিকেই নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্নীতিপরায়ণদের আইনের আওতায় আনা অব্যাহত রয়েছে। কমিশনের এনফোনর্সমেন্ট ইউনিট প্রায় প্রতিদিনই একাধিক স্থান বা সংস্থায় দুর্নীতি সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করছে। এমনকি আজও কমপক্ষে ১০ টি স্থানে এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।

ফিলিয়াট ম্যাটসেজা দুদকের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, দুর্নীতি বৈশ্বিক সমস্যা। দুর্নীতি দমন কমিশনের সাথে দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক কাজে ইউএনডিপি’র সহযোগিতার ক্ষেত্র রয়েছে।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ আগস্ট ২০১৯/ এম এ রহমান/সাজেদ