ঢাকা     শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৩ ১৪২৭ ||  ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কে আসছেন?

50 || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:১৭, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯  

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন বৃহস্পতিবার। সম্মেলনে তিন বছর মেয়াদী কমিটি গঠনের কথা রয়েছে। কমিটি গঠন নিয়ে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। দলের হাল এবার কে ধরছেন- এমন কৌতূহল দলে তো বটেই জেলার অন্যান্য দল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও।

শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পীযুস কান্তি ভট্টাচার্য। প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা রয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের। প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান। বিশেষ অতিথি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর  সদস্য সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহামুদ, শ্রম ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কার্যনির্বাহী সদস্য এসএম কামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন ও মারুফা আক্তার পপি। সম্মেলনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শেখ তন্ময় এমপিসহ অনেকেই।

এবার সভাপতি পদে নির্বাচনে আগ্রহী বেশ কয়েকজন রয়েছেন আলোচনায়। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক।

আ ফ ম রুহুল হক সাতক্ষীরা মেডিক‌্যাল কলেজের স্থপতি। ২০০৪ এর ২১ অগাস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় আহতদের দেশে ও বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন তিনি। ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন ঢাকা মেডিক‌্যাল কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন।

আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সভাপতি ১৯৯৬ ও ১৯৯১ এর সাবেক সংসদ সদস্য সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আহমেদ। ১৯৮০ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত টানা ১৯ বছর তিনি ছিলেন দলের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক।

সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক আহবায়ক ২০০৮ এর জাতীয় সংসদ সদস্য, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবর রহমান।

এছাড়া আলোচনায় এসেছে ১৯৭৪ এ সাতক্ষীরা কলেজ ছাত্র সংসদের প্রথম ভিপি, সাতক্ষীরা সদর আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবির নাম। তবে এই চার নেতার কেউই প্রকাশ্যে সভাপতি প্রার্থী হতে চান এমন দাবি করেননি। তারা বলেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা চাইলেই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের টানা পনের বছর ধরে সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম এবারও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচিত হচ্ছেন। তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ এর সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা সদর আসনে নৌকার প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করেন এবং ২০০৮ এর নির্বাচনে জোট গতভাবে জাতীয় পার্টির অনুকূলে প্রার্থী তা প্রত্যাহার করেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে যারা নিজেদের নাম প্রকাশ করেছেন তারা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আবু আহমেদ। তিনি যশোর সিটি কলেজের ৭৪-৭৫ সংসদের ভিপি, যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক, ৬৯ এ ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক, ৭৫ পরবর্তীতে দলের পক্ষে সাহসী ভূমিকা গ্রহণকালে নির্যাতনের শিকার, ২০১৩ সালে সাতক্ষীরায় সহিংস তাণ্ডবের বিরুদ্ধে রাজপথে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। তিনি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের কয়েক বারের সভাপতি ও সাতক্ষীরার দৈনিক কালের চিত্র সম্পাদক।

এছাড়া মাঠে আছেন সদর উপজেলা পরিষদের দুইবারের চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা ছাত্রলীগ ও জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবু।

আরো যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- মাঠ পর্যায়ের আন্দোলনে বারবার গ্রেফতার ও কারা নির্যাতনের শিকার ১৯৮৫ তে জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক, ১৯৮৮ তে প্রথম ও ১৯৯২ তে দ্বিতীয়বারের মতো জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও পরে জেলা যুবলীগের আহবায়ক বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক শেখ সাহিদ উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ ফিরোজ কামাল শুভ্র, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা আ হ ম তারেকউদ্দিন, জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুনার রশীদ।

এর আগে ১৯৭০ এ তৎকালীন মহকুমা আওয়ামী লীগ সভাপতির হাল ধরেছিলেন বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী সৈয়দ কামাল বখত সাকি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এএফএম এন্তাজ আলি। ১৯৮০ সালে ফের সৈয়দ কামাল বখত সাকি সভাপতি হন। এ সময় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সাবেক সাংসদ মুনসুর আহমেদ। ১৯৯৮ সালে দেবহাটা কালিগঞ্জের ভূমিহীন আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কমিটি বিলুপ্ত করা হলে গঠিত কমিটির আহবায়ক হন সৈয়দ কামাল বখত সাকি এমপি। ২০০০ সালের ১৫ ডিসেম্বর সৈয়দ কামাল বখত সাকি মৃত্যুবরণ করলে তার স্থলাভিষিক্ত হন ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবর রহমান।

২০০৪ সালের সম্মেলনে নতুন কমিটির সভাপতি হন ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হন মো. নজরুল ইসলাম। ২০১৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মুনসুর আহমেদকে ফের সভাপতি ও মো. নজরুল ইসলামকে দ্বিতীয় মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত হয় কমিটি।

প্রায় পাঁচ বছর পর কে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাল ধরবেন তা জানা যাবে ১২ ডিসেম্বর।


সাতক্ষীরা/শাহীন গোলদার/সাইফ

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়