ঢাকা     সোমবার   ১০ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৬ ১৪২৭ ||  ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

সাতক্ষীরায় মানুষের প্রবেশ থামছে না, জনমনে আতঙ্ক

50 || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৪:৫১, ১১ এপ্রিল ২০২০  
সাতক্ষীরায় মানুষের প্রবেশ থামছে না, জনমনে আতঙ্ক

সাতক্ষীরায় নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে মানুষের প্রবেশ ঠেকাতে জেলার প্রতিটি প্রবেশদ্বারে আইনশৃংখলা বাহিনীর চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এই চেকপোস্ট উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত মানুষ সাতক্ষীরায় ঢোকার চেষ্টা করছে। রাতের আঁধারে ট্রাকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর, শরিয়তপুর থেকে মানুষ ঢুকছে।

সচেতন মহলের অভিযোগ,সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানুষকে প্রবেশ করতে না দেওয়ার ঘোষণা হলের তা কার্যকর করতে পারছে না।

গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও কৌশলে ট্রাকের মধ্যে, অ্যাম্বুলেন্সে এবং ছোট যানবাহনে চড়ে তারা সাত উপজেলার গ্রামাঞ্চলে ফিরছে বলে বিভিন্ন এলাকার মানুষ নিশ্চিত করেছেন।

বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে, গত চার দিনে যে সব মানুষ সাতক্ষীরায় এসেছে, তাদের অধিকাংশই ইটভাটা শ্রমিক। তাদের বাড়ি সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। তারা বাড়িতে ফিরে হাটে-বাজারে ঘোরাফেরা করছেন। তাদের সকলের  কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা থাকলেও কেউ নিয়ম মানছেন না।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকাসহ বাইরের জেলা থেকে ট্রাকে করে ৭৩ জন মানুষ দেবহাটা উপজেলায় ফেরেন। তারা সকলে ইটভাটার শ্রমিক। তারা তিনটি ট্রাকে করে আসে। প্রতি ট্রাকের উপরে পলিথিন দিয়ে ঢেকে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় ২০ থেকে ২৫ জন গাদাগাদি করে ফিরেছেন।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে সাতক্ষীরা-যশোর সড়কের মাধবকাটি বাজারে স্থানীয়রা পলিথিনে ঢাকা চারটি ট্রাক ও একটি পরিবহনে দুই শতাধিক মানুষকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তারাও সবাই ইটভাটা শ্রমিক।

শুক্রবার দিবাগত রাতে তালা উপজেলার শ্রীমন্তকাটি বাজারে শতাধিক ইটভাটা শ্রমিক আসেন। তাদের নামের তালিকা করা হয়েছে। তাদের বাড়ি তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের শ্রীমন্তকাটি, দোহার, আটুলিয়া ও খেশরা ইউনিয়নের বালিয়া, সাহাজাতপুর, মুড়াগাছা এলাকায়।

শরিয়তপুর থেকে বাড়িতে ফিরে কোয়ারেন্টিনে থাকা কালীগঞ্জ উপজেলার এক ব্যক্তি বলেন, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী তিনি বাড়ির পাশে ধানখেতে দোচালা বানিয়ে সেখানে কোয়ারেন্টিনে আছেন।

বিভিন্ন স্থান থেকে তালা উপজেলায় আসা ইটভাটা শ্রমিকদের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার জানান, তারা কারো কথা মানছে না। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা এলাকায় মাইকিং করে সচেতন করছেন।

শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন বলেন, তার উপজেলার বহু মানুষ ইটভাটায় কাজ করেন। অনেকে এলাকায় ফিরছেন। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সাংসদসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মিটিং হয়েছে। সেখানে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের প্রাইমারি স্কুলে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, প্রতিটি উপজেলার নির্বাহী অফিসার, চেয়ারম্যানদের এ ধরনের মানুষকে চিহ্নিত করে হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার জন্য বলা হয়েছে।

তিনি আরো জানান,কয়েকটি জেলায় করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ায় ওই জেলায় কর্মরত লোকজন নিজ বাড়িতে ফিরতে চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি দুই সহস্রাধিক মানুষ সাতক্ষীরায় ফিরে এসেছে বলে জানান তিনি। 

এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকে আগত ৮ জনকে দেবহাটা উপজেলায় বাড়িতে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। আশাশুনি উপজেলায় ২৫০ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে এবং ৫৫০ জনকে বাড়িতে কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলায় ৩০০ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে এবং ১ হাজার ৫০০ জনকে বাড়িতে কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

ঢাকা/বকুল

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়