ঢাকা, রবিবার, ২০ আষাঢ় ১৪২৭, ০৫ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে আমরণ অনশনের হুমকি

আবু বকর ইয়ামিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৪-২২ ৩:১৫:১১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৪-২২ ৯:০৮:৪৬ পিএম
ছবি : ইয়ামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ফান্ডে বর্ধিত ৪ শতাংশ চাঁদার আদেশ বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)।

দাবি মানা না হলে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে আমরণ অনশনের হুমকি দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। এছাড়া, রাজধানীর পলাশীতে ব্যানবেইস ভবনে অবস্থিত অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অফিস ঘেরাও করারও হুমকি দিয়েছেন তারা।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন বিটিএর সাধারণ সম্পাদক মো. কাওছার আলী শেখ।

তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে- দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের লক্ষ্যে আসন্ন ঈদের আগেই সরকারি শিক্ষকদের মতো বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা ও বাড়িভাড়া প্রদান। 

তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্ধের আগে ৩০ এপ্রিল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীদেরকে স্মারকলিপি দেবেন শিক্ষকরা। একই দিনে সারা দেশের জেলা শহরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল এবং জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীদেরকে স্মারকলিপি দেবেন তারা।

এর আগে ২৫ এপ্রিল দেশের সব উপজেলা সদরে মানববন্ধন কর্মসূচি এবং প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীদেরকে স্মারকলিপি দেবেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. বজলুর রহমান মিয়া বলেন, শিক্ষকনেতাদের সাথে কোনোরকম আলোচনা ছাড়াই চাঁদার হার বৃদ্ধি করা হয়। এতে শিক্ষকরা মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। এর আগেও কয়েকবার চাঁদা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়েছে এবং প্রজ্ঞাপন জারি করেও তা স্থগিত করা হয়।

তিনি বলেন, অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের শত শত কোটি টাকা সিড মানি কোনো ব্যাংকে কী সুদে থাকে তা জানার অধিকার সব শিক্ষকের থাকলেও তা জানা যায় না। গত ১৬ বছরে কোনো অনুসন্ধান, তদন্ত ও অডিট হয়নি। রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যংক থেকে শত শত কোটি টাকা তুলে তা বেসরকারি ব্যাংকে রাখার অতিরিক্ত সুদের টাকা কাদের পকেটে যায়?

অবসর ও কল্যাণের সব ব্যাংক হিসাব মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অডিট করানোর দাবি জানান তিনি।

জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক  আদেশে অবসর ও কল্যাণ ফান্ডের চাঁদার হার যথাক্রমে ৬ ও ৪ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ আগে ছিল মোট ৬ শতাংশ, যা  বেড়ে ১০ শতাংশ হলো। চলতি এপ্রিল মাস থেকে এই বর্ধিত চাঁদা দিতে হবে। কিন্তু শিক্ষকরা তা দিতে চান না। তাদের যুক্তি বেশি চাঁদার জন্য বাড়তি কোনো সুবিধা পাবেন না তারা। অপরদিকে, সরকারের যুক্তি চাঁদার হার বেশি দেওয়া হলে অবসরে যাওয়ামাত্রই টাকা পাওয়া যাবে। ফান্ড সংকট থাকায় অবসরে যাওয়ার পর পাঁচ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় অবসর সুবিধার টাকার জন্য।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিটিএর উপদেষ্টা মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক, রঞ্জিত কুমার সাহা, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মো. আবুল কাশেম, সহ-সভাপতি আলী আজগার হাওলাদার, বেগম নুরুন্নাহার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু জামিল মোহাম্মদ সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন, অর্থ সম্পাদক মোস্তফা জামান খান, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক নিহার কান্তি বাছাড়, দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, গ্রন্থাগার সম্পাদক অশোক কান্তি গুহ, সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফাহমিদা রহমান, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শাহানা বেগম।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ এপ্রিল ২০১৯/ইয়ামিন/রফিক