ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

সিলেটে দিন-রাত চলছে কেনাবেচা

আব্দুল্লাহ আল নোমান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৬-০১ ৮:০১:২৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৬-০১ ৮:০১:২৬ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট : শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা। সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার পয়েন্ট। চারদিক থেকেই গাড়ির দীর্ঘ লাইন। এতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। আর তা নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।

শনিবার দুপুরেও একই চিত্র দেখা গেছে নগরীর ব্যস্ততম সবকটি সড়কে। প্রিয়জনের জন্য ঈদের নতুন পোশাক কিনতে শেষ মুহূর্তে সকলেই ছুটছেন বাজারে। এ কারণে জিন্দাবাজার, নয়াসড়ক, কুমারপাড়া, নাইওরপুল, জেলরোড সড়কে যানবাহনের এমন দীর্ঘ লাইন লেগেই আছে।

মানুষের স্রোতের কারণে অভিজাত শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাত কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি চলছে কেনাবেচা। গভীর রাতেও উৎসবমুখর থাকছে নগরী। ঈদ আসায় পাল্লা দিয়ে ব্যস্ততা বেড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতা সকলেরই।

নগরীর জিন্দাবাজার, নয়াসড়ক, কুমারপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক শপিং সেন্টার ও বিপণিবিতান ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। দিন-রাত সমানতালে এসব এলাকার দোকানে চলছে কেনাবেচা। পছন্দের পোশাক কিনতে এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেট ঘুরে বেড়াচ্ছেন অনেকে।



এবার আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাক পছন্দ করছেন ক্রেতারা, যে কারণে দেশি পোশাকের দোকানে বেশি ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে তরুণীরা ছুটছেন দেশীয় ব্রান্ড হাউসে। আর উৎসবে ছেলেদের পছন্দে প্রধান্য থাকে পাঞ্জাবি; ফলে পাঞ্জারির দোকানে ভিড় দেখা গেছে।

যাদের পোশাক কেনাকাটা শেষ হয়েছে, তারা ছুটছেন জুতার দোকানে। একইভাবে প্রসাধনীর দোকানেও ভিড় করছেন ফ্যাশন সচেতন তরুণীরা। সব মিলিয়ে এবারের ঈদে শেষ মুহূর্তে হাসি ফুটেছে বিক্রেতাদের।

দোকানিরা বললেন, সিলেটে সাধারণত ১৫ রমজানের পর থেকে কেনাকাটা জমজমাট হয়। কিন্তু এবার বৃষ্টির কারণে তখন তারা অলস সময় পার করেছিলেন। এমনকি ব্যবসা নিয়ে দুশ্চিন্তায়ও ছিলেন। তবে, শেষ দিকে হলেও কেনাবেচা জমে উঠায় তারা লাভের মুখ দেখবেন। এখন বিক্রেতাদের চাপে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলেও জানালেন দোকানিরা।

এবার কাপড়ের দাম নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতা সাধারণ। তাদের মতে, গতবারের চেয়ে দাম কিছুটা বেড়েছে। যদিও বিক্রেতারা বলছেন, মান বেধে কাপড়ের দর কিছুটা বাড়তি রয়েছে। তবে তা অন্য সময়ের মতোই স্বাভাবিক বলেও জানান তারা।

সিলেটের একাধিক ফ্যাশন হাউস ঘুরে দেখা যায়, ফ্যাশন সচেতন তরুণ-তরুণীরা এবার সুতির দেশীয় পোশাক গুরুত্ব দিচ্ছেন। অভিজাত ফ্যাশন হাউসে তাদের পোশাক ডিজাইনে যেমন ভিন্নতা এনেছে, তেমনি গুরুত্ব দিয়েছে সুতি পোশাক। সালোয়ার কামিজ, টপস, লেহেঙ্গা, গাউন, ফরমাল শার্ট, টি-শার্ট, প্যান্ট ইত্যাদি পোশাকে আরামদায়ক ফেব্রিক সবচেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে। এ জন্য সুতি, লিনেন, অ্যান্ডি, সিল্ক, মসলিন, খাদির পোশাকের চাহিদা বেশি।



ফ্যাশন হাউস মাহা’র স্বত্বাধিকারী মাহী উদ্দিন আহমদ সেলিম বললেন, তরুণ-তরুণীদের বিদেশের পাশাপাশি দেশি পোশাকে সংগ্রহ রয়েছে। মাহা সবসময়ই তাদের রুচি এবং শিল্পবোধ মাথায় রেখে কাপড়ের কালেকশন করে থাকে। এ জন্য এখানে সব সময় ভিড় থাকে বলে জানান তিনি।

নগরীর কুমারপাড়া এলাকার দেশী দশে কথা হয় স্কুল শিক্ষক তাসমিয়া জান্নাতের সঙ্গে। তিনি বললেন, এক ছাদের নিচে দেশীয় ১০টি ব্রান্ডের পোশাক পাওয়া যায়, যে কারণে তিনি এখানে এসেছেন। ফ্যাশন হাউস অঞ্জনস থেকে সুতির থ্রি-পিসও কিনেছেন। 

পোশাক কিনলেও এর সঙ্গে মিলিয়ে জুতা, প্রসাধনী সামগ্রী কিনতে তাকে জিন্দাবাজারের বিপণিবিতানে যেতে হবে বলেও জানান তিনি।

আড়ং’য়ে কথা হয় কলেজ শিক্ষার্থী ইমরান আহমদের সঙ্গে। তিনি বললেন, উৎসবে পাঞ্জাবি লাগবেই। সেই জন্য তিনি আড়ংয়ে পাঞ্জাবি কিনতে এসেছেন।

সাধ্যের মধ্যে কেনাকাটা করতে ফুটপাতের দোকানে ভিড় করছেন নিম্ন আয়ের লোকজন। ফলে সেখানকার ব্যবসায়ীদেরও দম ফেলার ফুসরত নেই। শেষ মুহূর্তে হলেও তাদের বেচাকেনা জমজমাট হওয়ায় স্বস্তিতে রয়েছেন তারা।



রাইজিংবিডি/সিলেট/০১ মে ২০১৯/আব্দুল্লাহ আল নোমান/বকুল

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন