ঢাকা, শুক্রবার, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

সিলেটে নদীর পানি বাড়ছে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

আব্দুল্লাহ আল নোমান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৬-২৮ ৮:৩৪:২০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৬-২৯ ৮:২১:১৭ এএম
সিলেটে নদীর পানি বাড়ছে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
সিলেটে পাঁচ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত (ছবি : রাইজিংবিডি)

আব্দুল্লাহ আল নোমান, সিলেট : চার দিনের টানা বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সিলেটের প্রধান নদ-নদীর পানি ক্রমশ বাড়ছে। সিলেটে নদী তীরবর্তী উপজেলার জনসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে বন্যার আতঙ্ক।

ইতিমধ্যে পাঁচটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বৃষ্টিপাত না কমলে রাতের মধ্যে আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুসারে শুক্রবার বিকেল ৩টায় সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৭১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সিলেট পয়েন্টে সুরমা এখনো বিপদসীমা অতিক্রম না করলেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এ পয়েন্টে বিপদসীমার মাত্র ৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া কুশিয়ারার আমলশীদ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৪ দশমিক ১ সেন্টিমিটার, শেওলায় ১১ দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার এবং শেরপুর পয়েন্টে ৭ দশমিত ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়েই পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কানাইঘাটে সীমান্ত নদী লোভা ১৪ দশমিক ৬১ এবং জৈন্তাপুরে সারী নদী ১২ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি বেড়েছে সীমান্ত নদী ধলাই, সারী এবং পিয়াইনেরও। এ কারণে দূ-কূল উপচে হুহু করে পানি প্রবেশ করেছে লোকালয়ে। পাহাড়ি ঢলের কারণে সীমান্ত নদী পিয়াইন ও সারি নদীর পানি উপচে গোয়াইনঘাট উপজেলার বেশির ভাগ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিতে সারি-গোয়াইনঘাট এবং সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

 

শুক্রবার বিকেল থেকে জেলা সদরের সাথে এ উপজেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বন্যায় রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাছাড়া উপজেলার জাফলং ও বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারী বন্ধ হওয়ায় কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় সংবাদকর্মী মো. মনজুর আহমদ জানান, পিয়াইন ও সারী নদী দিয়ে আসা ঢলে উপজেলার পূর্ব জাফলং, আলীরগাঁও, রুস্তমপুর, ডৌবাড়ী, লেঙ্গুড়া, তোয়াকুল, নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম বন্যা কবলিত হয়েছে। এছাড়া টানা বৃষ্টির কারণে বেড়েই চলছে উপজেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহমান পিয়াইন ও সারি নদীর পানি। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পানি বাড়ায় শুক্রবার বিকেল থেকে সারী-গোয়াইন সড়কে যানবাহন চলাচল করছে না। এছাড়া অনেক এলাকায় গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

একইভাবে সারি, বড়গাং নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় জৈন্তাপুরের নিম্নাঞ্চলের গ্রামগুলোরও পানিতে তলিয়ে গেছে। তাছাড়া নদীগুলোর পানি বেড়ে যাওয়ায় হাওরেও বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ উপজেলার চারিকাটা, নিজপাট এবং দরবস্ত ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। গ্রামীণ রাস্তা-ঘাটও তলিয়ে গেছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান।

কানাইঘাট থেকে স্থানীয় সংবাদকর্মী আলাউদ্দিন বলেন, কানাইঘাটে সুরমার পানি বিপদসীমার ৭১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও নিম্নাঞ্চলের কয়েকটি গ্রাম ছাড়া আর কোনো এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর এখনও পাওয়া যায়নি।

 

কোম্পানীগঞ্জ থেকে স্থানীয় সংবাদকর্মী আবিদুর রহমান জানান, ধলাই নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে মোড় নিতে পারে। এছাড়া ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারিতে পাথর উত্তোলনও বন্ধ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে সিলেট সদর উপজেলার সুরমা তীরবর্তী এলাকাগুলোও পানিতে তলিয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার সিলেটে টানা বৃষ্টিপাত হয়েছে। সিলেট আবহাওয়া অফিস জানায়, শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সিলেটে ৮২ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এছাড়া, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৭৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।

এদিকে সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এ জেলায় সুরমার পানি বিপদসীমার ৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও তাহিরপুর এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।


রাইজিংবিডি/সিলেট/২৮ জুন ২০১৯/আব্দুল্লাহ আল নোমান/সাইফ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন