ঢাকা, সোমবার, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

আব্দুল্লাহ আল নোমান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৭ ৯:৫৩:১১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৭-১৭ ১০:০৬:১৫ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট: সিলেটের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। প্লাবিত এলাকা থেকে নামতে শুরু করেছে বন্যার পানি। আর পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। বন্যার পানিতে বাড়ি-ঘরের চারপাশ কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় মানুষের চলাচলে কষ্ট হচ্ছে। তবে পানি কমলেও সবকটি নদ-নদীতে এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়েই পানি প্রবাহিত হচ্ছে। উজানে বৃষ্টিপাত না হলে দুই-তিনদিনের মধ্যে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক অবস্থানে চলে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় আমলশীদ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি ৭১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে শেওলা পয়েন্টে ৬৭ সেন্টিমিটার এবং শেরপুর পয়েন্টে ৪৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমার পানি ৮৪ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ৩৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং জৈন্তাপুরের সারি নদীর পানি সারী পয়েন্টে ১০৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বিভিন্ন উপজেলা থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, উঁচু এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে গেলেও নিচু এলাকায় বন্যার পানি কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। এসব এলাকার লোকজনকে চলাচল করতে হচ্ছে নৌকাযোগে। তবে কিছু এলাকায় রাস্তা-ঘাট পানির নিচে থাকায় এখনো যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্যার কারণে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে সিলেটের সবকটি পাথর কোয়ারি, ফলে বেকার বসে আছেন লক্ষাধিক পাথর শ্রমিক।

পানিবন্দি জনসাধারণের মধ্যে বিশুদ্ধ পানির অভাব তীব্র আকার ধারণ করেছে। গো খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে। এছাড়া শুকনো খাবার না থাকায় ত্রাণের অপেক্ষায় রয়েছেন দুর্গত এলাকার মানুষ। প্রশাসন ও বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মনজুর আহমদ জানান, মঙ্গলবার থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও সেখানকার বীজতলা এবং ফসলী জমি বিনষ্ট হয়েছে। সারি ও পিয়াইন নদী দিয়ে ঢলের পানি কিছুটা ধীর গতিতে নামছে। এখনো বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত রয়েছে। উপজেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগও বন্ধ আছে।

কোম্পানীগঞ্জ থেকে সাংবাদিক আবিদুর রহমান জানান, উজান থেকে ধলাই নদী দিয়ে কিছুটা ধীর গতিতে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া উপজেলা সদরের রাস্তা-ঘাট দিয়ে দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়েছে। সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন সংগঠন ত্রাণ তৎপরতাও শুরু করেছে।  

কানাইঘাট থেকে সংবাদকর্মী আলা উদ্দিন জানান, বন্যার পানি ধীর গতিতে নামছে। তবে পানি নামলেও জনসাধারণের দুর্ভোগ বেড়েছে। কানাইঘাট-দরবস্ত সড়কের একটি বেইলি সেতু তলিয়ে যাওয়ায় এখনো উপজেলা সদরের সঙ্গে জেলা সদরের সরাসরি যান চলাচল বন্ধ আছে বলে জানান তিনি।

বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে এ পর্যন্ত ৬০০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৮ লাখ টাকা এবং তিন হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৪৬ মেট্রিক টন চাল, ৪ লাখ টাকা এবং ২ হাজার পিস শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পানি না নামা পর্যন্ত বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার সিলেটের উপ-পরিচালক মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টিপাতের কারণে প্রথমদিকে সিলেটের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ এবং কানাইঘাট উপজেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। পরবর্তীতে জেলার সবকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। পানি উঠে সিলেট নগরেও। এক সপ্তাহে সিলেটের ১৩ উপজেলায় বন্যায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।


রাইজিংবিডি/সিলেট/১৭ জুলাই ২০১৯/আব্দুল্লাহ আল নোমান/বকুল

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন