ঢাকা, সোমবার, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

সুদীপ দাস শ্রুতি লেখক পাবেন না: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-০৭ ৪:৩৮:৩৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-০৭ ৪:৩৮:৩৩ পিএম

বিচারক নিয়োগ পরীক্ষায় শ্রুতি লেখক চেয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুদীপ দাসের রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট।  এই আদেশের ফলে অন্ধ সুদীপ দাসকে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিচারক নিয়োগ পরীক্ষায় শ্রুতি লেখক ছাড়াই পরীক্ষা দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট কুমার দেবুল দে।  রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।

এর আগে গতকাল দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুদীপ দাস বিচারক নিয়োগ পরীক্ষায় শ্রুতি লেখক দিতে নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন।

গত ৫ নভেম্বর সুদীপ দাসকে নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অন্ধ হলে বিচারক হওয়াও যেন বন্ধ। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে বিচারক নিয়োগ বিধিতে রয়েছে এমনটা।  যাতে নেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধি কাউকে শ্রুতি লেখক দেয়ার নিয়ম।  ফলে পরপর দুই বছর পরীক্ষায় বসলেও খালি খাতা ফেরত দেন হতভাগ্য সুদীপ।  জীবনযুদ্ধে এতটা পথ পাড়ি দিয়েও এখন হতাশ এই যুবক।  যদিও ভারত, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব পালন করছেন অন্ধ বিচারকেরা।

সুদীপ দাস একবুক স্বপ্ন নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়েছিলেন বিচারক হবেন বলে। কিন্তু সেই আইন পড়াটাই যেন কাল হয়েছে তার জন্য। এক বন্ধুর হাত ধরে সুপ্রিম কোর্টে আসেন সুদীপ দাস। কথায় কথায় জানালেন তার আশঙ্কার কথা।  শুক্রবার হতে যাওয়া বিচারক নিয়োগ পরীক্ষায় কি অংশ নিতে পারবেন? কেননা গত দুই বছর প্রবেশপত্র পেয়েও দিতে পারেননি এই পরীক্ষা। দেড় ঘণ্টা হলে বসে থেকেও নিরাশ হয়ে ফিরতে হয় শ্রুতি লেখক না পাওয়ায়। পরীক্ষার আগে বারবার যোগাযোগ করছিলেন বাংলাদেশ জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সাথে। কিন্তু আইনি মারপ্যাঁচে মেলেনি কোনো সহযোগিতা।

ভুক্তভোগী সুদীপ দাস বলেন, ‘আমি শ্রুতি লেখক ছাড়াই পরীক্ষাটা দেই। দেড় ঘণ্টা হলে বসে ছিলাম।  কিছু লিখতে পারিনি।  ওএমআর শিট পূরণ করেছি শিক্ষক ও পাশে থাকা পরীক্ষার্থীদের সহায়তায়।  উত্তীর্ণ হওয়া দুরের কথা।  আমি পরীক্ষাটা দিতে চাই। অনেকে আমাকে জিজ্ঞাসা করে, তুমি আবেদন করতেছো, তোমাকেতো অনুমোদন দিচ্ছে না।’

তিনি বলেন, আমাকে হয়ত অনুমতি দিচ্ছে না। কিন্তু আমার হাত ধরে যদি আমার অনুজ যারা আছেন তারা যেন অনুমতি পায়।'


ঢাকা/মেহেদী/সাইফ  

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন