ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

স্টিভ জবসের মৃত্যুর পর কেমন চলছে অ্যাপল

মোখলেছুর রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-১০-০২ ২:০৮:২৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১০-০২ ৪:৪০:০০ পিএম

মোখলেছুর রহমান : অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস এর মৃত্যুর প্রায় ছয় বছর পর, তার নিজ হাতে গড়া সিলিকন ভ্যালির অন্যতম বৃহৎ এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি দিন দিন বড় এবং শক্তিশালীই হচ্ছে। যদিও স্টিভ জবসের মৃত্যুর পর অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যে, এত বড় একজন স্বপ্নদর্শী নেতার মৃত্যুর পর আদৌ অ্যাপল ভবিষ্যতে কতদূর যেতে পারবে।

প্রায় এক দশক ধরে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন স্টিভ জবস।

স্টিভ জবস তার দূরদৃষ্টি ও দৃষ্টিভঙ্গির জন্য বিখ্যাত ছিলেন। অ্যাপল এর সাবেক কিছু কর্মচারীদের মতে, প্রাক্তন এই প্রধান কর্মকর্তার মৃত্যুর পর অ্যাপল এর আভ্যন্তরীণ অফিস সংস্কৃতি অনেকটাই বদলে গেছে।

সাবেক অ্যাপল কর্মচারীদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোম্পানিটি খুব কাছ থেকে তার অনুপস্থিতি অনুধাবন করতে পারছে।

স্টিভ জবসের অধীনে অ্যাপল মূল ম্যাক, প্রথম ভর-উৎপাদিত কম্পিউটার মাউস, আইপড, আইফোন এবং আইপ্যাডের মতো ল্যান্ডব্রেকিং পণ্যগুলো বাজারে এসেছিল এবং শতভাগ ভোক্তা সন্তুষ্টি অর্জন করেছিল।

স্টিভ জবস জীবিত থাকাকালেই শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ান। সেই সময়েই সিওও থেকে সিইও পদে উন্নীত হন টিম বুক।

কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানিটির দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই, তার অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের কারণে টিম কুক অ্যাপলে তার নতুন উদ্ভাবনী চিন্তা ধারা হারিয়ে ফেলে। ২০১১ সালের মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ দুটোই দেখে ফেলেন তিনি। তার সময়েই অ্যাপল শেয়ারের দাম হয় ৭০২.১ ডলার, যা এখন পর্যন্ত অ্যাপলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এরপর থেকে অবশ্য অ্যাপলের শেয়ারের মূল্য পতন হতে শুরু করে। তবে বর্তমানে খুব ভালোই চলছে অ্যাপল।

আর্থিক ক্ষেত্রে অ্যাপল তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন শুরু করে ২০১৫ সাল থেকে। ২০১৫ অর্থবছরের কোম্পানিটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ২৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং তাদের মোট আয় দাঁড়ায় ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। উভয় পরিসংখ্যানই স্টিভ জবস চাকরির ছাড়ার পর থেকে ২০১১ সালের অক্টোবরে অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের কারণে মৃত্যু হওয়ার আগ পর্যন্ত চূড়ান্ত নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা এবং আয়ের দ্বিগুণ। বর্তমানে অ্যাপল কোম্পানিটির বাজার মূল্য ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যদিও তা ২০১৫ সালের বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম, কিন্তু ২০১১ সাল এর তুলনায় তা দ্বিগুণেরও বেশি এবং বর্তমানে এটি বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কর্পোরেশন হিসেবে অধিষ্ঠিত।

এছাড়াও অ্যাপল এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত তাদের ডব্লিউডব্লিউডিসি অনুষ্ঠানে ভোক্তাদের জন্য বেশ কিছু চমকপ্রদ পণ্য নিয়ে আসে।

অ্যাপল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্ট্রিমিং মিউজিক এবং মোবাইল পেমেন্ট এর মতো নতুন সেবাগুলোতে নিজেদের ব্যবসাকে প্রসারিত করেছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এবং অটো ড্রাইভিং টেকনোলজি নিয়েও কাজ করতে যাচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত এর রাজস্ব এবং মুনাফার বড় অংশ আসে আইফোন থেকে।

স্টিভ জবসের হাত থেকে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে টিম কুক কোম্পানিটির গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে ব্যয়ও দ্বিগুণ করেছেন। তাই সার্বিক বিবেচনায় এ কথা বলাই যায় যে, টিম কুক এখনো পর্যন্ত অ্যাপলকে সঠিক ট্র্যাকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। যদিও এ কথা বলার এখনই উপযুক্ত সময় নয়, কারণ স্টিভ জবসের ছায়া থেকে অ্যাপলকে বের করে নিয়ে আসতে তাকে আরো অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে, পাড়ি দিতে হবে অনেক বন্ধুর পথ।

তথ্যসূত্র:  ইন্ডাস্ট্রিউইক ডটকম




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ অক্টোবর ২০১৭/ফিরোজ