ঢাকা, শনিবার, ২০ আষাঢ় ১৪২৭, ০৪ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

নও মুসলিম আব্দুল্লাহও জড়ান জঙ্গিবাদে

মামুন খান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-০৯ ১২:৩৬:৫৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-১০ ১:৩৪:২০ পিএম

দুই বছর আগে রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে অবস্থান নিয়ে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচিতে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজু আহম্মেদ সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গত ২৪ নভেম্বর ঢাকা সিএমএম আদালতে চার্জশিট জমা দেন।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- আকরাম হোসেন খান নিলয় ওরফে স্লেড উইলসন, নাজমুল হাসান ওরফে মামুন, আবুল কাশেম ফকির ওরফে আবু মুসাব, আব্দুল্লাহ আইচান কবিরাজ ওরফে রফিক , তারেক মোহাম্মদ ওরফে আদনান, কামরুল ইসলাম শাকিল ওরফে হারিকেন ওরফে রোবট ওরফে তানজিম, লুলু সরদার ওরফে সহিদ ওরফে মিস্ত্রি, তাজরীন খানম শুভ, সাদিয়া হোসনা লাকী , আবু তুরাব খান , তানভির ইয়াসিন করিম  ওরফে হিটম্যান ওরফে জিন, হুমায়রা জাকির নাবিলা, নব মুসলিম আব্দুল্লাহ  ও তাজুল ইসলাম ওরফে ছোটন ওরফে মোহাম্মদ ওরফে ফাহিম।

গ্রেপ্তার অভিযানের সময় আত্মঘাতী হয়ে মারা যাওয়া সাইফুল ইসলামকে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

চার্জশিটভূক্ত ১৪ আসামির মধ্যে রযেছেন নও মুসলিম আব্দুল্লাহ। তিনি মুসলিম মেয়েকে প্রেম করে বিয়ে করেন। পরে তিনি সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলামের অপব্যাখ্যায় আসক্ত হয়ে জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন। এ মামলার চার্জশিটে তদন্ত কর্মকর্তা এমনটাই উল্লেখ করেন।

চার্জশিটে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, নও মুসলিম আব্দুল্লাহ পূর্বে সনাতন ধর্মের অনুসারী ছিলেন। তার নাম ছিল রনবীর কান্তি দাশ। পিতা কক্সবাজার সদর থানার ঈদগাহ্ ভোমরিয়াঘোনা চৌধুরীপাড়ার রনজিত কান্তি দাশ কৃষি কাজ করেন। আব্দুল্লাহ ঈদগাহ্ আদর্শ শিক্ষা নিকেতন থেকে ২০০১ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাশ করে।

তারপর ঈদগাহ্ ফরিদ আহম্মেদ কলেজ ২০০৩ সালে একই বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করে। পরে তিনি মিরপুর-১০ নম্বর ডেন্টাল ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট এ ভর্তি হয় এবং ২০০৭ সালে ডিপ্লোমা পাশ করে। ২০১২ সালে প্রেম করে কক্সবাজার সদরের হালিমা পারভীনকে বিয়ে করে। তখন সে সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এবং তার নাম রনবীর কান্তি দাশ থেকে পরিবর্তন করে আব্দুল্লাহ নাম রাখেন।

চার্জশিট থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে আগষ্ট মাসে সে টেকনাফে একটি দোকান ভাড়া করে বিসমিল্লাহ ডেন্টাল কেয়ার নামে দাঁতের চিকিৎসার চেম্বার খুলে। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে রোজার ঈদের পরে তারেক মোহাম্মদ আদনান নামে একটা ছেলে তার বিসমিল্লাহ ডেন্টাল কেয়ারে চাকরির জন্য যায়। জেনে বুঝে তিনি তাকে কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেয়। তারেক মোহাম্মদ আদনান তাকে নব্য জামায়াতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) কথিত নব্য জেএমবিতে যোগদান করায়। জামায়াতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) কথিত নব্য জেএমবি সংগঠনের সদস্য কামরুল ইসলাম শাকিল, নাজমুল হাসান মামুন, তারেক মোহাম্মদ আদনান ও অন্য নব্য জেএমবি সদস্যদের আব্দুল্লাহ তার বাসায় আশ্রয় দেয়।

এই তিন জনের আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামি নব্য মুসলিম আব্দুল্লাহ এর অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়। আব্দুল্লাহ ২০১৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে মামলার ঘটনার সাথে নিজেকে জড়িয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

সেদিন আত্মঘাতী হওয়ার আগে দিবাগত রাত ৩টা ৩১ মিনিটে নব্য জেএমবির একাংশের আমির আকরাম হোসেন খান নিলয়কে মুঠোফোনে খুদে বার্তা দিয়ে জঙ্গি সাইফুল জানান, ‘পুলিশ রেড পড়েছে। বাইরে থেকে পুলিশ আমার ডোর (দরজা) লক (বন্ধ) করে দিয়ে গেছে। আমি বোমা নিয়ে বসে আছি। আমি ধরা দিতে চাই না।’

ভোররাত ৪টা ৪ মিনিটে আকরাম হোসেন ফিরতি খুদে বার্তা দিয়ে সাইফুলকে জানান, ‘দেবেন না। সুইচ থেকে স্কচটেপ আর পিন খুলে রেডি হয়ে থাকেন। বের হতে পারলে কাফিরদের মাঝে ফাটিয়ে দেবেন। আর সুইচের পিন খুলেছেন তো?’

জবাবে সাইফুল খুদে বার্তা দিয়ে আকরামকে বলেন, ‘জি, সুইচ দুইটা একসঙ্গে টিপ দেব।’

এরপর সকালে নব্য জেএমবির জঙ্গি সাইফুল ইসলাম আত্মঘাতী হন ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট। সেদিন তিনি অবস্থান করছিলেন পান্থপথে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালের চতুর্থ তলার ৩০১ নম্বর কক্ষে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান চলার মধ্যেই ৩০০ মিটার দূরে পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে অভিযান চালান কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সোয়াট সদস্যরা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা ওই অভিযানের এক পর্যায়ে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল থেকে বিকট বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ পাওয়া যায়। বিস্ফোরণে হোটেলের চতুর্থ তলার রাস্তার দিকের অংশের দেয়াল ও গ্রিল ধসে নিচে পড়ে।

হামলার পরিকল্পনা ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ওই সময় কলাবাগান থানায় ১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন কলাবাগান থানার এসআই সৈয়দ ইমরুল সায়েদ।

 

ঢাকা/মামুন খান/জেনিস