ঢাকা, সোমবার, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

হোসেনপুর উপজেলা উপনির্বাচনে বেকায়দায় আ.লীগ

রুমন চক্রবর্তী : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-০৫ ১২:৩৭:২০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-০৫ ১২:৩৭:৫৫ পিএম

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : আগামীকাল সোমবার কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পদটি শূন্য হওয়ার তিন মাসের (৯০দিন) মধ্যে এ নির্বাচনটি হওয়ার কথা থাকলেও, হচ্ছে ১৫মাস পর ।

২০১৪ সালের ১৫মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে জিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আয়ুব আলী চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। ২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করায় পদটি শূন্য হয়। এতদিন উপজেলা পরিষদের কাজকর্ম চলেছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিয়ে ।

দেরিতে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও, এখন সবাই নির্বাচনমুখী। এরই মধ্যে জমে গেছে উপনির্বাচন। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে উপজেলার হাটবাজার ও গ্রাম। বিভিন্নস্থানে স্থাপন করা হয়েছে নির্বাচনী কার্যালয়। দিন রাত চলছে প্রার্থী ও সমর্থকদের দৌড়ঝাঁপ। প্রার্থীরা চষে বেড়াচ্ছেন হাটবাজার, পাড়া-মহল্লা। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত উপজেলায় প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায়, প্রার্থীদের জনসংযোগে স্থানীয় ইস্যুর সঙ্গে স্থান পাচ্ছে জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুও।

গত নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যানপ্রার্থী । কিন্তু উপনির্বাচনে এসে অস্বস্তিতে আছেন সরকার দলীয় প্রার্থী। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়িয়েছেন প্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যান আয়ুব আলীর ছেলে মোহাম্মদ সোহেল, তার প্রতীক আনারস। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জহিরুল ইসলাম নূরু মিয়ার (নৌকা) সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন। অন্যদিকে একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল ইসলাম মবিন (ধানের শীষ)। তিনি গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে নির্বাচন করে হেরেছিলেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আয়ুব আলী যতদিন বেঁচে ছিলেন অসুস্থতার কারণে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে পারেননি। তাই ওই প্রভাবশালী নেতার পরিবারের প্রতি সাধারণ মানুষের একটা দুর্বলতা রয়েছে। দল মনোনয়ন না দিলেও বাবার জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন মোহাম্মদ সোহেল।
এলাকা ঘুরে জানা গেছে, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সোহেল আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে যথেষ্ট বেকাদায় ফেলেছে। কেউ কেউ বলছেন, উপনির্বাচনে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও স্বতন্ত্রপ্রার্থীর মধ্যে।

সাহেদল গ্রামের আব্দুল মালেক ভূঁইয়া জানান, প্রতীক নয়, বরং সৎ ও যোগ্যপ্রার্থীকে ভোট দেবেন তারা। যাকে বিপদ আপদে কাছে পাওয়া যায়, একজন সাধারণ ভোটার হিসেবে সেই ধরণের প্রার্থীর সন্ধান করছেন তিনি।
 

নির্বাচনী প্রচারণায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ সোহেল


হোসেনপুর বাজারের ব্যবসায়ী মশিউর রহমান জানান, আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচন ভালো হয়নি। তাই ভোটের লড়াইয়ে দলটি পিছিয়ে আছে। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মাহবুবুল হক বলেন, শুরুতে দলে যে দ্বিধা-বিভক্তি ছিল, তা আর নেই। পুরো আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে একাট্টা হয়ে কাজ করছে। 

স্বতন্ত্রপ্রার্থী মোহাম্মদ সোহেল উপনির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী জানিয়ে বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে আমার প্রয়াত বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো গ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করব। তাছাড়া উন্নয়নের পাশাপাশি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাসহ মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত হোসেনপুর গড়ার ব্যাপারে কাজ করে যাব।’

আওয়ামী লীগ প্রার্থী জহিরুল ইসলাম নূরু মিয়া দলে কোনো বিভাজন নেই দাবি করে বলেন, ‘স্বতন্ত্রপ্রার্থী তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ ওই প্রার্থী প্রয়াত চেয়ারম্যানের ছেলে হলেও তিনি দলের কেউ নন। যদি তিনি আওয়ামী লীগের অনুসারী হতেন, তাহলে দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতেন। বাবার বন্ধুর বিরুদ্ধে প্রার্থী হতেন না।’

তিনি বলেন, ‘জয়ী হলে দল-মতের উর্ধ্বে উঠে আমি হোসেনপুরকে একটি জনবান্ধব মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব।’

তবে বিএনপি প্রার্থী জহিরুল ইসলাম মবিন বলেন, ‘গত উপজেলা নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করে আমাকে হারানো হয়েছিল। তবে এ উপনির্বাচন নতুন নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আশা করি এ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে, এলাকায় শিল্প-কারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের দিকে মনোযোগী হব বেশি।’

রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার মো. আক্তার জামীল জানান,  উপনির্বাচনে এবার ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৬৯জন ভোটার ভোট দেবেন।



রাইজিংবিডি/কিশোরগঞ্জ/৫ মার্চ ২০১৭/রুমন চক্রবর্তী/টিপু

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন