ঢাকা, রবিবার, ২ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ আগস্ট ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

২২ খাল ৮১ প্রভাবশালীর দখলে

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০২-১২ ৩:০১:৫৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০২-১২ ৩:০৮:০৬ পিএম
২২ খাল ৮১ প্রভাবশালীর দখলে
Walton E-plaza

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা: খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ২২টি খাল এখন ৮১ প্রভাবশালীর দখলে। এসব খালের অধিকাংশই এখন ড্রেনে পরিণত হয়েছে।

ফলে বর্ষা মৌসুমে নগরীর একটি বড় অংশে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অন্তত চারটি মাস দুর্ভোগ পোহাতে হয় দুই লাখের বেশি নগরবাসীকে।

সিটি কর্পোরেশনের রেকর্ড অনুযায়ী, নগরীর খালগুলোর মালিক জেলা প্রশাসন। সিটি কর্পোরেশন এগুলো তদারকি করে মাত্র।

খুলনা নগরীর উল্লেখযোগ্য খালগুলো হচ্ছে, নিরালা, ময়ূর, মান্দার, ক্ষেত্রখালী, মতিয়াখালী, লবনচরা, তালতলা, মিস্ত্রিপাড়া, নবীনগর, ছড়িছরা, লবনচরাগড়া, সবুজবাগ, মিয়াপাড়া পাইপের মোড়, বাস টার্মিনালের পশ্চিম পাশে, বাস্তহারা, বাটকেমারি, সাহেবখালী, নারকেলবাড়িয়া, সুড়িমারি, ডুবি, হাতিয়া, মাথাভাঙ্গা, মাস্টারপাড়া, হরিণটানা, খুদে, মজুমদার, চকমথুরাবাদ, নবপল্লী, ছোট বয়রা, শ্মশান ঘাট, রায়ের মহল মোল্লা পাড়া, বিল পাবলা ইত্যাদি।

এলাকাবাসীর সূত্র জানান, বাস্তহারা খাল স্লুইজগেট খাল, গল্লামারি নর্থ খাল ও কাস্টম ঘাট খালের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। লবনচরা খালের এক অংশ ভরাট করে ওয়ার্ড অফিস ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। রূপসায় সাহেবখালী খালের ওপর সিটি কর্পোরেশন মার্কেট নির্মাণ ও কলেজিয়েট স্কুল খালের একটি অংশ দখল করেছে। পিটিআই মোড়ে খালের মুখ বন্ধ করে ওয়ার্ড অফিস নির্মাণ, ২৮ নং ওয়ার্ডের শেষ সীমানায় খালের ওপর নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। রেলওয়ে মার্কেট এলাকায় প্রবাহিত খালটির ওপর হলুদ-মরিচের আড়ত গড়ে উঠেছে। সাবেক মেয়র শেখ তৈয়বুর রহমানের বাসভবনের পেছনের খালটি একজন সাবেক ডেপুটি মেয়র প্রভাব খাটিয়ে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছে। বয়রা শ্মশান ঘাট খালের মুখ বন্ধ করে গড়ে উঠেছে ইসলামিয়া কলেজ। নগর ভবনের পেছনে ড্রেনের ওপর একজন আইনজীবী গ্যারেজ নির্মাণ করেছে।

সিটি কর্পোরেশনের ২০০৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির এক প্রতিবেদনে নগরীর খাল গুলো দখলের জন্য ৮১ ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। এসব ব্যক্তির মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক মোঃ সিরাজুল ইসলাম, তেতুল তলার মোঃ আলী আহমেদ, সাবেক খাদ্য কর্মকর্তা নিরালার মোঃ আবেদ আলী, বাগমারার মোঃ খলিলুর রহমান, আব্দুল মান্নান, খোলা বাড়িয়ার মোঃ শহিদুল ফকির, সাহেব আলী শেখ, বাদল, চপল, হেকমত গাজী, জব্বার হোসেন, নিরালার আফতাব আলী, হাজী বাড়ির মনিরুজ্জামান এলু, এরশাদুজ্জামান ডলার, সাগর, মিসেস আজিজ, আবুল হোসেন শেখ, হরিণটানার মোঃ আলমগীর, হাজী ইমান আলী, আলকাতরা মিল এলাকার আলেয়া খাতুন, নিরালা এলাকার আবুল কালাম আজাদ, নিরালা এলাকার পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মনিরুজ্জামান, তালুকদার আব্দুল জলিল, মোঃ ইউসুব আলী, মোঃ নুর, অবসর প্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মোঃ শাজাহান, সৈয়দপুর ট্রাস্টের লিজ হোল্ডার সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ারুল কাদির খোকন ও মাথাভাঙ্গার ক্লীপ অধিকারী। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, গোলাবাড়ি সমিতি, ৩১ নং ওয়ার্ড অফিস, যুব উন্নয়ন অধিদফতর, মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স, হার্ড টু রিচ প্রকল্প ইত্যাদি।

বিশ্ব বিদ্যালয়ের অদূরে নিরালা খালের ওপর নির্মিত তিনতলা ভবনের মালিক পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘খালের জমি দখল করে আমি বাড়ি করিনি। বরং কেনা সম্পত্তি থেকে দু’ শতক জমি কম পাচ্ছি।’

আশরাফুল উলুম মহিলা জামাত উন্নয়ন সংস্থার প্রোপাইটার আশরাফ আলী বলেন, ‘খাল দখল করে স্থাপনা করিনি। এই স্থাপনা স্থলে খাল ছিল না।’

আল-আমিন মহল্লার খালের ওপর ২৫ ফুট দখল করে কাঁচা ঘর নির্মাণ ও কলা গাছ রোপণ করেছেন অবসর প্রাপ্ত বন কর্মচারী মোঃ শাজাহান মিয়া। তিনি বলেন, ‘খালের চিহ্ন রেখে মাটি ভরাট করে তবে ঘর তুলেছি।’

কেসিসির মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক সংবাদিকদের বলেন, ‘নগরীর সিংহভাগ মানুষকে জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সরকারের বিভিন্ন দফতরে সমন্বয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। দখলদাররা যত বেশি প্রভাবশালী হোক না কেন, এবিষয় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। খালের উপর থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে।’

কেসিসির সূত্র জানায়, অবৈধ দখলদারদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। নগরীর ময়ূর নদী’র পাড়ে ইতিমধ্যেই একাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাকিগুলোও উচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া শিল্প শহর খালিশপুর এলাকায় অবৈধ দখলদারদের এক মাসের সময় দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০০৯ সালের জুলাই মাসে ২২ খাল থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হয়। উচ্ছেদ কমিটির আহবায়ক ও কাউন্সিলর শহীদ ইকবাল বিথার দুর্বৃত্তের হাতে নিহত হওয়ার পর খাল উচ্ছেদ প্রক্রিয়া থেকে যায়।

ময়ূর নদী বাঁচাও কমিটির সদস্য সচিব ও স্থানীয় রাজনীতিক মোঃ খালিদ হোসেন বলেন, ‘সুষ্ঠু পানি নিষ্কাশন ছাড়া জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে পরিবেশ বিপর্যায়ের মুখে পড়বে।

বাস্তহারা কলোনির বাসিন্দা মোঃ ইউনুস আহমেদ খাঁ জানান, বর্ষার চার মাস বাস্তহারার ৯ হাজার অধিবাসী হাঁটু পানির মধ্যে বসবাস করে। কোন জনপ্রতিনিধি পানি নিষ্কাশন সহজ করার জন্য বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেয়নি।

 

 

 

 

রাইজিংবিডি/খুলনা/১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/মুহাম্মদ নূরুজ্জামান/টিপু

Walton AC
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       

Walton AC
Marcel Fridge