ঢাকা, শনিবার, ১০ মাঘ ১৪২৬, ২৫ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

৪৫ হাজার টন মোগ্যাস আমদানি করবে বিপিসি

কেএমএ হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-১৩ ৯:০২:৪৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-১৪ ৮:১৮:৩৭ এএম

চলতি বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে অতিরিক্ত চাহিদা পূরণের জন্য ৪৫ হাজার টন মোগ্যাস (অকটেন ৯৫ আরওএন) আমদানির প্রয়োজন হবে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

দেশে পেট্রোলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মোগ্যাস আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

সূত্র জানায়, বিপিসি দেশের চাহিদা পূরণের জন্য বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে ও আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে আসছে।  ২০১৯ পঞ্জিকাবর্ষে দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে মোট চাহিদার ৫০ শতাংশ জি-টু-জি প্রক্রিয়ায় নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করে তেল আমদানি চলমান রয়েছে।

২০১৯ সালের জন্য ৪টি পার্সেলে মোট ৬০ হাজার টন মোগ্যাস আমদানির জন্য অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন নেয়া হয়।  কিন্তু উক্ত অনুমোদিত পরিমাণ আমদানি, স্থানীয় সরবরাহ গ্রহণ এবং ১০ শতাংশ অতিরিক্ত আমদানির পরও এ বছরের অবশিষ্ট সময়ের চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়নি। জরুরি প্রয়োজনে ইতিমধ্যে জি-টু-জি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইন্দোনেশিয়ার পিটি.বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন (বিএসপি) এর কাছ থেকে অনুমোদিত প্রিমিয়ার ও রেফারেন্স প্রাইস অনুসারে ১৫ হাজার টন মোগ্যাস আমদানি করা হয়েছে।

বিপিসি কর্তৃক মোগ্যাস আমদানি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে ৩০ হাজার টন মোগ্যাস আমদানির অনুমোদন রয়েছে। এর মধ্যে জি-টু-জি ভিত্তিতে ১৫ হাজার টন এবং টেন্ডারের মাধ্যমে ১৫ হাজার টন।  জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্যও জি-টু-জি ভিত্তিতে ১৫ হাজার টন এবং টেন্ডারের মাধ্যমে ১৫ হাজার টন আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়।  তবে জানুয়ারি-জুন সময়ে জি-টু-জি ভিত্তিতে ১৬ হাজার ৪০৬ টন এবং টেন্ডারের মাধ্যমে ১৮ হাজার ৯২ টন অর্থাৎ মোট ৩৪ হাজার ৪৯৮ টন আমদানি করা হয়।  অন্যদিকে জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য জি-টু-জি ভিত্তিতে একটি অতিরিক্ত পার্সেলের মাধ্যমে ৩১ হাজার ৮৩৫ টন এবং টেন্ডারের মাধ্যমে ১৬ হাজার ৪২৯ টন মোগ্যাস আমদানি করা হয়।  মোট ৪৮ হাজার ২৬৪ টন মোগ্যাস আমদানি করা হয়।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারি-ডিসেম্বর সময়ের জন্য জি-টু-জি ভিত্তিতে ৩০ হাজার টন এবং টেন্ডারের মাধ্যমে ৩০ হাজার টন অর্থাৎ মোট ৬০ হাজার টন মোগ্যাস আমদানির অনুমোদন ছিল।  কিন্তু অতিরিক্ত চাহিদা বাড়ায় জি-টু-জি ভিত্তিতে ৩০ হাজার টনের জায়গায় ৪৮ হাজার ২৪১ টন এবং টেন্ডারের মাধ্যমে ৩৪ হাজার ৫২১ টন মোগ্যাস আমদানি করা হয়।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত মোগ্যাস আমদানির কারণ হচ্ছে স্থানীয়ভাবে পেট্রোলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানিকৃত মোগ্যাস এবং ইআরএল এর ন্যাফথা ব্রেন্ডিং করে পেট্রোল তৈরি করে দেশের চাহিদা মেটানো হয়েছে।  এর ফলে অনুমোদিত আমদানিকৃত ২৪ হাজার ৪৬১ টন মোগ্যাস পেট্রোল তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে কোন পেট্রোল আমদানি করা হয় না। তাছাড়া, জুলাই মাস থেকে দেশে সিএনজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অকটেনের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সূত্র জানায়, গত ৩০ অক্টোবর বিপিসির পরিচালকমণ্ডলীর ৯২৫ তম বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা হয়। পর্ষদ বৈঠকে ইতিমধ্যে আমদানিকৃত ১৫ হাজার টনসহ নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়ের জন্য আরো ৩০ হাজার টন সর্বমোট অতিরিক্ত ৪৫ হাজার টন জি-টু-জি ভিত্তিতে আমদানির বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। বিপিসির বাজেট বরাদ্দ তথা জ্বালানি তেল বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে প্রস্তাবিত জ্বালনি তেল আমদানির অর্থায়ন করা হবে বলে জ্বালনি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।


ঢাকা/হাসনাত/সাইফ