ঢাকা, বুধবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৭ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের অধিকার আদায়ের দর্শন’

আসাদ আল মাহমুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-০৭ ৯:০৮:৩১ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-০৭ ৯:৫৭:২১ পিএম

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণকে সারাবিশ্বের অধিকার আদায়ের দর্শন হিসেবে মনে করেন ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া।

দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডিকে বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ভাষণ দিয়েছিলেন, সেটি পৃথিবীর ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ ভাষণ।

তিনি বলেন, `১৯৭১ সালের ৭ মার্চ জাতির ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল দিন। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১২০৮টি শব্দ এবং ১৯ মিনিটের বক্তব্য দিয়েছেন। কী সুন্দর বিচক্ষণ বক্তব্য! এ ভাষণ যতবার উচ্চারিত হয়েছে, পৃথিবীর কোনো ভাষণ এতবার উচ্চারিত হয়নি। বঙ্গবন্ধু তার ভাষণের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছিলেন।‘

ডেপুটি স্পিকার বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণের আবেদন যুব সমাজের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছিল। ৭ মার্চের ভাষণের সময় বঙ্গবন্ধুর কাছে কোনো লিখিত বা পয়েন্ট ছিল না। তিনি অলিখিত এই কালজয়ী ভাষণ দিয়েছেন।‘

তিনি আরো বলেন, ভাষণটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার মধ্য দিয়ে এটাই প্রমাণ হয়েছে যে, এটি শুধু একটি ভাষণই না, এটি বাঙালি জাতিসহ সারা বিশ্বের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের দর্শন। বিশ্বের সব নিপীড়িত মানুষের অবলম্বন এবং অনুপ্রেরণা। অথচ ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা বঙ্গবন্ধুর নাম নিশানা মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা ৭ মার্চের ভাষণকে নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু ইউনেস্কোর স্বীকৃতির মাধ্যমে এটাই আজ প্রমাণ হয়েছে, ইতিহাস সত্যকে তুলে ধরে।

তিনি বলেন, ‘ঐতিহাসিক এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু একদিকে যেমন বাঙালি জাতির শোষণ-বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে অসহযোগ আন্দোলন এবং দেশকে শত্রুমুক্ত করতে কী কী করতে হবে, সে নির্দেশনাও দিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু জানতেন, পাকিস্তানের শাসকরা তাকে হয়তো আর কথা বলতে নাও দিতে পারে। সেজন্যই বলেছিলেন, “আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমাদের যার যা কিছু আছে, তাই দিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করো।” বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে।’

ডেপুটি স্পিকার বলেন, পৃথিবীর এমন কোনো দেশ নেই যে, সে দেশে একটি ভাষণ ৪৬ বছর ধরেই মানুষ শুনে যাচ্ছেন। যা এখনও এতটুকু পুরনো হয়নি, আবেদন হারায়নি। বরং মানুষ এই ভাষণ শুনে নতুন করে অনুপ্রেরণা পাচ্ছে। সারা দেশে এখনও সমান মহিমা নিয়ে ভাষণটি বেজে চলেছে। কত হাজার বার বেজেছে, সেই হিসাব করাও কঠিন। আড়াই হাজার বছর ধরে যে ভাষণগুলো জাতিকে উজ্জীবিত করেছে, পৃথিবীর তেমন ১০০টি ভাষণের মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্থান পেয়েছে।’

ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী এই ভাষণটিই ইউনেস্কোর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্থান পেয়েছে।

তিনি বলেন, ভাষণটি আজ ১২ ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। বাঙালি জাতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।




ঢাকা/আসাদ/সাজেদ