ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, ০৯ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

মুশফিকের আবাহনী অভিষেকে সেঞ্চুরি, দলও পেল জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-১৫ ৪:৫৪:২৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-১৫ ৬:১৮:২৭ পিএম

নিজের সেঞ্চুরি, দলের জয়, সবশেষে ম্যাচসেরার পুরস্কার; আবাহনী লিমিটেডের হয়ে অভিষেকে মুশফিকুর রহিমের প্রাপ্তির খাতা টইটুম্বুর।

বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শুরুটা দুর্দান্তই হল জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটারের। রোববার লিগের প্রথম রাউন্ডে আবাহনী লিমিটেড ৮১ রানে হারিয়েছে পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবকে।

মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করে আবাহনী ৭ উইকেটে ২৮৯ রান তোলে। জবাবে পারটেক্স সবকটি উইকেট হারিয়ে ২০৮ রানের বেশি করতে পারেনি।

লম্বা ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো মুশফিক সুযোগ পেয়েছেন ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী লিমিটেডে খেলার। প্রথম ম্যাচে খেলতে নেমে দিয়েছেন বড় পরীক্ষা। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অধিনায়ক মুশফিক। কিন্তু ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই তাকে নামতে হয় ২২ গজে।

দুই ওপেনার লিটন ও নাঈম খুলতে পারেননি রানের চাকা। তিনে নামা শান্তও পারেননি দলকে টেনে তুলতে। ২৭ রানে নেই ৩ উইকেট। ৬৭ রান পর্যন্ত যেতে নেই আরও দুটি। দলকে ডুবিয়ে মাঠ ছাড়েন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব (১৪) ও আফিফ হোসেন (৩) ।

সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে মুশফিক দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু রান তুলতে পারছিলেন না। প্রথম রান পেতে অপেক্ষা করেন ২৪ বল। প্রথম বাউন্ডারি হাঁকান ৫২তম বলে। উইকেটে থিতু হতে সময় নিয়েছিলেন। কিন্তু কঠিন সময় পার করার পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

ধ্বংসস্তুপ থেকে দলকে টেনে তুলে ৭৫ বলে স্পর্শ করেন ফিফটি। সেঞ্চুরির পথে বাকি পঞ্চাশ করেন ৩৬ বলে। স্কুপ, রিভার্স সুইপ, সুইপ প্রত্যেকটি শট খেলেছেন দারুণ দক্ষতায়। পেসারদের বলে ড্রাইভ, কাভার ড্রাইভসহ উইকেটের সামনে শট খেলেছেন সিদ্ধহস্তে।

মুশফিককে ষষ্ঠ উইকেটে সঙ্গ দেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ১৬০ রানের জুটি গড়েন দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। দীর্ঘদিন পর মাঠে নেমে মোসাদ্দেক তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি।

পেসার রনি হোসেনের বল কাভার ড্রাইভে চার বানিয়ে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের দ্বাদশ সেঞ্চুরি পান মুশফিক। এরপর তুলে নেন আরও ২৭ রান। আবাহনীর অভিষেক ম্যাচে মুশফিকের ইনিংস থামে ১২৭ রানে। ১২৪ বলে ১১ চার ও ৪ ছক্কায় সাজান নিজের ইনিংস। আর মোসাদ্দেক ৭৪ বলে খেলেছেন ৬১ রানের ঝকঝকে ইনিংস। ধানমন্ডি পাড়ার দলটির হয়ে শেষটা রাঙিছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১৫ বলে ৫ ছক্কায় ৩৯ রান করেন সাইফউদ্দিন। তাইজুলের ব্যাট হতে ১৪ বলে আসে ১৭ রান।

জয়নাল ইসলাম ২৮ রানে নেন ৩ উইকেট। তাসামুল হক ২৯ রানে শিকার করেন ২ উইকেট।

লক্ষ্য তাড়ায় ৬৭ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায় পারটেক্স। হাসানুজ্জামান (৮) ও মুসা আলভি (৪) শুরুতেই ফেরেন সাজঘরে। তিনে নামা সায়েম আলম শুরুটা দারুণ করেছিলেন। মেহেদী হাসান রানাকে লেগ সাইডে ফ্লিক করে ছক্কা হাঁকান। একই ওভারে আরও দুটি চার হাঁকান সায়েম। পেসারদের বেশ সাবলীলভাবে সামলালেও স্পিনার আসার পরই পথ হারান বাঁহাতি। মোসাদ্দেকের ভেতরে ঢোকানো বলে এলবিডব্লিউ হন ২৪ রানে। প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি মঈন খানও (৫) । 

পঞ্চম উইকেটে দলের হাল ধরেন তাসামুল ও ধীমান। কিন্তু তাদের ব্যাটিংয়ে ছিল না ধার। জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের। কিন্তু তাদের মন্থর ব্যাটিংয়ে বাড়তে থাকে রান রেট।

লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে স্লগ করতে গিয়ে ৪৩ রানে এলবিডব্লিউ হন পারটেক্সের অধিনায়ক তাসামুল। ধীমান বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৫৬ বলে করেন মাত্র ৩৬ রান। প্রথম বিভাগ থেকে উঠে আসা পারটেক্সের হয়ে শেষ দিকে লড়াই করেন নাজমুল হোসেন মিলন। তার ৫৩ রানের ইনিংসে পরাজয়ের ব্যবধান কমে মাত্র। ৬৩ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় মিলন সাজান নিজের ইনিংসটি।

আবাহনীর হয়ে বল হাতে মেহেদী হাসান রানা নেন ৪ উইকেট। তাইজুল ৩০ রানে পেয়েছেন ২ উইকেট। এছাড়া সাইফউদ্দীন, মোসাদ্দেক, সানী ও বিপ্লব পেয়েছেন ১টি করে উইকেট।

ঢাকা লিগের হ্যাটট্রিক শিরোপার প্রত্যাশায় রয়েছে আবাহনী। মুশফিকের হাত ধরে শুরুটা দুর্দান্ত হলো। এবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।

 

ঢাকা/ইয়াসিন/কামরুল